যে সব শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাদার তাদেরকে গ্র্যানিউলোসাইট বলে। দানাগুলো লিইশম্যান রঞ্জকে রঞ্জিত হয়। এর নিউক্লিয়াস ২-৭ খন্ডবিশিষ্ট। শ্বেত রক্তকণিকার ৭২% হলো গ্র্যানুলোসাইট। এদের আয়ুষ্কাল ৪-৮ ঘন্টা। এরা অস্থিমজ্জার মায়েলোব্লাস্ট কোষ থেকে উৎপন্ন হয়। রঞ্জক ধারণ ক্ষমতা ও নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে এদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১। নিউট্রোফিল (Neutrophil)
নিউট্রোফিলের সাইটোপ্লাজম বর্ণ নিরপেক্ষ এবং দানাযুক্ত। এরা গোলাকার এবং নিউক্লিয়াস ২-৫ খন্ড বিশিষ্ট। এদের ব্যাস ১২-১৫ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ৪৯০০টি। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি যা ৭০%। আয়ুকাল ২-৫ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। এরা অ্যামিবয়েড চলন প্রদর্শন করে এবং কৌশিক জালিকার ছিদ্র দিয়ে সংক্রমণস্থলে উপস্থিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে ডায়াপেডেসিস বলে। এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
নিউট্রোফিলের কাজ
(i) এরা জীবাণু সম্পর্কে রাসায়নিক বার্তা প্রেরণ করে
(ii) লিপিড জাতীয় পদার্থ ক্ষরণ করে রক্তনালির ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে
(iii) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু গ্রাস করে
২। ইওসিনোফিল (Eosinophil)
এদের সাইটোপ্লাজম নীলাভ ও অম্লধর্মী এবং দানাগুলো ইওসিন রঞ্জকে লালচে-কমলা বর্ণ ধারণ করে। এরা গোলাকার এবং নিউক্লিয়াস ২-৩ খন্ডবিশিষ্ট। এদের ব্যাস ১২-১৭ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ১৫০-৪০০। অর্থাৎ শ্বেত রক্তকণিকার ১.৫%। আয়ুকাল ৮-১২ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। এরা পৌষ্টিকনালিতে বেশি থাকে।
ইওসিনোফিলের কাজ
(i) এরা লার্ভানাশক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে এবং কৃমির লার্ভা ধ্বংস করে
(ii) ইহা এলার্জিক অ্যান্টিবডি ধ্বংস করে।
(iii) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু গ্রাস করে
(iv) হাইড্রোলাইটিক এনজাইম ক্ষরণ করে।
(iv) Schistosoma ও Trichinella পরজীবীর মৃত্যু ঘটায়।
৩। বেসোফিল (Basophil)
এদের সাইটোপ্লাজম ক্ষারধর্মী এবং দানাগুলো রঞ্জকে নীলচে-কালো বর্ণ ধারণ করে। এরা গোলাকার, নিউক্লিয়াস বৃক্কাকার ও দুই খন্ডযুক্ত। এদের ব্যাস ১২-১৫ µm। এদের সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিলিটারে ৩৫টি। অর্থাৎ সবচেয়ে কম যা ০.৫%। আয়ুকাল ১২-১৫ দিন। ইহা লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়।
বেসোফিলের কাজ
(i) হিস্টামিন উৎপন্ন করে রক্তনালিকে প্রসারিত করে।
(ii) হেপারিন উৎপন্ন করে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে।