পাকস্থলীর গঠন ও কাজ । Stomach। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ডায়াফ্রামের নিচে এবং উদরের উপরে অবস্থিত ঔ আকৃতির বাঁকানো মাংসল থলীকে পাকস্থলী বলে। এর প্রাচীর অত্যন্ত পুরু ও পেশি বহুল। এর দৈর্ঘ্য ৩০.৫ সেমি এবং প্রস্থ প্রায় ১৫.২ সেমি। পাকস্থলী পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত। কার্ডিয়াক পাকস্থলী, ফান্ডাস, দেহ, অ্যান্ট্রাম ও পাইলোরিক পাকস্থলী।
(i) কার্ডিয়াক পাকস্থলীঃ পাকস্থলীর যে অংশে অন্ননালি উন্মুক্ত হয় তাকে কার্ডিয়াক পাকস্থলী বলে। অন্ননালি ও কার্ডিয়াক পাকস্থলীর সংযোগস্থলে কার্ডিয়াক স্ফিংক্টার নামক পেশি বলয় থাকে। পেশি বলয় খাদ্যকে অন্ননালিতে প্রবেশে বাধা দেয়।
(ii) ফান্ডাসঃ কার্ডিয়াক পাকস্থলীর কাছে বাম পাশের উত্তল অংশকে ফান্ডাস বলে।
(iii) দেহঃ ফান্ডাসের পরবর্তী পাকস্থলীর মধ্য অঞ্চলকে কর্পাস বলে। ইহা খাদ্যবস্তু ধারণ করে।
(iv) অ্যান্ট্রামঃ কর্পাস এর পরবর্তী অংশকে অ্যান্ট্রাম বলে। খাদ্য অন্ত্রে প্রবেশের আগে অ্যান্ট্রামে সাময়িক ভাবে জমা থাকে।
(v) পাইলোরিক পাকস্থলীঃ পাকস্থলীর যে অংশ ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয় তাকে পাইলোরিক পাকস্থলী বলে। ডিওডেনাম ও পাইলোলিক পাকস্থলীর সংযোগস্থলে পাইলোরিক স্ফিংক্টার নামক পেশি বলয় থাকে। পেশিবলয় খাদ্যকে ডিওডেনামে প্রবেশে সাহায্য করে।
পাকস্থলীর কাজ
(i) লালামিশ্রিত, চর্বিত ও আংশিক পরিপাককৃত খাদ্য পাকস্থলীতে ২-২৪ ঘন্টা অবস্থান করে। কার্ডিয়াক স্ফিংটার খাদ্যবস্তুর পশ্চাৎমুখী সঞ্চালন রোধ করে।
(ii) প্যারাইটাল কোষ থেকে নিঃসৃত ঐঈষ জীবাণু ধ্বংস, খনিজ লবণ দ্রবীভূত, অস্থি ক্যালসিয়াম মুক্ত এবং অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
(iii) পাকস্থলীতে ১৫-২০ সেকেন্ড পর পর পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়ায় খাদ্যের সঞ্চালন ঘটে।
(iv) খাদ্য চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে নরম পেস্টে পরিনত হয়।
(v) পরিপাক রস ও পেস্ট মিশ্রিত হয়ে পিচ্ছিল মন্ড বা কাইম গঠন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *