প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের সংজ্ঞা, পরিমাপ ওগুরুত্ব ।। Species diversity।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

দুই বা ততোধিক প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য যভ স্পেসিস ডাইভারসিটি বলে। একে আন্তঃপ্রজাতিক (interspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। প্রজাতি বৈচিত্র্যের প্রধান উপাদান দুইটি। প্রজাতি সমৃদ্ধ (species richness) এবং প্রজাতি সমতা (species evenness) প্রজাতি বস্তুতন্ত্রে যে ভূমিকা রাখে তাকে পরিবেশগত কুলুঙ্গি (ecological niche) বলে। যে অঞ্চলে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বেশি সে অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে অঞ্চলে পুষ্টি উপাদান আবহাওয়া অনুক সে অঞ্চলে প্রজাতি বৈচিত্র্য বেশি। যেমনগ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল।

 

প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপ (Measurement of species diversity

প্রজাতি বৈচিত্র্য সূচক দ্বারা প্রাণীর প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপ করা হয়। প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপের সর্বাধিক ব্যবহৃত সূচক হলো সিম্পসন ডাইভাসিটি ইনডেক্স (Simpson’s Diversity Index) একে D = ∑(n/N)2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়। n হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা, N হলো সকল প্রাণী প্রজাতির সমাহার এবং D  হলো প্রাণী বৈচিত্র্যের মান। D এর মান পর্যন্ত। কোনো স্থানে D এর মান যত বেশি হবে প্রাণী বৈচিত্র্য তত বেশি হবে। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানী নরম্যান মায়ার (Norman Myer, 1990) পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য বিশিষ্ট এলাকাকে হট স্পট নামে অভিহিত করেন।

 

প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of species diversity)

(i) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রে শক্তি আহরণ সঞ্চয়, জৈববস্তু উৎপাদন বিয়োজন এবং পানি পুষ্টি উপাদানের আবর্তন ঘটায়।

(ii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

(iii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ভূমিক্ষয়রোধ বালাই নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বায়ুমন্ডলে গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *