প্রাণীবিজ্ঞানের যে সব শাখায় প্রাণী সম্পর্কিত তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মৌলিক বা বিশুদ্ধ শাখা বলে।
১। অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (Morphology)ঃ গ্রিক শব্দ morphe অর্থ আকার এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Morphology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের আকার, আকৃতি ও গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে অঙ্গসংস্থানবিদ্যা বা মরফোলজি বলে। জীবদেহের বাহ্যিক গঠন আলোচনা করাহলে তাকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অন্তর্গঠন আলোচনা করা হলে তাকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে।
২। শারীরস্থানবিদ্যা (Anatomy)ঃ গ্রিক শব্দ ana অর্থ ওপরে এবং temno অর্থ কাটা নিয়ে Anatomy শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের অন্তর্গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে শারীরস্থানবিদ্যা বা অ্যানাটমি বলে।
৩। কোষবিদ্যা (Cytology)ঃ গ্রিক শব্দ kytos অর্থ ফাঁপা এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Cytology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় কোষের আকার, আকৃতি, গঠন, বিভাজন ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে কোষবিদ্যা বা সাইটোলজি বলে।
৪। কলাস্থানবিদ্যা (Histology)ঃ গ্রিক শব্দ histos অর্থ কলা এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Histology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বিভিন্ন ধরনের কলার আকার, আকৃতি, অবস্থান, গঠন, বিভাজন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে কোষবিদ্যা বা সাইটোলজি বলে।
৪। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology)ঃ গ্রিক শব্দ em অর্থ ভিতরে, bryo অর্থ স্ফীত এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Embryology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় ভ্রুণের গঠন ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভ্রুণবিদ্যা বা এমব্রায়োলজি বলে।
৫। অভিব্যক্তি (Evolution)ঃ ল্যাটিন শব্দ E অর্থ বাহির evolvere অর্থ আবর্তন। Evolvere নামক শব্দ থেকে Evolution শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে অভিব্যক্তি বা ইভোলুশন বলে।
৬। শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy)ঃ গ্রিক শব্দ taxis অর্থ বিন্যাস এবং nomos অর্থ আইন নিয়ে Taxonomy শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় উদ্ভিদের সনাক্তকরণ, নামকরণ ও শ্রেণীবিন্যাসকরণ নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয় তাকে শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি বলে।
৭। শারীরবিদ্যা (Physiology)ঃ গ্রিক শব্দ physis অর্থ প্রকৃতি এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Physiology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের জৈবিক কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে শারীরতত্ত্ব বা ফিজিওলজি বলে। জৈবিক কার্যাবলী হলো- পুষ্টি, বিপাক, সংবহন, রেচন, শ^সন, ক্ষরণ, জনন প্রভৃতি।
৮। বংশগতিবিদ্যা (Genetics)ঃ গ্রিক শব্দ genesis অর্থ উৎপত্তি নিয়ে Genetics শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের বংশগতি, প্রকরণ, জীববৈচিত্র্য, মিউটেশন ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স বলে।
৯। পরিবেশবিজ্ঞান (Ecology)ঃ গ্রিক শব্দ oikos অর্থ বাড়ি বা আবাস এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Ecology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে পরিবেশবিজ্ঞান বা ইকোলজি বলে। পরিবেশের উপাদান হলো- আলো, বাতাস, পানি, মাটি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, খনিজ উপাদান প্রভৃতি।
১০। প্রত্নজীববিদ্যা (Palaeontology)ঃ গ্রিক শব্দ palaios অর্থ প্রাচীন, ont অর্থ সত্তা এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Palaeontology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবাশ্মঘটিত তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে প্রত্নজীববিদ্যা বা প্যালিওন্টোলজি বলে।
১১। ভৌগোলিক জীববিদ্যা (Biogeography) ঃ গ্রিক শব্দ bio অর্থ জীব, geo অর্থ ভূ এবং graphin অর্থ লেখা নিয়ে Biogeography শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের ভৌগোলিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভৌগোলিক জীববিদ্যা বা বায়োজিওগ্রাফি বলে।
১২। রোগতত্ত্ব (Pathology)ঃ গ্রিক শব্দ pathos অর্থ ক্রেশ এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Pathology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রোগতত্ত্ব বা প্যাথোলজি বলে। প্যাথোলজিতে জীবের রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার, রোগচক্র, ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় প্রভৃতি আলোচনা করা হয়।
১৩। জিনবিদ্যা (Genimics)ঃ জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীন (Gene) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হয় তাকে জিনবিদ্যা বা জেনোমিক্স বলে।
১৪। আচরণবিদ্যা (Etholology)ঃ গ্রীক শব্দ ethos অর্থ ব্যবহার এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Ethology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের স্বভাব ও আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে আচরণবিদ্যা বলে।
১৫। অর্থকরী জীববিজ্ঞান (Economic Biology)ঃ জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে অর্থকরী জীববিজ্ঞান বা ইকোনমিক বায়োলজি বলে।