ভাইরাস হলো অতি আণুবীক্ষণিক জীবাণু। আজ পর্যন্ত এর গঠন সম্পর্কে পুর্ণাঙ্গ কোন ধারণা পাওয়া যায় নাই। রাসায়নিক ভাবে প্রতিটি ভাইরাস দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। নিউক্লিক এসিড ও ক্যাপসিড। তবে কোন কোন ভাইরাসে একটি আবরণী বা Envelop থাকে। ভাইরাসের গঠন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
১। নিউক্লিক এসিডঃ প্রতিটি ভাইরাসের কেন্দ্রস্থলে নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত একটি এসিড কোর থাকে। একে নিউক্লিওয়েড বলে। ইহা DNA অথবা RNA দ্বারা গঠিত। ভাইরাসে DNA ও RNA কখনো এক সাথে থাকে না। DNA দ্বি-সূত্রক এবং RNA এক সূত্রক হয়ে থাকে। সাধারণত প্রাণী ও ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসে DNA এবং উদ্ভিদ ভাইরাসে RNA থাকে। ইহা ভাইরাসের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং নতুন ভাইরাস সংশ্লেষণে ভূমিকা পালন করে।
২। ক্যাপসিডঃ ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে যে কোট বা আবরণী থাকে তাকে ক্যাপসিড বলে। অসংখ্য প্রোটিন অণু মিলে ক্যাপসিড গঠন করে। প্রতিটি প্রোটিন অণুকে বলা হয় ক্যাপসোমিয়ার। ক্যাপসোমিয়ার দুই ধরনের হয়। পেন্টামার ও হেক্সামার। পেন্টামার ৫টি এবং হেক্সামার ৬টি মনোমার একক গুচ্ছ দ্বারা গঠিত। প্রোটিন অণুগুলো সজ্জিত হয়ে দন্ডাকার হেলিক্স এবং গোলাকার পলিহেড্রন কাঠামো গঠন করে। ΦX-174 ভাইরাস ১২টি, হার্পিস ভাইরাস ১৬২টি এবং TMV ২১৩০-২২০০টি ক্যাপসোমিয়ার দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিডে প্রোটিন ছাড়াও স্নেহ পদার্থ ও শ্বেতসার পাওয়া যায়। ক্যাপসিডের বাইরে কন্টক বা স্পাইক থাকতে পারে। ক্যাপসিড অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। ইহা নিউক্লিক এসিডকে রক্ষা করে এবং পোষকদেহে আক্রমণে সাহায্য করে।
৩। এনভেলপঃ কোন কোন ভাইরাসে ক্যাপসিডের বাইরে একটি আবরণী থাকে। একে এনভেলপ বলে। ইহা ১০-১৫ ন্যানোমিটার পুরু। ইহা প্রোটিন, লিপিড ও শর্করা দ্বারা গঠিত। এনভেলপের প্রতিটি গাঠনিক অণুকে পেলপোমিয়ার বলে। যে সব ভাইরাসে এনভেলপ থাকে তাদেরকে লিপোভাইরাস বলে। যে সব ভাইরাসে এনভেলপ থাকে না তাদেরকে নগ্ন (Naked) ভাইরাস বলে। এনভেলপের বাইরের তলে স্পাইক নামক কাঁটা থাকতে পারে।
৪। এনজাইমঃ ভাইরাসে পুষ্টি ক্রিয়া ঘটে না এবং কোন বিপাকীয় এনজাইম থাকে না। তবে ব্যাকটেরিওফাজে লাইসোজাইম, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে নিউরোমিনিডেজ ও HIV-তে রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ এনজাইম থাকে। এছাড়া ভাইরাসে RNA পলিমারেজ, RNA ট্রান্সক্রিপ্টেজ প্রভৃতি এনজাইম থাকে।