লসিকা নালিতে যে ডিম্বাকার স্ফীত অংশ থাকে তাকে লসিকা পর্ব বা লসিকা গ্রন্থি বলে। লসিকা গ্রন্থির সংখ্যা ৪০০–৭০০। গ্রন্থিগুলো গ্রীবা, বগল ও কুঁচকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে। লসিকা গ্রন্থিগুলো আলোচনা করা হলো।
১। প্লীহা বা ব্লাড ব্যাংক (Spleen) ঃ প্লীহা হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় লসিকা গ্রন্থি। ইহা পাঁজরের নিচে এবং পাকস্থলীর উপরে অবস্থান করে। ইহা নরম এবং কালচে বর্ণের। একে রক্তে রিজার্ভার বা ব্লাড ব্যাংক বলা হয়। ইহা দুই ধরনের প্লীহা মজ্জা নিয়ে গঠিত। লাল মজ্জা ও সাদা মজ্জা। ইহা ৩০০ মিলি রক্ত জমা রাখতে পারে। প্লীহার আয়তন ১৩×৭×৩ ঘন সেমি এবং ওজন ১৫০ গ্রাম। প্লীহা রক্তের প্রধান ছাঁকুনী হিসেবে কাজ করে। অধিকাংশ লোহিত রক্তকণিকা প্লীহায় ধ্বংস প্রাপ্ত হয় বলে একে লোহিত রক্তকণিকার কবরস্থান বলা হয়। ইহা জীবাণু ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ করে।
২। টনসিল (Tonsil)ঃ মুখ গলবিলের ভিতরে ডান ও বাম দিকে ছোট বলের মতো যে গঠন দেখা যায় তাকে টনসিল বলে। মানবদেহে তিন ধরনের টনসিল থাকে। প্যালেটাইন, অ্যাডেনয়েড (ফ্যারিঞ্জিয়াল) ও লিঙ্গুয়াল। ইহা অ্যান্টিবডি ও লিম্ফোসাইট উৎপন্ন করে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অনেক সময় টনসিল ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। একে টনসিলাইটিস (tonsillitis) বা টনসিলের প্রদাহ বলে। অপারেশন করে টনসিল অপসারণকে টনসিলেকটমি (tonsillectomy) বলে।
৩। লিম্ফনোড (Lymph node)ঃ লিম্ফনোড হলো লসিকা বাহিকায় অবস্থিত ক্যাপসুলোর মতো একটি অংশ। মানবদেহে লিম্ফনোডের সংখ্যা ৪০০–৭০০। ইহা ম্যাক্রোফেজ ও লিম্ফোসাইট দ্বারা পূর্ণ থাকে। ইহা অণুজীব ও বহিরাগত পদার্থকে অপসারণ করে। নোডগুলো লসিকা পরিষ্কার করে।
৪। থাইমাস (Thymus)ঃ শ্বাসনালি ও স্টার্ণামের মাঝে হৃৎপিন্ডের উপরে অবস্থিত পিরামিড আকৃতির অঙ্গকে থাইমাস বলে। ইহা নরম ও দ্বিখন্ডিত। শিশুদের থাইমাস বড় ও সক্রিয় থাকে। থাইমাস থেকে থাইমোসিন ও থাইমোপোয়েটিন হরমোন নিঃসৃত হয়। হরমোনগুলো লিম্ফোসাইটের পরিপক্কতা নিয়ন্ত্রণ করে। থাইমাস বয়ঃসন্ধিকালে ক্রমশ ফ্যাট টিস্যুতে পরিনত হয়। তবে প্রাপ্ত বয়সে অদৃশ্য হয়ে যায়। লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন শে^ত রক্তকণিকা থাইমাসে পৌছে T–লিম্ফোসাইটে পরিনত হয়। এরা যে কোন প্রতিরোধী কোষ T–ইফেক্টার, T–কিলার ও T–হেলপার–এ পরিনত হয় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করে।
৫। লাল অস্থিমজ্জা (Reb Bone marrow)ঃ লাল অস্থি মজ্জা হলো স্পঞ্জের মতো, অর্ধকঠিন ও লাল বর্ণের টিস্যু। লাল অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা, শে^ত রক্তকণিকা ও প্লেটলেট উৎপন্ন হয়। শিশুদের অধিকাংশ হাড়ে লাল অস্থিমজ্জা থাকে। বয়স্কদের পেলভিস, কশেরুকা, স্টার্ণাম, করোটি, ক্ল্যাভিকল, কন্ঠাস্থি, পর্শুকা, হিউমেরাস, ফিমার প্রভৃতিতে লাল অস্থিমজ্জা থাকে।