যে সব প্রোটিনকে এসিড বা এনজাইম দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে শুধু মাত্র অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় তাকে সরল প্রোটিন বলে। দ্রবণীয়তার উপর ভিত্তি করে সরল প্রোটিনকে সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। অ্যালবিউমিন (Albumin )ঃ যে সব প্রোটিন পানিতে সহজে দ্রবীভুত হয়ে ঘোলাটে দ্রবণ তৈরী করে তাকে অ্যালবিউমিন বলে। ইহা পানি ও লঘু লবণের দ্রবণে দ্রবীভুত হয়। তাপ প্রয়োগে ইহা জমাট বাঁধে। প্রকৃতিতে ইহা ব্যাপক পরিমাণে পাওয়া যায়। এদের আণবিক ওজন ৪৫০০০-৬৫০০০ ডাল্টন। ডিমের সাদা অংশে, রক্তরসে, দুধে, পাতায় ও বীজে এই প্রোটিন পাওয়া যায়। যেমন- ওভালবুমিন (ডিমের সাদা অংশ, ১০-১২%), বিটা-অ্যামাইলেজ (যব, বার্লি), ল্যাক্টোঅ্যালবুমিন (দুধ), সিরাম-অ্যালবুমিন (রক্তরস ও লসিকা ৪-৫%), লিগুমিন (মটর), লিউকোসিন (গম, শৈবাল), লিগুমেলিন (শিম), মায়ো-অ্যালবুমিন (মাংসপেশী), মায়োসিন (পেশি) প্রভৃতি।
২। গ্লোবিউলিন (Globulin)ঃ গ্লোবিউলিন পানিতে অদ্রবণীয় কিন্তু লঘু লবণের দ্রবণে দ্রবণীয়। ইহা তাপে জমাট বাঁধে। ইহা বীজে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। তবে প্রাণীদেহেও এ প্রোটিন পাওয়া যায়। এদের আণবিক ওজন ৩৫০০ ডাল্টন। ডিমের কুসুম, রক্তরসে ও বীজে ইহা বিদ্যমান। যেমন- ফসভাইটিন (কুসুম), ওভোগ্লোবিন (ডিমের কুসুম), টিউবেরিন (গোল আলু), ল্যাক্টোগ্লোবিন (দুধ), ওভোগ্লোবিন (বীজ), আলফাগ্লোবিন (রক্তরস), সিরামগ্লোবিন (রক্তরস), মায়োসিনোজেন (মাংসপেশী), সিউডোগ্লোবিউলিন (ছানা/ঘোল), গ্লাইসিন (সয়াবিন), পোমেলিন (কমলালেবু), এরাচিন (চীনাবাদাম), লিগুমিন (মটরবীজ), এডেস্টিন (তুলা/শন), ক্রিস্টালিন (চোখের লেন্স) প্রভৃতি।
৩। গ্লুটেলিন (Glutelin) ঃ গ্লুটেলিন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু লঘু এসিড ও ক্ষারকে দ্রবণীয়। ইহা তাপে জমাট বাঁধে না। ইহা উদ্ভিদের শস্য দানায় থাকে। প্রাণীদেহে গ্লুটেলিন থাকে না। যেমন- গ্লুটেনিন (গম/ভূট্রা), অরাইজেনিন (চাল) প্রভৃতি।
৪। প্রোটামিন (Protamine)ঃ প্রোটামিন হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রোটিন। ইহা পানি, লঘু এসিড ও অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডে দ্রবণীয়। ইহা তাপে জমাট বাঁধে না। এদের আণবিক ওজন ৫,০০০ ডাল্টন। কতিপয় মাছের শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসে এই প্রোটিন পাওয়া যায়। যেমন- ক্লুপিন (হেরিং), আরজিনিন (চাল), স্যালমিন (স্যামন), সাইপ্রিনিন (কার্প), স্টারাইন (স্টার্জন) প্রভৃতি।
৫। প্রোলামিন (Prolamine)ঃ যে প্রোটিনকে হাইড্রোলাইসিস করলে প্রচুর পরিমাণে প্রোলিন ও অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয় তাকে প্রোলামিন বলে। ইহা পানিতে অদ্রবণীয়। তবে ৭০-৮০% ইথাইল অ্যালকোহলে দ্রবণীয়। এরা তাপে জমাট বাঁধে না। ইহা শুধু মাত্র উদ্ভিদের বীজে থাকে। প্রাণীদেহে প্রোলামিন থাকে না। যেমন- গ্লিয়াডিন (ধান/রাই/গম), জেইন (ভূট্রা), হর্ডিন (যব/বার্লি) প্রভৃতি।
৬। হিস্টোন (Histone)ঃ একাধিক ক্ষারীয় অ্যামাইনো এসিড দ্বারা হিস্টোন প্রোটিন গঠিত। ইহা পানিতে দ্রবণীয়, কিন্তু অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডে অদ্রবণীয়। এরা তাপে জমাট বাঁধে না। ইহা নিউক্লিয়াস বা ক্রোমোজোমে অবস্থান করে। ক্রোমোজোমে H1, H2, H3, H4 ইত্যাদি হিস্টোন প্রোটিন থাকে। জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য হিস্টোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন- আরজিনিন, লাইসিন, নিউক্লিওহিস্টোন, গ্লোবিন প্রভৃতি।
৭। স্কে¬রোপ্রোটিন (Scleroprotein)ঃ এই প্রোটিন পানি, লবণ, এসিড ও ক্ষারীয় দ্রবণে অদ্রবণীয়। একে ‘প্রাণীর কঙ্কাল প্রোটিন’ বলা হয়। উদ্ভিদদেহে এ প্রোটিন থাকে না। শুধুমাত্র প্রাণীদেহে থাকে। ইহা এনজাইমের উপর কোন ক্রিয়া করে না। প্রাণীর হাড়, চুল, নখ, শিং, ত্বক, খুর প্রভৃতিতে ইহা পাওয়া যায়। যেমন- কেরাটিন (ত্বক, নখ, চুল), কোলাজেন (চামড়া), টেনডন (হাড়), ইলাস্টিন (লিগামেন্ট), ফাইব্রয়িন (রেশম) প্রভৃতি।