হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের চলন বিস্তারিত ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় জীবদেহ জৈবিক প্রয়োজনে নিজ প্রচেষ্টায় স্থানান্তরিত হয় তাকে চলন বলে।

হাইড্রার চলন প্রক্রিয়াঃ হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের চলন হলো- লুপিং,  সমারসল্টিং, গ্লাইডিং, ভাসা চলন, সাঁতার,  হেচড়ান, নতমুখী চলন, ডুবা চলন  এবং দেহের সংকোচন-প্রসারণ।

১। লুপিং বা ফাঁসা বা জোঁকা বা শুঁয়াপোকা চলন (Looping)ঃ যে প্রক্রিয়ায় হাইড্রা লুপ বা ফাঁস সৃষ্টির মাধ্যমে চলাচল করে তাকে লুপিং চলন বলে। হাইড্রা লম্বা দুরত্ব অতিক্রমের জন্য লুপিং চলন প্রদর্শন করে।

(i) এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা পদতল দ্বারা গতিপথের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(ii) মাথাকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(iii) কর্ষিকার নেমাটোসিস্ট দ্বারা ভিত্তিকে স্পর্শ করলে পদতল ও মাথার মাঝখানে একটি লুপ সৃষ্টি হয়।

(iv) এরপর পদতলকে টেনে মাথার কর্ষিকার নিকটে আনে।

(v) পদতল দ্বারা গতিপথকে পুনরায় স্পর্শ করে।

(vi) পদতলের উপর ভর করে মাথা উচিয়ে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(vii) অতঃপর মাথাকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে অগ্রসর হয়।

এভাবে লুপ তৈরীর মাধ্যমে হাইড্রা সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

২। সমারসল্টিং বা ডিগবাজী (Somersaulting)ঃ হাইড্রার দ্রæত চলন প্রক্রিয়া হলো সমারসল্টিং। প্রতিবার চলনে দুইটি লুপ সৃষ্টি হয়।

(i) এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা পদতল দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(ii) পদতলের উপর ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

(iii) মাথাকে সামনের দিকে বাকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা গতিপথকে স্পর্শ করে।

(iv) কর্ষিকার উপর ভর করে পদতল উপরে উঠিয়ে  উল্টো ভাবে দাঁড়ায়।

(v) পদতলের উপর ভর করে কর্ষিকা মুক্ত করে এবং মাথা উপরে উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

এভাবে ডিগবাজীর মাধ্যমে হাইড্রা সামনের দিকে অগ্রসর হয়।

৩। গ্লাইডিং বা অ্যামিবয়েড চলন (Gliding)ঃ অতি সামান্য দুরত্ব অতিক্রমের জন্য হাইড্রা গ্লাইডিং প্রক্রিয়ায় চলাচল করে। এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা অ্যামিবার মতো ধীরগতিতে চলে। হাইড্রার পদতলের বহিঃত্বকের কোষ গুলো হতে পিচ্ছিল রস নিঃসৃত হয়। এতে পদতলের ঐ স্থান হতে ক্ষণপদ সৃষ্টি হয়। ক্ষণপদ মসৃণ তলে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। সেই সঙ্গে হাইড্রাও অতি ধীরগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এভাবে হাইড্রা অতি ধীরে ধীরে অতি সামান্য দুরত্ব অতিক্রম করে।

৪। ভাসা চলন (Floating)ঃ হাইড্রা পদতলকে মুক্ত করে উল্টোভাবে অবস্থান করে। অর্থাৎ পদতল উপরের দিকে এবং মৌখিক তল নিচের দিকে অবস্থান করে। পদতলের গ্রন্থি থেকে গ্যাস ও মিউকাস নিঃসৃত হয়। নিঃসৃত গ্যাস ও মিউকাস মিলে বুদবুদ সৃষ্টি করে। বুদবুদের সাহায্যে হাইড্রা পানিতে ভেসে থাকে। এসময় স্রোতের টানে অথবা ঢেউয়ের আঘাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভেসে চলে।

৫। সাঁতার চলন (Swimming)ঃ হাইড্রা দেহকে মুক্ত করে আনুভ‚মিকভাবে অবস্থান করে। কর্ষিকাগুলোকে ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত করে। এসময় দেহকেও আন্দোলিত করে। এভাবে ঢেউ বা তরঙ্গের মতো আন্দোলন সৃষ্টি করে সাঁতার কাটতে থাকে।

৬। নতমুখী চলন বা হাঁটা চলন (Walking)ঃ হাইড্রা পদতলকে মুক্ত করে উল্টোভাবে অবস্থান করে। অর্থাৎ পদতল উপরের দিকে এবং মৌখিক তল নিচের দিকে অবস্থান করে। দেহের সম্পূর্ণ ভার কর্ষিকার উপর স্থাপন করে। কর্ষিকাকে পায়ের মতো ব্যবহার করে ধীর গতিতে এগিয়ে চলে।

৭। হামাগুড়ি বা আরোহণ চলন (Climbing) ঃ হাইড্রা কর্ষিকা দ্বারা নিমজ্জিত উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখাকে আঁকড়ে ধরে। পদতল মুক্ত করে সঙ্কুচিত করে। এরপর পদতলকে নতুন জায়গায় স্থাপন করে। এভাবে সঙ্কোচনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে।

৮। দেহের সঙ্কোচন-প্রসারণ (contraction and expanion)ঃ হাইড্রা দেহকে মুক্ত করে এবং পেশি আবরণী কোষের সঙ্কোচন ও প্রসারণ ঘটায়। এতে দেহের আকার দ্রæত খাটো ও লম্বা হয়। ফলে এক ধরনের চলন সৃষ্টি এবং স্থান পরিবর্তন করে।

৯। ডুবা চলন (Drawing)ঃ দেহে বুদবুদ সৃষ্টি না হলে দেহ ভারি হয়ে যায়। দেহ ভারি হওয়ার কারণে দ্রæত পানির নিচে চলে যায়। একে ডুবা চলন বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *