হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের নেমাটোসিস্টের গঠন ও কাজ ।। Nematocyst ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিডোসাইট কোষে অবস্থিত প্যাচানো সূত্রকসহ ক্ষুদ্র থলীকে নেমাটোসিস্ট বলে। স্বাভাবিক অবস্থায় সূত্রকটি বাট ও কাঁটাসহ থলী বা ক্যাপসুলের ভিতর ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না। ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী ভার্নার (Werner) নিডেরিয়া জাতীয় প্রাণীদের দেহে ২৩ ধরনের নেমাটোসিস্ট শনাক্ত করেছেন। তবে হাইড্রাতে চার প্রকার নেমাটোসিস্ট দেখা যায়।

১। স্টেনোটিল বা পেনিট্র্যান্টঃ হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে স্টিনোটিল সবচেয়ে বড়। এর ক্যাপসুল বিষাক্ত হিপনোটক্সিন নামক তরল দ্বারা পুর্ণ থাকে। এর বাট মোটা। বাটে তিনটি বড় কাঁটা থাকে। একে বার্ব বলে। বাটে তিন সারি বার্বিউল থাকে।

স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্টের কাজ

(i) ইহা হিপনোটক্সিন দ্বারা শিকারকে অবশ করে।

(ii) এর সূত্রক শিকারকে আঁকড়ে ধরে।

২। স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট বা হলোট্রাইকাস আইসোরাইজাঃ স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট মাঝারী ধরনের নেমাটোসিস্ট। এর ক্যাপসুল ছোট এবং বাট সুগঠিত নয়। এতে বার্ব নাই, তবে বার্বিউল থাকে। এর সূত্রক লম্বা, কাঁটাযুক্ত এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে প্যাচিয়ে ধরে।

(ii) চলনে সাহায্য করে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

৩। স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট বা অ্যাট্রাইকাস আইসোরাইজাঃ স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট হলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট। এদের বাট সুগঠিত নয়। বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রক ছোট, কাঁটাবিহীন এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(ii) হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

(iv) শিকারকে আটকে ধরে।

৪। ভলভেন্ট বা ডেসমোনিমঃ ভলভেন্ট হলো অপেক্ষাকৃত ছোট নেমাটোসিস্ট। এদের বাট, বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রকটি মোটা, খাটো, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন ও শীর্ষদেশ বন্ধ। এর ক্যাপসুলের ভিতরে সূত্রকের একটি মাত্র প্যাচ থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়া অবস্থায়ও সূত্রকটি প্যাচানো থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্ক-স্ক্রুর মতো অনেকগুলো প্যাঁচের সৃষ্টি করে।

ভলভেন্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে জড়িয়ে ধরে।

(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *