ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র (Life cycle)
Plasmodium vivax এর জীবনচক্র দুইটি ভেক্টর বা পোষকের দেহে সম্পন্ন হয়। মানুষ এবং মশকী। মানুষের যকৃত ও লোহিত রক্তকণিকায় অযৌনজনন এবং মশকীর ক্রপে যৌনজনন সম্পন্ন হয়। তাই মানুষ হলো মুখ্য পোষক এবং মশকী হলো গৌণ পোষক।
মানুষের দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর অযৌন চক্র
মানুষের যকৃত কোষে হেপাটিক সাইজোগনি এবং লোহিত রক্তকণিকায় এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি সংঘটিত হয়। পর্যায় দু’টি আলোচনা করা হলো।
হেপাটিক সাইজোগনি বা যকৃত সাইজোগনি
মানুষের যকৃত কোষে ম্যালেরিয়া পরজীবীর বহুবিভাজনের মাধ্যমে অযৌন জননকে হেপাটিক সাইজোগনি বলে। ১৯৪৮ সালে বিজ্ঞানী Shortt এবং Garnham মানুষের যকৃতে ম্যালেরিয়া পরজীবীর হেপাটিক সাইজোগনি বর্ণনা করেন। এই চক্র দুইটি পর্যায়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
১। প্রি-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি (Pre-erythrocytic schizogony)
২। এক্স-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি (Ex-erythrocytic schizogony)
১। প্রি-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি
(i) স্পোরোজয়েট (Sporozoite)ঃ স্পোরোজয়েট গুলো সঞ্চালনক্ষম, অতি ক্ষুদ্র, সামান্য বাঁকানো এবং দেহের উভয় প্রান্ত সুচালো। এদের দেহ স্থিতিস্থাপক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী কোন অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশকী সুস্থ মানুষকে দংশন করলে মশকীর লালারসের মাধ্যমে স্পোরোজয়েট মানুষের দেহে প্রবেশ করে। স্পোরোজয়েট গুলো ৩০-৪৫ মিনিটের মধ্যে মানুষের যকৃত কোষে প্রবেশ করে। কেমোট্যাক্সিসের কারণে রক্ত দ্বারা বাহিত হয়ে যকৃতে প্রবেশ করে এবং বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।
(ii) ক্রিপ্টোজয়েট (Cryptozoite)ঃ স্পোরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে স্ফীত ও গোলাকৃতি ধারণ করে। একে ক্রিপ্টোজয়েট বলে।
(iii) সাইজন্ট (Schizont)ঃ ক্রিপ্টোজয়েটের নিউক্লিয়াসটি বার বার বিভাজিত হয়ে অসংখ্য (প্রায় ১২০০) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস গঠন করে। এই বহু নিউক্লিয়াস যুক্ত অবস্থাকে সাইজন্ট বলে।
(iv) ক্রিপ্টোমেরোজয়েট (Cryptomerozoite)ঃ সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে। এগুলোকে ক্রিপ্টোমেরোজয়েট বলে। ক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং সাইনুসয়েডে অবস্থান করে। এরপর নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে হেপাটিক সাইজোগনির পুনরাবৃত্তি ঘটায়। মোট ৮০০০-২০,০০০ মেরোজয়েট সৃষ্টি হয়।
২। এক্স-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি
(i) সাইজন্ট (Schizont)ঃ ক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে। খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং বার বার বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এই বহু নিউক্লিয়াস যুক্ত অবস্থাকে সাইজন্ট বলে।
(ii) মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট (Metacryptomerozoite)ঃ সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে। কোষগুলোকে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট বলে। মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো দুই ধরনের। মাইক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট এবং ম্যাক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট। মাইক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো আকারে ছোট এবং নিউক্লিয়াস বড়। ম্যাক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো আকারে বড় এবং নিউক্লিয়াস ছোট। ম্যাক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে। মাইক্রোমেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো রক্ত স্রোতে চলে আসে এবং লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে। স্পোরোজয়েট থেকে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট অবস্থায় পৌছাতে সময় লাগে ৭-১০ দিন। মেরোজয়েট গুলো ম্যালেরিয়ার কোন লক্ষণ প্রকাশ করা ছাড়াই বছরের পর বছর যকৃত কোষে সাইজোগনি ঘটাতে পারে।