যে সব RNA কোষের DNA হতে বংশগতি বিষয়ক সংকেত বহন করে তাদেরকে mRNA বা messenger RNA বলে। একে টেমপ্লেট RNA বা মনোসিস্ট্রোনিক mRNA বলা হয়। ইহা এক সূত্রক এবং অত্যন্ত অস্থায়ী। এদের আণবিক ওজন ৫-২০ লক্ষ ডাল্টন। কোষের প্রায় ৫-১০% হলো mRNA।
mRNA এর গঠন
(i) গুয়ানিন ক্যাপঃ mRNA এর ৫ প্রান্তে গুয়ানিন যুক্ত হয়ে একটি টুপি বা ক্যাপ গঠন করে। একে গুয়ানিন ক্যাপ বলে। গুয়ানিন ক্যাপে ৭টি গুয়ানোসিন নিউক্লিওটাইড থাকে। ট্রান্সলেশনের সময় এই ক্যাপ রাইবোসোমের সংযুক্তি নিশ্চিত করে।
(ii) নন-কোডিং অঞ্চল-১ঃ যে অঞ্চল প্রোটিন সংশ্লেষণ করে না তাকে নন-কোডিং অঞ্চল বলে। টুপির পরে ১০-১০০টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। ইহা অ্যাডিনিন ও ইউরাসিল সমৃদ্ধ। এখানে ট্রান্সলেশন ঘটে না।
(iii) সূচনা কোডনঃ যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনা করে তাকে সূচনা কোডন বলে। সূচনা কোডন হলো AUG। ইহা মেথিওনিন অ্যামাইনো এসিডকে সংযুক্ত করে।
(iv) কোডিং অঞ্চলঃ যে অঞ্চল প্রোটিন সংশ্লেষণ করে তাকে কোডিং অঞ্চল বলে। এই অঞ্চল ১৫০০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এই অঞ্চলে ট্রান্সলেশন ঘটে।
(v) সমাপ্তি কোডনঃ যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সমাপ্তি ঘটায় তাকে সমাপ্তি কোডন বলে। সমাপ্তি কোডনগুলো হলো UAA, UAG ও UGA। এর যে কোন একটি কোডন উপস্থিত থাকলে প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।
(vi) নন-কোডিং অঞ্চল-২ ঃ এই অঞ্চল ৫০-১৫০টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। এখানে ট্রান্সলেশন হয় না।
(vii) পলি A টেইলঃ mRNA এর ৩ প্রান্তে অ্যাডিনিন যুক্ত হয়ে পলি A টেইল গঠন করে। ইহা ২০০-২৫০টি অ্যাডিনিন দ্বারা গঠিত।
কাজঃ mRNA নিউক্লিয়াস থেকে প্রোটিন তৈরীর সংকেত সাইটোপ্লাজমে বহন করে নিয়ে যায় এবং অ্যামাইনো এসিডের শৃঙ্খল তৈরী করে।