ল্যাটিন শব্দ annelus অর্থ ছোট আংটি এবং eidos অর্থ আকৃতি নিয়ে Annelida শব্দটি গঠিত। যে সকল প্রাণীদেহ ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, নলাকার, আংটির মতো খন্ডক বা মেটামিয়ার দ্বারা গঠিত তাদেরকে অ্যানিলিডা বলে। এ পর্বের প্রাণিরা আংটি কীট বা খন্ডায়িত নামে পরিচিত। যে প্রক্রিয়ায় ক্ষুধার্ত জোঁক শরীরে লাগিয়ে দেহ থেকে দুষিত রক্ত শোষণ করা হয় তাকে ফ্লেবোটমি বলে। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ১৭,৩৩৮টি। Lamark (১৮০৯) নরম দেহের প্রাণিদের Annelida নামে চিহ্নিত করেন।
অ্যানিলিডা পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং প্রকৃত সিলোম যুক্ত।
২। দেহ খন্ডায়িত এবং আংটির মতো একই ধরনের অনেক গুলো খন্ডক বা মেটামিয়ার দ্বারা গঠিত।
৩। চলন অঙ্গ হলো কাইটিন যুক্ত সিটি বা প্যারাপোডিয়া।
৪। নেফ্রিডিয়া নামক প্যাচানো রেচন অঙ্গ প্রায় প্রতিটি খন্ডকে অবস্থিত। একে সেগমেন্টাল অর্গান বলে।
৫। দেহে ক্লাইটেলাম থাকে এবং ইহা মিউকাস ক্ষরণ করে।
৬। পৌষ্টিক নালি নলাকার ও সম্পুর্ণ এবং মুখ ও পায়ু ছিদ্র দ্বারা গঠিত।
৭। রক্ত লাল। রক্তরসে হিমোগ্লোবিন, হিম-এরিথ্রিন অথবা ক্লোরোকুয়োরিন থাকে।
৮। দেহ কাইটিনবিহীন এবং নরম কিউটিকল দ্বারা গঠিত।
৯। জীবনচক্রে ট্রোকোফোর নামক সাতারু লার্ভার বিকাশ ঘটে।
১০। এরা একলিঙ্গিক বা উভলিঙ্গিক। যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে জনন ঘটে।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ মেটামিয়ার, সিটি, প্যারাপোডিয়া, নেফ্রিডিয়া, ট্রোকোফোর]