মুখছিদ্র হতে গিজার্ড পর্যন্ত অংশকে অগ্র পৌষ্টিকনালী বলে। ইহা ছয়টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো–
(i) মুখছিদ্রঃ পৌষ্টিকনালীর সম্মুখে যে ছিদ্রপথ থাকে তাকে মুখছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তু ভিতরে প্রবেশ করে
(ii) মুখগহ্বরঃ মুখছিদ্রের পরবর্তী মুখোপাঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মুখগহŸর বলে। মুখবিবরে খাদ্যবস্তু লালার সাথে মিশ্রিত হয়। ইহা খাদ্যকে মুখছিদ্র হতে গলবিলে নিয়ে যায়।
(iii) গলবিলঃ মুখবিবরের পিছনে অবস্থিত ছোট, পেশীবহুল, সরু ও নলাকার অংশকে গলবিল বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্য অন্ননালীতে প্রবেশ করে।
(iv) অন্ননালীঃ গলবিলের পরবর্তী সরু, লম্বা ও নলাকার অংশকে অন্ননালী বলে। ইহা পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। ইহা খাদ্যকে ক্রপে পৌছে দেয়।
(v) ক্রপঃ অন্ননালী স্ফীত হয়ে মোচাকার থলীর মতো ক্রপ গঠন করে। ইহা পাতলা প্রাচীর যুক্ত। এতে খাদ্য সাময়িক ভাবে জমা থাকে। এখান থেকে খাদ্য পরিপাক শুরু হয়।
(vi) গিজার্ড বা প্রোভেন্ট্রিকুলাসঃ ক্রপের পরবর্তী প্রসারিত অংশকে গিজার্ড বলে। ইহা পুরু, পেশীবহুল ও ত্রিকোণাকার থলী। এর প্রাচীর শক্ত, পুরু ও বৃত্তাকার পেশী দ্বারা গঠিত। গিজার্ডের সামনের অংশকে আর্মারিয়াম এবং পিছনের অংশকে স্টোমোডিয়াম কপাটিকা বলে। আর্মারিয়ামের প্রাচীর অনুদৈর্ঘ্যভাবে ভাঁজ হয়ে পাতের মতো ছয়টি দাঁত গঠন করে। দাঁতের পিছনে প্যাডের মতো পাত থাকে। এই পাতে সুক্ষ্ম ব্রিসল বা রোম থাকে। অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজের গভীর খাদে ব্রিসল থাকে। গিজার্ডের দাঁত খাদ্যকে চুর্ণ–বিচুর্ণ করে। ব্রিসল বা রোম ছাঁকনির কাজ করে। কপাটিকা খাদ্যের বিপরীত প্রবাহে বাধা দেয়।