মুখের চারদিকে যে নড়নক্ষম সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ থাকে তাকে মুখোপাঙ্গ বলে। ঘাস ফড়িং-এর মুখোপাঙ্গ কচিপাতা বা কচিকান্ড চর্বনে ব্যবহৃত হয় বলে একে চর্বন উপযোগী বা ম্যান্ডিবুলেট মুখোপাঙ্গ বলে। ইহা পাঁচটি অংশ দ্বারা গঠিত। ল্যাব্রাম, ম্যান্ডিবল, ম্যাক্সিলা, ল্যাবিয়াম ও হাইপোফ্যারিংক্স।
১। ল্যাব্রাম (Labrum)ঃ মস্তকের পৃষ্ঠদেশে ক্লাইপিয়াসের সাথে যুক্ত যে গোলাকার, প্রশস্ত, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও চ্যাপ্টাকৃতির অঙ্গ থাকে তাকে ল্যাব্রাম বলে। একে উপরের ঠোটও বলা হয়। ইহা সংবেদনশীল। ইহা ম্যান্ডিবলকে ঢেকে রাখে এবং খাদ্য বস্তুকে ধরতে সাহায্য করে।
২। ম্যান্ডিবল (Mandible)ঃ মুখছিদ্রের উভয় পার্শ্বে শক্ত, খাটো ও ত্রিকোণাকৃতির এক জোড়া ম্যান্ডিবল বা চোয়াল থাকে। প্রতিটি ম্যান্ডিবলের ভিতরের দিকে কালো বর্ণের কয়েকটি খাঁজ থাকে। এই খাঁজ গুলোকে মোলার প্রসেস বা ডেন্টিকল বা দন্তক বলে। প্রতিটি ম্যান্ডিবলে দুই ধরনের পেশি থাকে। এ গুলো হলো-
(i) অ্যাডাক্টার পেশিঃ ম্যান্ডিবলের ভিতরের দিকের পেশিকে অ্যাডাক্টার পেশি বলে। ইহা সংকুচিত হয়ে ম্যান্ডিবলকে ভিতরের দিকে টেনে আনে।
(ii) অ্যাবডাক্টার পেশিঃ ম্যান্ডিবলের বাইরের দিকের পেশিকে অ্যাবডাক্টার পেশি বলে। ইহা সংকুচিত হয়ে ম্যান্ডিবলকে বাইরের দিকে টেনে আনে। ম্যান্ডিবলের কাজ হলো খাদ্য বস্তু কাঁটা এবং পেষণ করা।
৩। ম্যাক্সিলা (Maxilla)ঃ মুখছিদ্রের উভয় পাশে ম্যান্ডিবল বরাবর বহুখন্ড বিশিষ্ট এক জোড়া ম্যাক্সিলা থাকে। ইহা দু’টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। কার্ডো ও স্টাইপ্স। ম্যাক্সিলার গোড়ার অংশকে কার্ডো বলে। কার্ডোর উপরের লম্বা ও দন্ডাকার অংশকে স্টাইপ্স বলে। স্টাইপসের মাথায় গ্যালিয়া ও ল্যাসিনিয়া থাকে। এছাড়া স্টাইপসের বাইরের দিকে পাঁচ খন্ড বিশিষ্ট একটি ম্যাক্সিলারী পাল্প থাকে। ম্যাক্সিলারী পাল্প সংবেদনশীল। ম্যাক্সিলার কাজ হলো খাদ্য বাছাই করা, খাদ্য ধরা, খাদ্য মুখে প্রবেশ করানো এবং সামনের পা পরিষ্কার করা।
৪। ল্যাবিয়াম (Labium)ঃ মুখছিদ্রের নিচে অবস্থিত একাধিক সন্ধিবিশিষ্ট বৃহদাকার যৌগিক উপাঙ্গকে ল্যাবিয়াম বলে। ইহা খাদ্যের গুণাগুণ বুঝা, খাদ্যকে মুখে প্রবেশ করানো এবং মুখকে ঢেকে রাখা। ল্যাবিয়াম দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। সাবমেন্টাম এবং মেন্টাম।
(i) সাবমেন্টাম (Submentum)ঃ ল্যাবিয়ামের গোড়ার অংশকে সাব মেন্টাম বলে। ইহা চ্যাপ্টা ও প্রশস্ত। ইহা ল্যাবিয়ামকে মস্তকের সাথে যুক্ত রাখে।
(ii) মেন্টাম (Mentum)ঃ সাব মেন্টাম ও প্রি-মেন্টামের মধ্যবর্তী অংশকে মেন্টাম বলে। ইহা ছোট এবং প্রায় গোলাকার। বাইরের দিকে দুইটি ল্যাবিয়াল পাল্প থাকে। প্রতিটি ল্যাবিয়াল পাল্প তিনটি খন্ডক যুক্ত। মেন্টামের অগ্রভাগে একটি লিগুলা থাকে। লিগুলার ভিতরের দিকে গ্লোসা এবং বাইরের দিকে প্যার গ্লোসা থাকে।
৫। উপজিহ্বা (Hypopharynx)ঃ ল্যাব্রাম ও ল্যাবিয়ামের মাঝে যে লম্বা, নরম ও মাংসাল উপাঙ্গ বিদ্যমান তাকে উপজিহ্বা বা লিঙ্গয়া বলে। এর গোড়া ভাঁজ যুক্ত এবং কিউটিকল দ্বারা আবৃত থাকে। উপজিহ্বা খাদ্যকে নাড়াচাড়া ও খাদ্য গলাধঃকরণের কাজ করে।