অসংখ্য ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং মানুষের মাঝে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ^ব্যাপী মহামারী সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো-
(i) HIV : মরণব্যাধি AIDS রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো HIV। ইহা মানুষের শে^ত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশে ক্রমেই এইডস্ রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
(ii) ইবোলা ভাইরাসঃ ইবোলা একটি মারাত্বক মরণ ভাইরাস। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার কঙ্গোর ইবোলা নদীর তীরে সর্বপ্রথম একজন কৃষক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত কৃষকের চোখ, নাক, কান ও গলায় রক্ত ক্ষরণ হয়েছিল। নদীর নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার জায়ার-এ ইবোলা ভাইরাসের আক্রমণে মহামারী দেখা দিয়ে ছিল। ২০১৪-১৫ সালে ইবোলার আক্রমণে গিনি, সিয়েরালিওন ও লাইবেরীতে ২৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১১০০০ লোক মারা যায়। ২-২১ দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।
(iii) বার্ড ফ্লু ভাইরাসঃ Avian Influenza virus (Hemaglutinin-1 Neuraminidase type-1=H1N1) এর কারণে বার্ড ফ্লু রোগ হয়। ২০০৮ সালে বার্ড ফ্লু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মহামারী আকার ধারণ করেছিল। এ রোগে হাঁস-মুরগী আক্রান্ত হয় এবং পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।
(iv) সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসঃ Swine Influenza virus দ্বারা সোয়াইন ফ্লু রোগ হয়। Influenza ভাইরাসের H5N1 ও H1N1 এর কারণে এই সোয়াইন ফ্লু হয়ে থাকে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত হয়। মানুষ এবং শুকর এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মুরগী মারা যায়। ভারতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ৩৪,০০০ লোক আক্রান্ত হয়।
(v) জিকা ভাইরাসঃ জিকা ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার নাম জিকা জ¦র। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনে বসবাসকারী রেসাস বানরের দেহে সর্বপ্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এটি মশার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের চট্রগ্রাম জেলায় জিকা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। জিকা ভাইরাসের বাহক Aedes aegypti I Aedes albopictus মশকী।
(vi) নিপা ভাইরাসঃ ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শূকরের খামারে সর্বপ্রথম নিপা ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে। এই ভাইরাসের বাহক হলো বাদুর। খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে ইহা মানবদেহে সংক্রমিত হয়। ইহা একটি RNA ভাইরাস। এই ভাইরাসের আক্রমণে শ্বসনে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
(vii) চিকুনগুনিয়াঃ চিকুনগুনিয়া হলো একটি α-ভাইরাস (RNA)। এর বাহক হলো Aedes aegypti এবং Aedes albopictus মশকী। ১৯৫২ সালে আফ্রিকার তানজানিয়ায় সর্বপ্রথম চিকুনগুনিয়া আবিষ্কৃত হয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে চিকুনগুনিয়া বাংলাদেশে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। চিকুনগুনিয়াকে ল্যাংড়া জ¦রও বলা হয়।