রক্তবাহিকা আলোচনা । ধমনীর বৈশিষ্ট্য । শিরার বৈশিষ্ট্য । Blood vessels। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব নালিকার মধ্য দিয়ে রক্ত হৃৎপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে এবং দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে পুনরায় হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাকে রক্ত বাহিকা বলে। রক্তবাহিকা তিন ধরনের। ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকা।

১। ধমনী (Artery)

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছায় তাকে ধমনী বলে। ধমনীর বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) ধমনীর প্রাচীর পুরু, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা হৃৎপিন্ড হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহŸর ছোট।

(v) এতে কপাটিকা থাকে না।

(vi) ধমনী উচ্চ রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা O2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

২। শিরা (Veins)

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে। শিরার বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) শিরার প্রাচীর পাতলা ও অস্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা দেহকোষ হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহ্বর বড়।

(v) এতে কপাটিকা থাকে।

(vi) ধমনী নিম্ন রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

৩। কৈশিক জালিকা (Capillaries)

সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যে সব রক্তবাহিকা ধমনী ও শিরার সংযোগ স্থলে জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাকে রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা বলে। কৈশিকজালিকার মাধ্যমে খাদ্যসার, শ^সন বায়ু, রেচনদ্রব্য প্রভৃতির আদান-প্রদান ঘটে।   যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *