T2 ব্যাকটেরিওফায্ (T2 Bacteriophage)

গ্রিক শব্দ Phage  অর্থ ভক্ষণ করা। যে সব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে বা ভেঙ্গে ফেলে তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায্ বলে। বিজ্ঞানী Twort এটি আবিষ্কার করেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ অণুজীববিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ওর্ট ব্যাকটেরিওফায বা T2 ফায্ আবিষ্কার করেন। ১৯১৭ সালে বিজ্ঞানী ডি. হেরেলী ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকারী ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায নামে অভিহিত করেন। T2 ব্যাকটেরিওফায্ হলো ব্যাঙাচি আকৃতির ভাইরাস। ইহা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। মস্তক ও লেজ।

১। মস্তকঃ T2 ব্যাকটেরিওফায্-এর স্ফীত ও ষড়ভুজাকৃতির অংশকে মাথা বলে। এর দৈর্ঘ্য ৯৩-১০০ nm এবং প্রস্থ ৬৫ nm। ইহা প্রোটিন নির্মিত দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। প্রোটিনের আবরণীকে ক্যাপসিড বলে। ক্যাপসিডের প্রতিটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলে। ক্যাপসোমিয়ারের সংখ্যা ২০০০টি। ক্যাপসিডের ভিতরের অংশ ফাঁপা। ফাঁপা অংশে রিং আকৃতির একটি দ্বি-সূত্রক প্যাচানো DNA থাকে। DNA খন্ডটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০০ ন্যানোমিটার। T2 ব্যাকটেরিওফায্-এর মোট ওজনের ৫০% হলো DNA। DNA-এর দৈর্ঘ্য ৫০ µm।  DNA অণুতে ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিওটাইড থাকে। এতে প্রায় ১৫০টি জিন থাকে। DNA বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে। মস্তকে কোষ প্রাচীর, প্লাজমাপর্দা, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোসোম, রাইবোসোম প্রভৃতি থাকে না।

২। লেজঃ ব্যাকটেরিওফাজের লেজের পরবর্তী সরু ও নলাকার অংশকে লেজ বলে। ইহা নরম ও নমনীয়। এর দৈর্ঘ্য ৯৫-১১০ nm এবং ব্যাস ১৫-২৫ nm। ইহা প্রোটিন নির্মিত একটি ক্যাপসিড দ্বারা আবৃত থাকে। আবরণীর ভিতরে একটি সঙ্কোচনশীল প্রোটিন থাকে। সঙ্কোচনশীল প্রোটিনে লাইসোজাইম এনজাইম থাকে। লেজের অভ্যন্তর ভাগ ফাঁপা। এতে কোন DNA থাকে না। লেজের শেষ প্রান্তে প্রোটিন নির্মিত একটি বেস প্লে¬ট থাকে। বেস প্লে¬টে সরু ও লম্বা ৬টি স্পর্শক তন্তু এবং কতক গুলো স্পাইক বা কাঁটা থাকে। স্পর্শক তন্তু ব্যাকটেরিয়ার চলনে সাহায্য করে। স্পাইক বা কাঁটার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া পোষক কোষকে আটকে রাখে। মাথা ও লেজের সংযোগ স্থলে প্রোটিন নির্মিত একটি কলার আছে।

লেজে কোষপ্রাচীর, প্লাজমা পর্দা, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোসোম, রাইবোসোম প্রভৃতি থাকে না।

ব্যাঙাচি আকৃতির ভাইরাস গুলোর মধ্যে T2 ব্যাকটেরিওফায্ অতি পরিচিত একটি ভাইরাস। এ বিষয়ে গবেষণা হয়েছে সবচেয়ে বেশী। ১৯১৭ সালে বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি এ ভাইরাসকে  ব্যাকটেরিওফায্ বা ফায্ নামে অভিহিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *