ভাইরাসের লাইসোজেনিক চক্র (Lysogenic cycle)

যে প্রক্রিয়ায় ভাইরাসের DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ার DNA-এর সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিলিপি গঠন করে এবং তা পোষক কোষের ভিতরেই অবস্থান করে তাকে লাইসোজেনিক চক্র বলে। যে ভাইরাস লাইসোজেনিক চক্র প্রদর্শন করে তাকে টেমপারেট ফায বলে। ল্যামডা (λ)  ফাজ (P1, M13) ভাইরাসে লাইসোজেনিক চক্র ঘটে। এ চক্রের ধাপ গুলো আলোচনা করা হলো।

১। সংক্রমণ পর্যায়ঃ ল্যামডা (λ) ফায্ E. coli ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের উপর এসে স্থাপিত হয়। ভাইরাস স্পর্শক তন্তু দ্বারা ব্যাকটেরিয়ার receptive spot বা গ্রাহী স্থানে সংযুক্ত হয়। এরপর স্পর্শক তন্তু গুলো সঙ্কুচিত হয়। ভাইরাসের বেস প্লেটটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের সংস্পর্শে আসে। ভাইরাসের লেজ থেকে লাইসোজাইম এনজাইম নিঃসৃত হয়। লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের মিউকোপেপটাইডকে বিগলিত করে। ফলে একটি সুক্ষ্ম ছিদ্র বা নালিকা সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াকে ড্রিলিং বলে। ছিদ্র বা নালিকার মধ্য দিয়ে ভাইরাসের DNA ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করে। কিন্তু ক্যাপসিড আবরণীটি বাইরে থাকে।

২। পোষক কোষে ফাজ DNA প্রবেশ পর্যায়ঃ ভাইরাসের DNA মস্তক হতে লেজে স্থানান্তরিত হয়। এরপর ভাইরাল DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের ছিদ্র বা নালিকার মধ্য দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু ক্যাপসিড আবরণীটি পোষক কোষের বাইরে থাকে।

৩। প্রোফায গঠনঃ ভাইরাল DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পোষক কোষের জিন গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে প্রোটিন ও লাইসোজাইম উৎপন্ন হতে পারে না। ফলে ভাইরাল DNA-কে বেষ্টন করে ক্যাপসিড আবরণী তৈরী হতে পারে না। এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইম ব্যাকটেরিয়ার DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে দেয়। ইন্ট্রিগ্রেজ এনজাইম ভাইরাল DNA-কে ব্যাকটেরিয়াল DNA-এর কাটা অংশের সাথে যুক্ত করে দেয়। সংযুক্ত ভাইরাস DNA-কে প্রোফায বলে।

৪। প্রোফাযের সংখ্যা বৃদ্ধিঃ প্রোফায ব্যাকটেরিয়ার জিনোমের সাথে যুক্ত হয়ে বার বার বিভাজিত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষে সঞ্চারিত হয়। এ ধরনের ফাযকে লাইসোজেনিক ফায বা টেম্পারেট ফায বলে। ইহা লাইটিক চক্রে প্রবেশ করতে পারে।

লাইসোজেনিক ভাইরাস মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীকে আক্রমণ করতে পারে। যেমন- Herpes simplex ভাইরাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *