ধানের লিফ ব্লাইট মহামারী হলে কী কী বিপর্যয় হবে ।। Epidemic Disaster of leaf blight

১। খাদ্য অভাবঃ ধানের লিফ ব্লাইট রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে ধানের ফলন কমে যাবে। ধান চাষ অনেক কমে যাবে। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ হবে না। দেশে চরম খাদ্য অভাব দেখা দিবে।

২। অর্থনৈতিক ধ্বসঃ দেশে ধানের রোগ মহামারী রুপ নিলে অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিবে। পারিবারিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ফলে অর্থনীতি ধ্বসে যাবে।

৩। কৃষি বিপর্যয়ঃ ধানের লিফ ব্লাইট রোগ মহামারী আকার ধারণ করলে ধান এবং অন্যান্য ফসল চাষে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নির্দিষ্ট এলাকায় ১-৩ বছর ধানের চাষ বন্ধ রাখা হবে। ফলে কৃষি বিপর্যয় দেখা দিবে।

৪। কৃষি পরিবারের অসন্তোষঃ ধানের রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে ধানের ফলন কমে যাবে। ধানের উৎপাদন কমে যাবে। ধান চাষ বন্ধ রাখা হবে। এতে কৃষি পরিবার গুলো আর্থিক সংকটে পড়বে। ফলে জনবহুল কৃষি পরিবার গুলোতে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিবে।

৫। বনায়ন বিপর্যয়ঃ ধানের রোগের সাথে অন্যান্য উদ্ভিদের রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রোগ সংক্রমণের কারণে বৃক্ষ রোপন অভিযান বাঁধাগ্রস্ত হবে। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী বন্ধ হতে পারে। ফলে বনায়ন বিপর্যয় ঘটবে।

৬। বিদেশে থেকে খাদ্য আমদানীঃ মহামারীর কারণে ধানের উৎপাদন কমে যাবে। ধান চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে খাদ্য অভাব দেখা দিবে। খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হবে।

৭। পণ্য রপ্তানী বন্ধঃ মহামারীর কারণে দেশে এবং পাশর্^বর্তী দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। বিভিন্ন পণ্যের সাথে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিদেশে পণ্য রপ্তানী বন্ধ হয়ে যাবে।

৮। শিল্প উৎপাদন বন্ধঃ শিল্পের কাঁচামাল হলো কৃষি পণ্য। ধানের মহামারীর কারণে শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাপক ভাবে বাঁধাগ্রস্ত হবে। ফলে কাঁচামালের অভাবে শিল্প উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৯। বেকারত্ব বৃদ্ধিঃ মহামারীর কারণে ধান উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যান্য কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। দেশী এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিবে। শিল্প উৎপাদন কমে যাবে। ফলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে।

১০। আগাছার প্রাদুর্ভাবঃ মহামারীর কারণে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আগাছাগুলো স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আগাছা প্রচুর পরিমাণ বীজ উৎপন্ন করবে। এতে আগাছার প্রাদুর্ভাব ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *