জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের সুষম বন্টনকে প্রতিসাম্যতা বলে।
(i) অপ্রতিসম্য (Asymmetry)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বা অক্ষ বরাবর ভাগ করে দু’টি সমান অংশ পাওয়া না গেলে তাকে অপ্রতিসম্য বলে। যেমন- শামুক (Pila globosa), অ্যামিবা (Amoeba proteus), স্পঞ্জিলা (Spongilla proliferens), স্পঞ্জ (Cliona celata) প্রভৃতি।
(ii) দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসম্য (Bilaterally symmetrical)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বরাবর ভাগ করে দু’টি সমান অংশ পাওয়া গেলে তাকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম্য বলে। এদের শ্রেণীতাত্তি¡ক ধাপ হলো বাইলেটারিয়া। Platyhelminthes, Arthropoda I Chordata পর্বের প্রাণীরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম্য। যেমন- মানুষ (Homo sapiens), তেলাপোকা (Periplaneta americana), ব্যাঙ (Duttaphrynus melanostictus), প্রজাপতি (Pieris brassicae), ইঁলিশ (Tenualosa ilisha), কবুতর (Columba livia), যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica) প্রভৃতি।
(iii) দ্বি-অরীয় প্রতিসম্য (Biradial symmetrical)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে অক্ষ বরাবর লম্বালম্বি ভাবে ভাগ করে দু’টি সমান অংশ পাওয়া গেলে তাকে দ্বিঅরীয় প্রতিসম্য বলে। এক্ষেত্রে ছেদন তল দু’টি সমকোণে থাকে বলে চারটি সমান অংশ পাওয়া যায়। এরুপ প্রতিসম্যকে Tetramerous symmetry বলে। যেমন- Anthozoa, Ctenophora, Ceoloplana প্রভৃতি।
(iv) অরীয় প্রতিসম্য (Radial symmetrical)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বরাবর ভাগ করে দুইয়ের বেশি সমান অংশ পাওয়া গেলে তাকে অরীয় প্রতিসম্য বলে। এদের শ্রেণীতাত্তি¡ক ধাপ হলো রেডিয়াটা। যেমন-হাইড্রা (Hydra vulgaris), জেলি ফিস (Aurelia aurita), সী অ্যানিমন (Metridium dianthus), সমুদ্র তাঁরা (Astropecten auranciacus).
(v) গোলীয় প্রতিসম্য (Spherical symmetry)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বরাবর বার বার ভাগ করলে প্রতিবারই সমান দু’টি অংশ পাওয়া গেলে তাকে গোলীয় প্রতিসম্য বলে। যেমন- Volvox globactor, Radiolaria (Acrosphaera trepanata), Haliozoa (Gymnosphaera albida) প্রভৃতি।