ঘাস ফড়িং-এর রক্ত দুটি উপাদান দ্বারা গঠিত। প্লাজমা ও হিমোসাইট।
(i) প্লাজমা বা রক্তরসঃ রক্তরস হলো বর্ণহীন তরল পদার্থ। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে না। এতে প্রোটিন, শর্করা, গিøসারল, অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, জৈব এসিড, এস্টার, স্টেরল, ট্রাইগিøসারাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, নাইট্রোজেন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফেট, হিমোজ্যান্থিন, ট্রিহ্যালোজ, ডাইগিøসারাইড, টাইরোসিন, ট্রাইহ্যালেস প্রভৃতি থাকে।
(ii) হিমোসাইট বা রক্তকণিকাঃ ঘাস ফড়িং-এর রক্তে শুধুমাত্র শ্বেত রক্তকণিকা বা হিমোসাইট (১৫,০০০-৬০,০০০) থাকে। এতে লোহিত রক্তকণিকা থাকে না। হিমোসাইটকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রোহিমোসাইট, ট্রানজিশনাল হিমোসাইট ও বৃহদাকার হিমোসাইট। প্রোহিমোসাইট ৬-৯ mµ (২৩%), ট্রানজিশনাল হিমোসাইট ৯-১৯ mµ (৬৮%) ও বৃহদাকার হিমোসাইট ১৯-২৩ mµ (৯%)।
হিমোলিম্ফের কাজ
(i) হিমোলিম্ফ পানির আধার হিসেবে কাজ করে। এতে ৯২% পানি থাকে।
(ii) ইহা খাদ্যসার, খনিজলবণ, হরমোন রেচন পদার্থ পরিবহন করে।
(iii) দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
(iv) ডানা সঞ্চালন ও খোলস মোচনে সাহায্য করে।
(v) হিমোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ হয়।
(vi) হিমোসাইট রক্ত জমাট বাঁধা এবং দেহের ক্ষত নিরাময় করে।
(vii) হিমোসাইট মিউকোপলিস্যাকারাইড নিঃসরণ করে যোজক কলা গঠন করে।