ঘাস ফড়িং-এর শ্বসনতন্ত্র । Grasshopper respiratory system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাস ফড়িং-এর শ্বসনতন্ত্রকে ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলা হয়। ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালী এবং এর শাখা-প্রশাখা গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে যে বিশেষ ধরনের শ্বসনতন্ত্র গঠন করে তাকে ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলে। ট্রাকিয়ার শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে পরিবেশ হতে অক্সিজেন দেহকোষে প্রবেশ করে এবং দেহকোষ হতে CO2 একই পথে বাইরে নির্গত হয়। ট্রাকিয়ালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ হলো- শ্বাসরন্ধ্র,  ট্রাকিয়া ও  ট্রাকিওল।

১। স্পাইরাক্ল বা শ্বাসরন্ধ্রঃ দেহের উভয় পাশে প্লিউরায় ১০ জোড়া শ্বাসরন্ধ্র থাকে। এদের মধ্যে ২ জোড়া বক্ষ অঞ্চলে এবং ৮ জোড়া উদর অঞ্চলে অবস্থিত। প্রতিটি স্পাইরাক্ল ডিম্বাকার ছিদ্র বিশেষ। স্পাইরাক্ল গুলো পেরিট্রিম দ্বারা আবৃত থাকে। ছিদ্র গুলোর মুখে রোমযুক্ত ছাঁকনী যন্ত্র থাকে। রোমযুক্ত ছাঁকনী যন্ত্র ধুলাবালি, জীবাণু ও পানি প্রবেশে বাধা দেয়।

২। ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীঃ ট্রাকিয়া হলো ঘাস ফড়িং-এর প্রধান শ্বসন অঙ্গ। ইহা সুক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক ও শাখা-প্রশাখাযুক্ত। ট্রাকিয়ার প্রাচীর তিন স্তরবিশিষ্ট। বাইরের এপিডার্মিস, মাঝের এপিথেলিয়াল এবং ভিতরের ইন্টিমা। ট্রাকিয়ার ভিতরে ইন্টিমা সর্পিলাকার বা আংটির মতো বলয় সৃষ্টি করে। এই বলয় গুলোকে টিনিডিয়া বলে। টিনিডিয়া থাকায় ট্রাকিয়া কখনো চুপসে যায় না। প্রধান প্রধান ট্রাকিয়া গুলো অনুদৈর্ঘ্য ও অনুপ্রস্থ ভাবে বিন্যন্ত হয়ে ৩ জোড়া ট্রাকিয়ালকান্ড গঠন করে। এ গুলো হলো পৃষ্ঠীয় অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়ালকান্ড, পার্শ্বীয় অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়ালকান্ড ও অংকীয় অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়ালকান্ড। ট্রাকিয়ার মাধ্যমে সমস্ত দেহে বায়ু প্রবাহ ঘটে।

৩। ট্রাকিওলঃ ট্রাকিয়া বিভক্ত হয়ে যে সুক্ষ্ম শাখা সৃষ্টি করে তাকে ট্রাকিওল বলে। ইহা এককোষী, ইন্টিমা ও টিনিডিয়াবিহীন এবং শাখা-প্রশাখাবিহীন। এর ব্যাস ১ mµ। ইহা তরল দ্বারা পুর্ণ থাকে। এই তরলে অক্সিজেন ও CO2 এর ব্যাপন ঘটে। ট্রাকিয়ার কিছু শাখা প্রসারিত হয়ে বায়ুথলী গঠন করে। বায়ুথলীর মধ্যে বায়ু জমা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *