প্রোটিন পরিপাক পদ্ধতি আলোচনা। Protein digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মুখবিবরে পরিপাকঃ  মুখবিবরে প্রোটিন পরিপাককারী কোন এনজাইম থাকে না। লালারসে বিদ্যমান মিউসিন খাদ্যকে পিচ্ছিল করে।

২। পাকস্থলীতে পরিপাক

(i) নিস্ক্রিয় পেপসিনোজেন HClএর প্রভাবে সক্রিয় পেপসিনে পরিনত হয়। পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙ্গে প্রোটিওজ পেপটোনে পরিনত করে।

(ii) জিলেটিনেজ এনজাইম জিলেটিনকে ভেঙ্গে পেপটোন পলিপেপটাইড উৎপন্ন করে।

৩। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাক

(i) নিস্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন এন্টারোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিনত হয়। ট্রিপসিন পেপটোনকে ডাইপেপটাইড পলিপেপটাইডে পরিনত করে।

(ii) নিস্ক্রিয় কাইমোট্রিপসিনোজেন ট্রিপসিন এনজাইমের সহায়তায় সক্রিয় কাইমোট্রিপসিনে পরিনত হয়। কাইমোট্রিপসিন দুধের কেসিনকে ভেঙ্গে প্যারাকেসিনে পরিনত করে।

(iii) ইলাস্টেজ এনজাইম ইলাস্টিনকে ভেঙ্গে পেপটাইডে রুপান্তরিত করে।

(iv) কোলাজিনেজ এনজাইমের কার্যকারীতায় কোলাজেন হতে পেপটাইড উৎপন্ন হয়।

৪।  ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক রসে পরিপাক

(i) অ্যামাইনো পেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিডে রুপান্তরিত করে।

(ii) প্রোলিডেজ এনজাইম পেপটাইডকে ভেঙ্গে প্রোলিনে পরিনত করে।

(iii) ট্রাইপেপটাইডেজ এনজাইমের প্রভাবে ট্রাইপেপটাইড হতে ডাইপেপটাইড অ্যামাইনো এসিড উৎপন্ন হয়

(iv) ডাইপেপটাইডেজ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত করে।

  প্রোটিন একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় প্রোটিন পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়। অ্যামাইনো এসিড দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ অ্যামাইনো এসিড পরিশোষণ করে। পরে অ্যামাইনো এসিড মিলে প্রোটিন গঠন করে। এই প্রোটিনই আমাদের দেহ গঠন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *