জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব । প্রোটিন পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রোটিন একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় প্রোটিন পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়। অ্যামাইনো এসিড দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ অ্যামাইনো এসিড পরিশোষণ করে। পরে অ্যামাইনো এসিড মিলে প্রোটিন গঠন করে। এই প্রোটিন জীবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। নিচে প্রোটিন পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।

১। দেহ গঠনঃ প্রোটিন মানব দেহের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। তন্তুজ প্রোটিন দেহের বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যে সংযোগ সাধন করে। কোলাজেন প্রোটিন দেহের ত্বক, টেনডন, অস্থি, তরুনাস্থি প্রভৃতি গঠন করে। ইহা অস্থির সাথে পেশির সংযোগ রক্ষা করে। ক্যারোটিন প্রোটিন চুল নখ গঠন করে। প্রোটিন পরিপাকের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে। 

২। সঞ্চিত খাদ্য হিসেবেঃ  প্রোটিন পরিপাকের পর জীবদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।

৩। বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবহণঃ প্রোটিন সংশ্লেষনের মাধ্যমে উঘঅঅণুতে সংরক্ষিত বংশগত তথ্যাবলী প্রকাশিত হয়। হিস্টোন প্রোটিন ক্রোমোজোমের স্থায়িত্ব রক্ষা করে, নিউক্লিক এসিডকে কার্যকর করে এবং জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ইহা বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বংশানুক্রমে স্থানান্তর করে।

৪। দৈহিক বৃদ্ধিঃ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন অত্যাবশ্যক। প্রোটিনের অভাবে মানুষ বামনাকৃতি ধারণ করে। ইহা জীবের মেধার সুষ্ঠ বিকাশ ঘটায়।

৫। রোগ প্রতিরোধঃ প্রোটিন জীবদেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। বর্তমানে ক্যান্সার রোগের কারণ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারফেরণ নামক বিশেষ প্রোটিন ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। প্রোটিনের ঘাটতি হলে দেহ সহজেই রোগাক্রান্ত হয়। তাই দেহে প্রোটিন পরিপাক হওয়া প্রয়োজন।

৬। শক্তি উৎপাদনঃ প্রোটিন দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে। এর অভাবে দেহে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয় এবং দেহ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। একারণে জীবদেহে প্রোটিন পরিপাক অতীব জরুরী।

৭। অঙ্গ বিকৃতিরোধঃ প্রোটিন দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আকারআকৃতি সুনির্দিষ্ট করে। স্নায়বিক দুর্বল্যতারোধ করে। ত্বককে মসৃণ করে। চুল পড়া বন্ধ করে।

৮। পরিবহণ কাজঃ  হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন দেহে অক্সিজেন কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণ করে। ইহা কতিপয় আয়নও পরিবহণ করে।

৯। কোষ ঝিল্লি গঠনঃ প্রোটিন জীবের প্লাজমামেমব্রেন, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণুর ঝিল্লি প্রভৃতি গঠন করে।

১০। হরমোন উৎপাদনঃ বিভিন্ন ধরণের হরমোন উৎপাদনে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।

১১। ক্রিয়াবিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণঃ  দেহের বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়াবিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে প্রোটিন।

জীবদেহের প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন। প্রোটিনের অভাবে জীবের দেহ গঠিত হয় না। এর অভাবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়। দেহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। দেহকে সুস্থ, সবল রোগমুক্ত রাখার জন্য পরিমাণ মত প্রোটিন গ্রহণ করা দরকার। দেহে প্রোটিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হলে দেহের গঠন সুঠাম এবং ত্বক মসৃন হয়। কিন্তু দেহে প্রোটিনের ঘাটতি হলে দেহ দুর্বল হয়ে যাবে এবং অতি অভাবে জীব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *