Myocardial অর্থ হৃৎপেশি এবং infarction অর্থ অপর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহের কারণে টিস্যুর মৃত্যু। ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে হৃৎপেশি ধ্বংস বা মারা যায় এবং মারাত্বক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, একে হার্ট অ্যাটাক বলে।
হার্ট অ্যাটাকের কারণ
(i) ধমনী পথে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া।
(ii) ধমনীতে প্লাক বা অ্যাথেরোমা হওয়া।
(iii) উচ্চ ক্যালরী বা চর্বি যুক্ত খাবার খাওয়া।
(iv) ধমনীতে কোলেস্টেরল, ফ্যাটি এসিড ও শ্বেত রক্তকণিকা জমে গেলে।
(v) হৃদটিস্যুর কোষ ক্ষতিগ্রস্থ বা মারা গেলে।
(vi) দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ।
(vii) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ হলে।
(viii) অধিক বয়স হওয়া।
(ix) ধুমপান করা।
(x) অণুচক্রিকার কার্যকারীতা বেড়ে গেলে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
(i) বুকে তীব্র ব্যথা, অসহ্য চাপ, মোচড়ান, আছড়ান প্রভৃতি।
(ii) চোয়াল, গলা, ঘাড়, হাত ও পিঠে ব্যথা অনুভূতি হয়।
(iii) শীতল ঘাম ঝরা।
(iv) ধমনীর গহŸরে কোলেস্টেরল জমে শক্ত প্ল্যাক গঠন করে এবং প্লাকে রক্তকণিকা জমাট বাঁধে।
(v) অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয়।
(vi) ঘন ঘন নিঃশ্বাস এবং দম বন্ধ হয়।
(vii) মাথা ঝিমঝিম করে।
(viii) রক্তচাপ কমে যায়।
(ix) রোগী ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
(x) পুরুষের বাম বাহু এবং নারীদের দু’বাহুতে ব্যথা।
(xi) বমি বমি ভাব ও ক্ষুধামন্দা।
(xii) ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে এবং শক্তিহীন মনে হয়।
(xiii) পক্ষঘাত রোগ হয়।
(xiv) রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ
(i) সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া।
(ii) সুষম এবং হৃৎবান্ধব খাবার খাওয়া।
(iii) শাক-সবজি, ফল ও সালাদ খাওয়া।
(iv) স্থুলতা প্রতিরোধ করা।
(v) ধুমপান ও মদপান পরিহার করা। জীবনাভ্যাসে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ রাখতে হবে।
(vi) নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
(vii) কোলেস্টেরল বা উচ্চ চর্বি পরিহার করা।
(viii) তেল, চর্বি ও মিষ্টি কম খাওয়া।
(ix) আলগা লবণ না খাওয়া।
(x) দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ পরিহার করা।
(xi) রোগীর পর্যাপ্ত আলো বাতাস নিশ্চিত করা।
(xii) গিলা, কলিজা, মগজ এবং গরু ও মহিষের লাল মাংস না খাওয়া।
(xiii) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
(xiv) জিহŸার নিচে গিøসারিন ট্রাই নাইট্রাইড ব্যবহার করা।
(xv) রোগীকে অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট খাওয়ানো।
(xvi) রোগীকে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG), ইকোকার্ডিওগ্রাম, করোনারী অ্যানজিওগ্রাম, চেস্ট রেডিওগ্রাম, MRI প্রভৃতি করতে হবে।