শ্বসনতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন-
(i) প্রশ্বাস ক্রিয়ায় ফুসফুস বায়ু দ্বারা পূর্ণ হলে ফুসফুসের প্রাচীরের টান গ্রাহক কোষ উদ্দীপিত হয়। এই উদ্দীপনা ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে পৌছায় এবং এই কেন্দ্রের কার্যকারীতা প্রশমিত করে দেয়। ফলে প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিঃশ্বাসের সময় ফুসফুস সংকুচিত থাকে বলে প্রাচীরের টান গ্রাহক কোষ উদ্দীপিত হয় না। এতে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র কার্যকরী থাকে এবং প্রশ্বাস ক্রিয়া ঘটে। ফুসফুসের এরুপ সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে হেরিং ব্রয়ার প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
(ii) নাসিকা গহ্বরের মিউকাস পর্দার উদ্দীপনা অলফ্যাক্টরী স্নায়ুর মাধ্যমে হাঁচি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
(iii) বহিরাগত কোন পদার্থ ট্রাকিয়ায় প্রবেশ করলে মিউকাস পর্দা উদ্দীপিত হয়ে ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে কাশি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
(iv) খাদ্য গলাধঃকরণের সময় গলবিল প্রাচীরের উদ্দীপনা গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ুর মাধ্যমে গ্যাগ প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
(v) দেহের ত্বক, পেশি, ভিসেরা, অস্থিসন্ধি প্রভৃতি হতে সৃষ্ট উদ্দীপনা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে।