১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী আর. হোলি (R. Holley)-এর ক্লোভার লিফ বা লবঙ্গ পত্র মডেল অনুসারে tRNA অণু ৫টি বাহু নিয়ে গঠিত।
(i) গ্রাহক বাহুঃ tRNA-এর ৩ ও ৫ প্রান্ত পাশাপাশি অবস্থান করে গ্রাহক বাহু গঠন করে। এতে ৭ জোড়া ক্ষারক থাকে। এছাড়া ৩ প্রান্তে ৪টি অতিরিক্ত অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড আছে। ৩ প্রান্তে – CCA ক্রম এবং চতুর্থটি A অথবা G থাকে। CCA ক্রমকে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্তির স্থান বলা হয়। এই স্থানে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্ত হয়। ৫ প্রান্তে G অথবা C থাকে।
(ii) D বাহুঃ tRNA-এর দ্বিতীয় বাহু হলো D বাহু। ইহা ১৫-১৮টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। D বাহু ৩-৪ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। D বাহুর ফাঁসকে ফাঁস-১ বা Dihydrouridine বা D ফাঁস বলে।
(iii) অ্যান্টিকোডন বাহুঃ tRNA-এর তৃতীয় বাহুকে অ্যান্টিকোডন বাহু বলে। অ্যান্টিকোডন বাহু ৫ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এর ফাঁসকে ফাঁস-২ বলে। ফাঁস বা লুপের মাঝে ৩টি নিউক্লিওটাইড অ্যান্টিকোডন গঠন করে। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় ইহা mRNA এর পরিপূরক কোডন হিসেবে কাজ করে।
(iv) পরিবর্তনশীল বাহুঃ পরিবর্তনশীল বাহু দুই ধরনের। কান্ডহীন এবং কান্ডযুক্ত বাহু। কান্ডহীন বাহুতে ৪-৫টি বেস এবং একটি ফাঁস থাকে। কান্ডযুক্ত বাহুতে ১৩-২১টি বেস এবং একটি ফাঁস থাকে।
(v) T বাহুঃ T বাহুতে কান্ড এবং ফাঁস উভয়ই আছে। এর কান্ড ৫ জোড়া ক্ষারক এবং ফাঁস ৭টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। T বাহুতে একটি রাইবোসোম স্থান থাকে। এর লুপে রাইবোথাইমিন, সিউডোইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে।
প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় tRNA অ্যামাইনো এসিডকে mRNA এর কাছে বহন করে নিয়ে যায়।