১। গ্যামিটের মিলনঃ দুটি গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে ছত্রাকের যৌন জনন ঘটে। ইহা তিনটি উপায়ে সম্পন্ন হয়। গ্যামিটের মিলনে যৌনজনন হলো-
(i) আইসোগ্যামাসঃ আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একই প্রকৃতির দুটি গ্যামিটের মিলনকে আইসোগ্যামি বলে।
(ii) অ্যানাইসোগ্যামাসঃ আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির দুটি গ্যামিটের মিলনকে অ্যানাইসোগ্যামি বলে।
(iii) ঊগ্যামাসঃ যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় একটি ছোট ও সচল পংগ্যামিট অপর একটি বড় ও নিশ্চল স্ত্রীগ্যামিটের সাথে মিলিত হয় তাকে ঊগ্যামি বলে।
২। জননাঙ্গের মিলনঃ ছত্রাকের বিপরীত যৌনতা সম্পন্ন দুটি জননাঙ্গ পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং মিলিত হয়ে যৌন জনন সম্পন্ন করে। এ ক্ষেত্রে জননাঙ্গ দুটি নিজ নিজ স্বত্ত্বা হারিয়ে ফেলে। যেমন- Mucor, Rhizopus,Yeast প্রভৃতি।
৩। জননাঙ্গের সংস্পর্শঃ ছত্রাকের বিপরীত যৌনতা সম্পন্ন দুটি জননাঙ্গ পরস্পরকে স্পর্শ করে এবং স্পর্শ স্থানের প্রাচীর বিগলিত হয়ে নালীপথ সৃষ্টি করে। এই নালীপথের মধ্য দিয়ে পুংগ্যামিট স্ত্রীগ্যামিটের সাথে মিলিত হয়। এ ক্ষেত্রে জননাঙ্গ দুটি নিজ নিজ স্বত্ত্বা হারায় না। যেমন- Saprolegnia, Pythium, Phytophthora প্রভৃতি।
৪। স্পারমাটাইজেশন (Spermatization)ঃ কোন কোন ছত্রাকে স্পার্মাশিয়াম নামক পুংজনন একক গঠিত হয়। এগুলো ক্ষুদ্র, এককোষী ও এক নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। স্পার্মাশিয়া গুলো পানি, বাতাস অথবা পতঙ্গের মাধ্যমে স্ত্রী জননাঙ্গের সংস্পর্শে আসে এবং স্পর্শ স্থানের প্রাচীর বিগলিত হয়ে ছিদ্রপথ সৃষ্টি করে। এই ছিদ্র পথের মধ্য দিয়ে স্পার্মাশিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট স্ত্রী জননাঙ্গের প্রোটোপ্লাস্টের সাথে মিলিত হয়। যেমন- Puccinia.
৫। সোমাটোগ্যামি (Somatogamy)ঃ উন্নত ছত্রাকের দেহকোষ জননাঙ্গের মতো আচরণ করে এবং এদের প্রোটোপ্লাস্ট মিলিত হয়। একে সোমাটোগ্যামি বলে। সোমাটোগ্যামির ফলে ডাইক্যারিওটিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। যেমন- Aspergillus
৬। প্যারাসেক্সুয়ালিটি (Parasexuality)ঃ ছত্রাকের যৌনজননে প্লাজমোগ্যামি, ক্যারিওগ্যামি ও মায়োসিস পর্যায়ক্রমে না ঘটে অনিয়মিত ভাবে সম্পন্ন হলে তাকে প্যারাসেক্সুয়ালিটি বা বিভ্রম যৌনতা বলে। এরুপ যৌনজননকে প্যারাসেক্সুয়াল চক্র বলে।