Cycas-এর জনন । Cycas-এর যৌন জনন । Reproduction of Cycas । ড. সিদ্দিক পিাবলিকেশন্স

১। অঙ্গজ জননঃ Cycas এর কান্ডের গোড়া থেকে একপ্রকার মুকুল উৎপন্ন হয়। মুকুল কেটে অন্যত্র রোপন করলে পূর্ণাঙ্গ Cycas গাছে পরিনত হয়। এছাড়া শল্ক পত্রের অক্ষ থেকে বুলবিল সৃষ্টি হয়। বুলবিল থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়।

২। যৌন জননঃ Cycas হলো ভিন্নবাসী এবং অসমরেনুপ্রসূ উদ্ভিদ। এদের পুরুষ উদ্ভিদে পুংরেণু বা মাইক্রোস্পোর এবং স্ত্রী উদ্ভিদে স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর সৃষ্টি হয়। মাইক্রোস্পোর মাইক্রোস্পোরোফিলে এবং মেগাস্পোর মেগাস্পোরোফিলে অবস্থান করে। মাইক্রোস্পোরোফিল গুলো একত্রে পুং স্ট্রোবিলাস বা স্টামিনেট বা কোন্ গঠন করে। মেগাস্পোরোফিল গুলো স্ট্রোবিলাস গঠন না করে মুকুট গঠন করে।

(i) মাইক্রোস্পোরোফিলঃ Cycas উদ্ভিদের শীর্ষে মোচাকৃতির পুং স্ট্রোবিলাস থাকে (৫০ সেমি)। পুং স্ট্রোবিলাসের চারিদিকে অসংখ্য পুংরেণুপত্র বা মাইক্রোস্পোরোফিল থাকে। মাইক্রোস্পোরোফিলের দৈর্ঘ্য ৩-৫ সেমি এবং প্রস্থ ১২-২৩ মিমি। মাইক্রোস্পোরোফিল গুলো সর্পিলাকারে ও ঘনসন্নিবিষ্ট ভাবে সজ্জিত থাকে। ইহা চ্যাপ্টা, কাষ্ঠল এবং কলকীকার। এর গোড়া সরু এবং অগ্রভাগ চওড়া। অগ্রভাগে ত্রিভুজাকৃতির অ্যাপোফাইসিস থাকে। প্রতিটি মাইক্রোস্পোরোফিলে অসংখ্য স্পোরাঞ্জিয়া থাকে। ২-৫টি স্পোরাঞ্জিয়া মিলে সোরাস গঠন করে। স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে পুংরেণু বা মাইক্রোস্পোর উৎপন্ন করে। মাইক্রোস্পোর থেকে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। Cycas-এর শুক্রাণু লাটিমের মতো, বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং উদ্ভিদজগতের সবচেয়ে বড় শুক্রাণু।

(ii) মেগাস্পোরোফিলঃ Cycas-এর মেগাস্পোরোফিল গুলো পাতার ন্যায়, রোমশ যুক্ত এবং বাদামী বর্ণের। এরা একত্রে মুকুট গঠন করে। মেগাস্পোরোফিলের উপরের অংশকে পিনিউল বলে। এর গোড়ায় ২-৪ জোড়া বৃহৎ এবং লাল বর্ণের ডিম্বক থাকে। ডিম্বকসহ মেগাস্পোরোফিলকে সাপের ফণার মতো দেখায়। একে সর্পমণি বলে (বাজারে সর্পমণি নামে বিক্রি করতে দেখা যায়)। ডিম্বকের ভিতরে স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ থাকে। স্ত্রীরেণু মাতৃকোষগুলো মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর উৎপন্ন করে। স্ত্রীরেণু হতে আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয়। আর্কিগোনিয়ামের ভিতরে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। আর্কিগোনিয়াম হলো সাইকাসের আদি বৈশিষ্ট্য।

(iii) নিষেকঃ Cycas-এর পুংরেণু বায়ুবাহিত হয়ে স্ত্রী উদ্ভিদের ডিম্বকে পতিত হয়। পুংরেণু থেকে পরাগনালিকা বা পোলেন টিউব সৃষ্টি হয়। পরাগনালিকার ভিতরে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট বীজে পরিনত হয়। বীজ রসালো, কমলা বা লাল বর্ণের। বীজ অংকুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।

সাইকাসের মেগাস্পোরোফিলের গোড়ায় দুই পাশে ডিম্বক সাজানো থাকে। ডিম্বকসহ মেগাস্পোরোফিলকে সাপের ফণার মতো দেখায়। একে সর্পমণি বলে। বিভিন্ন স্থানে সর্পমণি সর্ব রোগের ওষুধ হিসেবে বিক্রি হয়। আসলে এর কোন ওষুধি গুণ নাই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত বা বঞ্চিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *