লুন্ডিগার্ড । লুন্ডিগার্ডের সাইটোক্রোম পাম্প মতবাদ ।। Lundegarth theory

১৯৩৩ সালে বিজ্ঞানী লুন্ডিগার্ড ও তাঁর সহকর্মী বার্সাট্রম উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশোষণ সম্পর্কে যে মতবাদ প্রবর্তন করেন তাকে লুন্ডিগার্ডের মতবাদ বলে। এই মতবাদ অনুসারে সাইটোক্রোম নামক লৌহ খনিজ লবণ পরিশোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে বলে একে সাইটোক্রোম পাম্প মতবাদও বলা হয়। তাঁরা লক্ষ্য করেন যে, উদ্ভিদকে পানি থেকে লবণের দ্রবণে রাখলে ঐ উদ্ভিদের শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। তাঁরা এই বর্ধিত শ্বসনকে অ্যানায়ন-শ্বসন বা লবণ-শ্বসন নামে অভিহিত করেন।

লুন্ডিগার্ডের সাইটোক্রোম পাম্প মতবাদ অনুসারে প্রতিটি কোষের দুইটি তল থাকে। বাইরের তল ও ভিতরের তল। কোষের ভিতরের তলে ডিহাইড্রোজিনেজ বিক্রিয়ায় প্রোটন (H+) ও ইলেকট্রন (e) উৎপন্ন হয়। প্রোটন (H+) সরাসরি কোষের বাইরের তলে চলে আসে এবং অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে পানি (H2O) উৎপন্ন করে। অপরদিকে, ইলেকট্রন (e) সাইটোক্রোম চেইনে প্রবেশ করে। কোষের ভিতরের তলে সাইটোক্রোম ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। ইলেকট্রন (e) সাইটোক্রোম চেইনে প্রবেশ করার পর চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে কোষের বাইরের তলে আসে। কোষের বাইরের তলে সাইটোক্রোম ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। জারিত সাইটোক্রোম কোষ ঝিল্লিতে অবস্থিত অ্যানায়নের (A) সাথে যুক্ত হয়ে ‘সাইটোক্রোম-অ্যানায়ন’ যৌগ গঠন করে। অ্যানায়ন (A) সাইটোক্রোম চেইনের মাধ্যমে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে কোষের ভিতরের তলে আসে এবং জমা হতে থাকে। কোষের ভিতরের তলে অ্যানায়নের (A) আধিক্যের কারণে একটি বৈদ্যুতিক-বিভব পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। এই বৈদ্যুতিক-বিভব পার্থক্যের সমতা আনার জন্য কোষের বাইরের তল হতে ক্যাটায়ন (K+) সরাসরি কোষের ভিতরের তলে প্রবেশ করে। পরে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন মিলিত হয়ে কোষের খনিজ লবণের চাহিদা পুরণ করে।

Fe++ (2A) – e + A → Fe+++ (3A)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *