প্রস্বেদন ।। প্রস্বেদনের উপকারী ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। পানি শোষণঃ প্রস্বেদনের মাধ্যমে পানি উদ্ভিদদেহের বাইরে বেরিয়ে যায় এবং পানি ঘাটতি সৃষ্টি হয়। ফলে মূল দ্বারা পানি শোষিত হয়।

২। পানি সরবরাহঃ প্রস্বেদনের কারণে পাতা ও কান্ডের সর্বত্র পানি সরবরাহ সম্ভব হয়।

৩। খাদ্য পরিবহনঃ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে খাদ্য পরিবাহিত হয়।

৪। কোষ বিভাজনঃ প্রস্বেদন কোষ বিভাজনে পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করে।

৫। দৈহিক বৃদ্ধিঃ প্রস্বেদন উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।

৬। রস উত্তোলনঃ প্রস্বেদনের কারণে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়। এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির সমতা আনার জন্য রস উপরের দিকে ওঠে।

৭। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক ক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়। প্রস্বেদনের সময় এই তাপ বাইরে নির্গত হয়। প্রস্বেদন না ঘটলে উদ্ভিদ প্রচন্ড তাপে পুড়ে মারা যেত।

৮। অভিস্রবণঃ প্রস্বেদনের কারণে কোষরসের ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে অভিস্রবণ হার বৃদ্ধি পায়।

৯। ছত্রাকের আক্রমণ রোধঃ প্রস্বেদনের কারণে পাতার পৃষ্ঠে লবণ জমা হয়। এই লবণ ছত্রাকের আক্রমণকে প্রতিরোধ করে।

১০। শক্তি নির্গমণঃ অধিকাংশ তাপশক্তি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় নির্গত হয়।

১১। পুষ্প পরিস্ফুটন ও ফল সৃষ্টিঃ প্রস্বেদনের কারণে কোষে রসস্ফীতি রক্ষা পায় এবং পুষ্প প্রস্ফুটন ও ফল সৃষ্টি হয়।

১২। ফলের মিষ্টিত্বঃ প্রস্বেদন ফল সৃষ্টিতে সাহায্য করে এবং ফলের মিষ্টিত্ব বাড়ায়।

১৩। বৃষ্টিপাতঃ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় নির্গত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিনত হয়। যে এলাকায় গাছ পালা বেশি সেখানে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।

১৪। খনিজ লবণ পরিশোষণঃ প্রস্বেদনের কারণে খনিজ লবণ উদ্ভিদের মূলের নিকটবর্তী হয় এবং সহজে পরিশোষিত হতে পারে।

১৫। সালোকসংশ্লেষণঃ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পানি প্রস্বেদনের মাধ্যমে সরবরাহ হয়।

১৬। পানিসাম্য রক্ষাঃ প্রস্বেদন উদ্ভিদদেহে পানিসাম্যতা রক্ষা করে।

১৭। গ্যাসীয় বিনিময়ঃ প্রস্বেদনের সময় পরিবেশ থেকে CO2 পত্ররন্ধ্র দিয়ে উদ্ভিদদেহে প্রবেশ করে এবং O2 বের হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *