১। আলোঃ সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশ গ্রহণ করে, পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত করে এবং খাদ্য তৈরীতে সাহায্য করে। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধি পায়। তবে আলোর পরিমাণ অধিক হলে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়। আলো ১০০ ফুট ক্যান্ডল থেকে শুরু করে ৩০০০ ফুট ক্যান্ডল পর্যন্ত বাড়িয়ে সালোকসংশ্লেষণকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা যায়। আলো অবিরাম হলে ১০–১২ ঘন্টায় সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পর্যায়ে পৌছানো সম্ভব। সালোকসংশ্লেষণে বেগুনি, নীল, কমলা ও লাল আলো বেশি ব্যবহার হয়। লাল ও নীল আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি। তবে একক আলো হিসেবে লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি। বিজ্ঞানী হোভার (Hoover,) এবং গ্যাব্রিলসেন (Gabrielsen, 1948) প্রমাণ করেন, লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ অধিক ঘটে এবং সবুজ আলোতে কম ঘটে।
২। অক্সিজেনঃ সালোকসংশ্লেষণে অক্সিজেন হলো একটি উপজাত পদার্থ। বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে গেলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। এর পরিমাণ অধিক হলে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।
৩। পানিঃ সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হলো পানি। ইহা রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করে। পানি ভেঙ্গে O2 এবং NADPH+H+ উৎপন্ন হয়।
৪। কার্বন ডাই অক্সাইডঃ CO2 হলো শর্করা তৈরীর প্রধান কাঁচামাল। বায়ুমন্ডলে CO2 এর পরিমাণ ০.০৪%। এর মধ্যে ১% CO2 সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়। ক্লোরোপ্লাস্টে পানি ও CO2 এর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে শর্করা উৎপন্ন হয়। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত CO2 এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধি পায়। তবে CO2 এর পরিমাণ অধিক হলে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।
৫। তাপমাত্রাঃ সালোকসংশ্লেষণের একটি বিশেষ প্রভাবক হলো তাপমাত্রা। সালোকসংশ্লেষণের অপটিমাম তাপমাত্রা হলো ২২–৩৫ ডিগ্রী সে। তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রী সে এর উপরে হলে অধিকাংশ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি ১০ ডিগ্রী সে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সালোকসংশ্লেষণের হার প্রায় ২.২–২.৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। কতিপয় ব্যাকটেরিয়া এবং উঞ্চ প্রস্রবণের নীলাভ–সবুজ শৈবাল ৭০ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণ চালাতে পারে।
৬। খনিজ পদার্থঃ ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহ ক্লোরোফিল তৈরী করে। এ সব খনিজ পদার্থের অভাব হলে ক্লোরোফিল তৈরী কমে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
৭। ভিটামিনঃ শৈবাল এবং অন্যান্য উদ্ভিদে ভিটামিন সালোকসংশ্লেষণকে সচল রাখে।
৮। রাসায়নিক পদার্থঃ বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইড, ক্লোরোফর্ম, মিথেন, বিষাক্ত গ্যাস প্রভৃতির উপস্থিতি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় বা বন্ধ করে দেয়।