ফটোরেসপিরেশন কী ।। আলোক শ্বসন কী ।। Photorespiration ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে আলোর উপস্থিতিতে অক্সিজেন গ্রহণ ও CO2 নির্গত হয় এবং ফসফোগ্লাইকোলেট উৎপন্ন হয় তাকে ফটোরেসপিরেশন বা আলোক শ্বসন বলে। ক্যালভিন চক্র চলাকালে তীব্র আলো ও উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হলে ফটোরেসপিরেশন ঘটে। তীব্র আলো ও অধিক তাপমাত্রায় (৩০ ডিগ্রী সে এর বেশি) পানি সংরক্ষণের জন্য পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাতায় CO2 এর পরিমাণ কমে যায়। এ সময় রাইবুলোজ ১, ৫ বিসফসফেট CO2 এর পরিবর্তে O2 এর সাথে বিক্রিয়া করে ২-কার্বন বিশিষ্ট গ্লাইকোলেট উৎপন্ন করে। তাই এই চক্রকে গ্লাইকোলিক এসিড চক্র বা C2 চক্র বলা হয়। এই চক্রাকার গতিপথকে ফটোসিনথেটিক কার্বন অক্সিডেটিভ (PCO) চক্রও বলা হয়। গ্লাইকোলেট কোষের পারঅক্সিজোমে প্রবেশ করে এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কিছু দ্রব্য উৎপন্ন করে। এই দ্রব্য গুলো মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করে এবং বিক্রিয়া করে CO2 উৎপন্ন করে। তবে বান্ডলসীথ কোষে পর্যাপ্ত CO2 থাকায় আলোক শ্বসন ঘটে না। ফটোরেসপিরেশন C3 উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ হার ২৫% পর্যন্ত কমাতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় দুইটি অ্যামাইনো এসিড গ্লাইসিন ও সেরিন উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানী কাজাকি (Kazaki) এবং টাকেবা (Takeba, ১৯৯৬)-র মতে, অধিক আলোক তীব্রতা, তাপমাত্রা ও অক্সিজেনের ঘনত্বে আলোক জারণের ফলে সালোকসংশ্লেষণের যে ক্ষতি হতে পারত আলোক শ^সন উদ্ভিদকে তা থেকে রক্ষা করে। অনেক সময় আলোক শ^সনকে পারঅক্সিসোমাল শ^সন বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *