১। হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ায় ধানের উচ্চ ফলনশীল জাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল ধানের ফলন হলো- ইরি-৮ একর প্রতি ৯০-১০০ মণ, ইরি-৫ একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ এবং ইরিশাইল একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। উচ্চ ফলনশীল ধান হলো ইরি-২০, ইরি-২৮, ইরি-২৯ ইত্যাদি। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে দেশের খাদ্য অভাব পূরণ হয়েছে। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হচ্ছে না। ফলে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।
২। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট BR-২০ এবং BR-৩ এর মধ্যে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে বিরিশাইল ধান উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত চারটি উফশি জাতের ধান হলো- চান্দিনা (BR-১), মালা (BR-২), শাহী বালাম (BR-১৬) এবং শ্রাবনী (BR-২৬)। এসব উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান বিদেশে বিক্রিয় করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।
৩। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) সংকরায়নের মাধ্যমে ১৭টি উফশি জাতের গম উদ্ভাবন করেছে। উচ্চ ফলনশীল গমের জাত হলো- বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত, সওগাত, BR-২৭ ও BR-২৮। উচ্চ ফলনশীল গম চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বিদেশী নির্ভরশীলতা কমে গেছে। ফলে দেশের অর্থনীতি উন্নয়ন হচ্ছে।
৪। বুনো রোগ প্রতিরোধী ফসলের সাথে আবাদি রোগ কাতর ফসলের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়। মুক্তা (BR-১১), গাজী (BR-১৪), মোহিনী (BR-১৫), শাহী বালাম (BR-১৬) প্রভৃতি ধানের রোগ প্রতিরোধী জাত। রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। বিদেশ থেকে কীটনাশক আমদানী কমে গিয়েছে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উৎপাদন খরচ কমে গিয়েছে। এতে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।
৫। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের এমন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে পারে। এ সব জাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় খরা, বন্যা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি সহ্য করতে পারে। এসব ফসল যেকোন পরিবেশে যেকোন মৌসুমে আবাদ করা সম্ভব। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শস্যদানার আকার, বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।
৭। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে একই সময়ে পরিপক্ক হয় এমন ফসল উদ্ভাবন করা হয়। এতে ফসল সংগ্রহে পরিশ্রম এবং অর্থ কম ব্যয় হয়। শস্যের অপচয় হয় না। কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়।
৮। অনেক ফসলের বীজ মাঠে ঝরে পড়ে। এতে ফসলের ফলন কমে যায় এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফসলের বীজ ঝরে পড়া স্বভাবের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।