(i) টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি করে উৎকৃষ্ট ও ভালো জাতের ক্লোন বাছাই করে অতি অল্প সময়ে অসংখ্য নতুন জাতের উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়। সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী জাত, পেস্টিসাইড প্রতিরোধী উদ্ভিদ, খরা প্রতিরোধী উদ্ভিদ প্রভৃতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে উৎপন্ন উন্নত জাতের গম হলো AdhI।
(ii) টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের দু’টি উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের মিলন ঘটিয়ে নতুন সংকর উদ্ভিদ বা সাইব্রিড সৃষ্টি করা হয়েছে। সাইব্রিডে উন্নত বৈশিষ্ট্যের ভিন্নধর্মী মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের সংমিশ্রণ ঘটে। আলু, টমেটো, পিটুনিয়া, লেবু, তামাক প্রভৃতি উদ্ভিদে সাইব্রিড সৃষ্টি করা হয়েছে। আলু ও টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের মিলনে পোমাটো সাইব্রিড উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এরা উন্নত বৈশিষ্ট্যের জাত।
(iii) রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুজীব, উদ্ভিদ বা প্রাণী থেকে কাংক্ষিত জিন নিয়ে আবাদকৃত ভ্রুণ বা কোষে প্রবেশ করিয়ে চাহিদা মতো জিনোম সৃষ্টি করা হয়। টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে এসব ভ্রুণ বা কোষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় পতঙ্গরোধী উদ্ভিদ, আগাছানাশকরোধী উদ্ভিদ, উন্নত পুষ্টিমানের উদ্ভিদ (স্বর্ণধান, আলু, সয়াবিন, টমেটো, তুলা, তামাক) প্রভৃতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
(iv) টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের ভাজক টিস্যু থেকে নতুন চারা সৃষ্টি করা হয়। ভাজক টিস্যু জীবাণু মুক্ত থাকে। ইহা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় না। টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন চারা ভাইরাস মুক্ত হয়, রোগ প্রতিরোধী এবং পেস্টিসাইড প্রতিরোধী হয়। তাই কৃষি জমিতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ছিটাতে হয় না।