তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে।
Educational Website
তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে।
বট, ডুমুর, অশথ, আকন্দ, করবী প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, ফুল ও ফলে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থাকে।
টমেটোতে ম্যালিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আমরুলে অক্সালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।
জিগা, সজিনা, বাবলা প্রভৃতি উদ্ভিদে গঁদ বা গাম থাকে। ইহা আঠা হিসেবে ব্যবহার হয়।
তেঁতুল ও গাব উদ্ভিদের ফলত্বক ও বীজত্বকে ট্যানিন থাকে। চামড়া পাকানো, রং ও কালি তৈরী করতে ট্যানিন ব্যবহার হয়।
পাইন, অরোক্যারিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের রজন নালীতে যে আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে তাকে রজন বা রেজিন বলে। সেতার ও বেহালার তার মসৃন করার জন্য রজন ব্যবহার হয়।
কোষ থেকে যে সব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত বা নিঃসৃত হয় তাকে নিঃসৃত পদার্থ বলে। প্রধান নিঃসৃত পদার্থ হলো পিগমেন্ট, নেকটার (মকরন্দ), এনজাইম এবং হরমোন। ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল, অ্যান্থোসায়ানিন প্রভৃতি হলো উল্লেখযোগ্য পিগমেন্ট।
বিভিন্ন ধরণের এনজাইম একত্রিত হয়ে জাইমোজেন দানা গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত থাকে।
উদ্ভিদের শাখা কেটে মাটিতে লাগিয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করাকে শাখা কলম বলে। শাখাকলম তিন ধরনের। মাটির শাখা কলম, পানির শাখা কলম এবং বালির শাখা কলম। গোলাপ, আখ, জবা, পাতাবাহার, মাদার, জিগা, সজিনা, কমলালেবু, আপেল, ক্রোটন, মেহেদী ইত্যাদি উদ্ভিদে শাখা কলম করা যায়।
(i) খন্ডায়ন (Fragmentation)ঃ Spirogyra, Oscillatoria, Oedogonium, Ulothrix প্রভৃতি খন্ডায়নের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
(ii) মূল দ্বারা (By roots)ঃ পটল, ডালিয়া, কাঁকরোল, শতমূলী, মিষ্টি আলু, রাঙ্গা আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ মূল দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে।
(iii) কান্ড দ্বারা (By stem)ঃ পিঁয়াজ ও রসুন বাল্ব দ্বারা, আদা, হলুদ, সটি, বচ, ওলকচু প্রভৃতি রাইজোম দ্বারা এবং আলু টিউবার দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। ওলকচু, সটি প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। আবার পুদিনা, বাঁশ, কলা, চন্দ্রমল্লিকা, আনারস প্রভৃতি উদ্ভিদ সাকার নামক বিশেষ ধরনের কান্ড দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে।
(iv) পাতা দ্বারা (By leaf)ঃ পাথরকুচি উদ্ভিদের পাতা থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। নাইট কুইন পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
(v) মুকুলোদগম (Budding)ঃ ঈস্ট নামক এককোষী ছত্রাক মুকুল সৃষ্টি করে সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
(vi) কক্ষমুকুল বা বুলবিল (By bulbil)ঃ কোন কোন উদ্ভিদ বুলবিল বা কক্ষমুকুল দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- চুপড়ি আলু, কন্দপুষ্প, এগেভ প্রভৃতি।
(vii) অর্ধবায়বীয় কান্ড দ্বারা (By sub-aerial stem)ঃ কচু, স্ট্রবেরী প্রভৃতি রানার দ্বারা; কলা, পুদিনা, আনারস, চন্দ্রমল্লিকা, বাঁশ প্রভৃতি সাকার দ্বারা; আমরুল স্টোলন দ্বারা এবং কচুরিপানা, টোপাপানা প্রভৃতি অফসেট দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে। থানকুনি, কলমিলতা, শুশনি শাক, মেন্থা প্রভৃতি অর্ধবায়বীয় কান্ড দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
(viii) পর্ণকান্ড দ্বারাঃ ফণিমনসার পর্ণকান্ড হতে নতুন গাছ হয়।
(ix) টিউরিয়ন (By tiurian)ঃ উদ্ভিদের স্ফীত মুকুলকে টিউরিয়ন বলে। টিউরিয়নে ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় থাকে। ইহা শীতকালে বিশ্রাম দশায় থাকে এবং বসন্তের আগমনে অংকুরিত হয়ে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। জলজ উদ্ভিদ টিউরিয়ন দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- Potamogeton, Utricularia প্রভৃতি।
(x) ভূ-নিম্নস্থ কান্ডঃ আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ ভূ-নি¤œস্থ কান্ড দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
(xi) বায়বীয় কান্ড (By aerial stem)ঃ কন্দপুষ্প, আখ, চুপড়ী আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ বায়বীয় কান্ড দ্বারা বংশ বৃদ্ধি করে।