একবীজপত্রী গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।
২। পাতার শিরাবিন্যাস সমান্তরাল।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। পুষ্প ট্রাইমেরাস অর্থাৎ পুষ্পে পুষ্পপুটের সংখ্যা ৩ বা ৩ এর গুণিতক।
৪। মূল গুচ্ছমূল।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। বীজপত্রের অবস্থান শীর্ষ এবং ভ্রুণমুকুল পার্শ্বীয়।
৬। বীজত্বক ও ফলত্বক এক সাথে যুক্ত থাকে।
৭। পুষ্প অসম্পূর্ণ এবং পেরিয়েন্থ থাকে।
৮। কান্ডের ভাস্কুলার বান্ডল বিক্ষিপ্ত ভাবে অবস্থান করে। ক্যাম্বিয়াম টিস্যু অনুপস্থিত।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৯। সেকেন্ডারী বা গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না।
১০। পরাগরেণু মনোকলপেট (একটি খাঁজযুক্ত)।

একবীজপত্রী গোত্র পরিচিতি

যে সব আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে তাকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। একবীজপত্রী উদ্ভিদের গোত্রকে একবীজপত্রী গোত্র বলে। ড. আর্থার ক্রনকুইস্ট (১৯৮১) সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদকে ৩৮০টি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে একবীজপত্রী গোত্রের সংখ্যা ৬৫টি। একবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রথম গোত্র Butomaceae, ৩৪তম গোত্র Poaceae এবং সর্বশেষ ৬৫তম গোত্র Orchidaceae।

মাতৃঅক্ষ কী । Axis কী

যে অক্ষ হতে পুষ্প সৃষ্টি হয় তাকে মাতৃঅক্ষ বলে। পুষ্প যে স্থানে সংযুক্ত থাকে তার বিপরীত পাশের অংশকে মাতৃঅক্ষ বলে।

মালভেসী গোত্রের পুষ্প প্রতীক । জবা ফুলের পুষ্প প্রতীক ব্যাখ্যা

উপবৃত্যংশ ৫টি এবং মুক্ত, বৃত্যংশ ৫টি, যুক্ত, এবং ভালভেট, পাপড়ি ৫টি, মুক্ত এবং টুয়েস্টেড, পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন, পরাগধানী মুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, গর্ভপত্র ৫টি এবং যুক্ত, অমরাবিন্যাস অক্ষীয়। পুষ্প প্রতীক থেকে প্রতীয়মান হয় ফুলটি বহুপ্রতিসম, উভয়লিঙ্গ এবং পেন্টামেরাস।

পোয়েসী গোত্রের পুষ্প প্রতীক । ধান ফুলের পুষ্প প্রতীক। ধান ফুলের পুষ্প প্রতীক ব্যাখ্যা

মঞ্জরিপত্র এবং উপমঞ্জরিপত্র উপস্থিত, পুষ্পপুট ২টি এবং মুক্ত, পুংকেশর ৬টি, ৩টি করে দুই আবর্তে অবস্থিত এবং মুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং গর্ভপত্র ১টি। অমরাবিন্যাস মূলীয়। পুষ্প প্রতীক থেকে প্রতীয়মান হয় ফুলটি একপ্রতিসম, উভয়লিঙ্গ এবং ট্রাইমেরাস।

পুষ্পপ্রতীক । পুষ্পপ্রতীককী । Floral Diagram কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে চিত্রের সাহায্যে মাতৃঅক্ষের তুলনায় পুষ্পের লিঙ্গ, বিভিন্ন স্তবক, প্রত্যেক স্তবকের সদস্য সংখ্যা অবস্থান, তাদের সমসংযোগ বা অসমসংযোগ, মঞ্জরিপত্রের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, পুষ্পপত্রবিন্যাস, অমরাবিন্যাস প্রভৃতি তথ্য দেখানো হয় তাকে পুষ্প প্রতীক বা Floral diagram বলে। ১৭৭৮ সালে জার্মান উদ্ভিদ বিজ্ঞানী অগাস্ট উইলহেলম আইখার সর্বপ্রথম পুষ্প প্রতীকের বর্ণনা দেন।

মালভেসী গোত্রের পুষ্পসংকেত । জবা ফুলের পুষ্পসংকেত । জবা ফুলের পুষ্পসংকেত ব্যাখ্যা

ফুলটি বহুপ্রতিসম এবং উভয় লিঙ্গ, উপবৃত্যংশ ৫টি এবং মুক্ত, বৃত্যংশ ৫টি এবং যুক্ত, পাপড়ি ৫টি এবং মুক্ত, পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, গর্ভপত্র ৫টি এবং যুক্ত।

পুষ্পসংকেত ।পোয়েসী গোত্রের পুষ্পসংকেত। ধান ফুলের পুষ্পসংকেত ব্যাখ্যা

মঞ্জরীপত্র এবং উপমঞ্জরীপত্র উপস্থিত, ফুলটি একপ্রতিসম এবং উভয় লিঙ্গ, পুষ্পপুট ২টি এবং মুক্ত, পুংকেশর ৬টি, ৩টি করে দুই আবর্তে সজ্জিত এবং মুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, ১ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং গর্ভপত্র ১টি।

পুষ্প সংকেত । পুষ্প সংকেত লেখার নিয়ম কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। প্রথমে উপমঞ্জরীপত্রের বর্ণমালা লেখতে হবে।
২। তারপর মঞ্জরীপত্রের বর্ণমালা লেখতে হবে।
৩। পুষ্প এক প্রতিসম বা বহুপ্রতিসম তার সংকেত লেখতে হবে।
৪। ফুলটি একলিঙ্গ না উভয়লিঙ্গ তার সংকেত।
৫। উপবৃত্যংশের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা উল্লেখ করা।
৬। বৃত্যংশের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা লেখা হয়।
৭। দলমন্ডলের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা উল্লেখ করা।
৮। পুষ্পপুটের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা লেখতে হবে।
৯। পুংকেশরের বর্ণমালা, সংখ্য এবং যুক্ত না মুক্ত তা উল্লেখ করা।
১০। অধিগর্ভ না অধোগর্ভ তার সংকেত।
১১। বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক অনুপস্থিত থাকলে শুন্য (০) লেখা হয়।
১২। ফুলটি সমসংযোগ না অসমসংযোগ তার সংকেত।

পুষ্পসংকেত । পুষ্পসংকেত কী । Floral Formula কী

যে সংকেতের সাহায্যে পুষ্পের লিঙ্গ, বিভিন্ন স্তবক, প্রত্যেক স্তবকের সদস্য সংখ্যা অবস্থান, তাদের সমসংযোগ বা অসমসংযোগ, মঞ্জরিপত্রের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি প্রভৃতি তথ্য প্রকাশ করা হয় তাকে পুষ্প সংকেত বা Floral formula বলে।