সমাপ্তি কোডন কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সমাপ্তি ঘটায় তাকে সমাপ্তি কোডন বলে। সমাপ্তি কোডনগুলো হলো UAA, UAGUGA। এর যে কোন একটি কোডন উপস্থিত থাকলে প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।

সূচনা কোডন কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনা করে তাকে সূচনা কোডন বলে। সূচনা কোডন হলো AUG। ইহা মেথিওনিন অ্যামাইনো এসিডকে সংযুক্ত করে।

tRNA-এর ক্লোভার লিফ মডেল । tRNA-এর লবঙ্গ পত্র মডেল । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী আর. হোলি (R. Holley)-এর ক্লোভার লিফ বা লবঙ্গ পত্র মডেল অনুসারে tRNA অণু ৫টি বাহু নিয়ে গঠিত।
(i) গ্রাহক বাহুঃ tRNA-এর ৩ ও ৫ প্রান্ত পাশাপাশি অবস্থান করে গ্রাহক বাহু গঠন করে। এতে ৭ জোড়া ক্ষারক থাকে। এছাড়া ৩ প্রান্তে ৪টি অতিরিক্ত অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড আছে। ৩ প্রান্তে – CCA ক্রম এবং চতুর্থটি A অথবা G থাকে। CCA ক্রমকে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্তির স্থান বলা হয়। এই স্থানে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্ত হয়। ৫ প্রান্তে G অথবা C থাকে।
(ii) D বাহুঃ tRNA-এর দ্বিতীয় বাহু হলো D বাহু। ইহা ১৫-১৮টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। D বাহু ৩-৪ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। D বাহুর ফাঁসকে ফাঁস-১ বা Dihydrouridine বা D ফাঁস বলে।
(iii) অ্যান্টিকোডন বাহুঃ tRNA-এর তৃতীয় বাহুকে অ্যান্টিকোডন বাহু বলে। অ্যান্টিকোডন বাহু ৫ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এর ফাঁসকে ফাঁস-২ বলে। ফাঁস বা লুপের মাঝে ৩টি নিউক্লিওটাইড অ্যান্টিকোডন গঠন করে। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় ইহা mRNA এর পরিপূরক কোডন হিসেবে কাজ করে।
(iv) পরিবর্তনশীল বাহুঃ পরিবর্তনশীল বাহু দুই ধরনের। কান্ডহীন এবং কান্ডযুক্ত বাহু। কান্ডহীন বাহুতে ৪-৫টি বেস এবং একটি ফাঁস থাকে। কান্ডযুক্ত বাহুতে ১৩-২১টি বেস এবং একটি ফাঁস থাকে।
(v) T বাহুঃ T বাহুতে কান্ড এবং ফাঁস উভয়ই আছে। এর কান্ড ৫ জোড়া ক্ষারক এবং ফাঁস ৭টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। T বাহুতে একটি রাইবোসোম স্থান থাকে। এর লুপে রাইবোথাইমিন, সিউডোইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে।
প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় tRNA অ্যামাইনো এসিডকে mRNA এর কাছে বহন করে নিয়ে যায়।

tRNA কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব RNA অ্যামাইনো এসিডকে প্রোটিন তৈরীর স্থান রাইবোসোমে বহন করে নিয়ে যায় তাকে tRNA বা ট্রান্সফার RNA বলে। ইহা সবচেয়ে ক্ষুদ্র RNA এবং এদের আণবিক ওজন ২৫,০০০ ডাল্টন। কোষের প্রায় ১৫% হলো tRNA। প্রতিটি tRNA অণু ৯০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। ইহা কোষের নিউক্লিওলাসে উৎপন্ন হয়। tRNA অণুতে কিছু অস্বাভাবিক ক্ষারক থাকে। যেমন- ইনোসিনিক এসিড, থাইমিন প্রভৃতি। এরা অত্যন্ত স্থায়ী এবং কোষের জন্য প্রোটিন তৈরী করে। জীবদেহে প্রায় ১০০ ধরনের tRNA থাকে। একটি কোষে ৩১-৪২ ধরনের tRNA থাকে।

অ্যান্টিকোডন বাহু কী। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

tRNA-এর তৃতীয় বাহুকে অ্যান্টিকোডন বাহু বলে। অ্যান্টিকোডন বাহু ৫ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এর ফাঁসকে ফাঁস-২ বলে। ফাঁস বা লুপের মাঝে ৩টি নিউক্লিওটাইড অ্যান্টিকোডন গঠন করে। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় ইহা mRNA এর পরিপূরক কোডন হিসেবে কাজ করে।

নন-জেনেটিক RNA কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব RNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে না তাকে নন-জেনেটিক RNA বলে। নন-জেনেটিক RNA হলো- tRNA, mRNA, rRNA

জেনেটিক RNA কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব RNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে তাকে জেনেটিক RNA বলে। কতিপয় ভাইরাসে DNA এর পরিবর্তে RNA থাকে। এ সব RNA বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে। জেনেটিক RNA এনজাইম সংশ্লেষ ও প্রোটিন আবরণী সৃষ্টি করতে পারে। ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, TMV, HIV, রেবিস, রিও ভাইরাস, বামন ভাইরাস, রেট্রো ভাইরাস প্রভৃতি ভাইরাসে জেনেটিক RNA থাকে।

RNA কী । Ribonucleic acid । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Ribonucleic acid-কে সংক্ষেপে RNA বলে। যে নিউক্লিক এসিডের নিউক্লিওটাইডের মনোমার একক গুলো রাইবোজ শ্যুগার, অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, ইউরাসিল ও ফসফোরিক এসিড দ্বারা গঠিত হয় তাকে RNA বলে। ১৯৬৩ সালে পি. জে গোমেটস এবং আই. ট্যাম (P.J. Gomatos & I. Tamm) রিও ভাইরাসে দ্বিসূত্রক RNA অণুর অস্তিত্ব পান। ধানের বামন ভাইরাসে দ্বিসূত্রক RNA রয়েছে।

বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে DNA এর ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। DNA জীবের জৈবিক এবং শারীরবৃত্তীয় কাজ করে। ইহা জৈবিক ও শারীরবৃত্তীয় কাজের মাধ্যমে জীবের চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।

২। DNA জীবের জৈবিক সংকেত প্রেরক হিসেবে কাজ করে। ইহা জীবের বংশগত সংকেত প্রদান করে। বংশগত সংকেত জীবের চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশক হিসেবে কাজ করে।

৩। DNA নির্ভুল প্রতিলিপি সৃষ্টি করে। তাই রেপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় অনুরুপ DNA সৃষ্টি হয়। নতুন DNA অণুতে বংশগত তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।

৪। DNA জীবের বংশগতির আণবিক বা ভৌত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ইহা জীবের বংশগতির ধারক ও বাহক। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শুধুমাত্র DNA জীবের চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। DNA জীবের সকল বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। ইহা জীবের প্রকরণ, মিউটেশন ও বিবর্তন ঘটায়। ফলে বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে।

৬। মানবদেহের DNA প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১০,০০,০০০ বার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সৌভাগ্যক্রমে এসব ক্ষতি মেরামত হয়ে যায়। মেরামত প্রক্রিয়া বিঘিœত হলে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।

DNA-কে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয় কেন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

DNA-কে বংশগতির ধারক ও বাহক বলার কারণ হলো-

১। DNA জীবের জৈবিক সংকেত প্রেরক হিসেবে কাজ করে।

২। DNA কোষ বিভাজনের সময় নির্ভুল প্রতিলিপি সৃষ্টি করে।

৩। DNA পিতামাতার বৈশিষ্ট্যাবলী সন্তান-সন্ততিতে স্থানান্তরিত করে।

৪। ইহা কোষের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটিন ও RNA সংশ্লেষ করে।

৫। ইহা মিউটেশনের মাধ্যমে জীবের গঠনের পরিবর্তন ঘটায়।

৬। DNA হলো জীবের মাস্টার মলিকুল।

৭। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় পিতা-মাতার DNA হুবহু জননকোষে গমন করে।

৮। ইহা প্রকরণ, মিউটেশন ও বিবর্তন ঘটায়।

৯। DNA প্রজাতি নির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনশীল। কেবল মাত্র মিউটেশনের মাধ্যমে DNA অণুর পরিবর্তন ঘটে।

১০। মিউটেশনের মাধ্যমে DNA অণুর পরিবর্তন ঘটলে তা পরবর্তী বংশধরে প্রকাশ পায়।

উপরোক্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা থেকে বলা যায় DNA হলো জীবের বংশগতির ধারক ও বাহক।