রাসায়নিক প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ । Chemical control । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তে CO2, O2 ও H+ আয়নের মাত্রা দ্বারা শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন-
১। কার্বন ডাই অক্সাইডঃ অ্যাওর্টিকবডি, ক্যারোটিডবডি ও মেডুলায় অবস্থিত কেমোরিসেপ্টর কোষ রক্তের CO2 এর মাত্রা দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে শ্বাসকেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে। রক্তে CO2 এর চাপ বৃদ্ধি পেলে শ্বসন হার বেড়ে যায় এবং CO2 এর মাত্রা কমে গেলে শ্বসন হার কমে যায়।
২। অক্সিজেনঃ রক্তে O2 এর অভাব বা আধিক্য ঘটলে অ্যাওর্টিকবডি ও ক্যারোটিডবডির কেমোরিসেপ্টর কোষ উদ্দীপিত হয়ে শ্বাসকেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে। রক্তে O2 এর অভাব হলে উদ্দীপনা শ্বাসকেন্দ্র থেকে ফুসফুসে যায় এবং শ্বসন হার বৃদ্ধি করে। আবার রক্তে O2 এর আধিক্য হলে উদ্দীপনা শ্বাসকেন্দ্রকে প্রশমিত করে এবং শ্বসন হার কমে যায়।
৩। হাইড্রোজেন আয়নঃ রক্তে H+ আয়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। আবার রক্তে H+ আয়নের মাত্রা কমে গেলে শ্বসন হার কমে যায়।

স্নায়ুবিক প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ আলোচনা । Nervous control । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মস্তিস্কের ৪টি শ্বাসকেন্দ্র, বিভিন্ন শ্বসন অঙ্গ এবং স্নায়ুবিক উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রিণে ভ‚মিকা পালন করে।
১। শ্বাসকেন্দ্রঃ মস্তিস্কে চারটি শ্বাসকেন্দ্র আছে। এক জোড়া পনসে অবস্থিত অ্যানিউস্টিক ও নিউমোট্যাকসিক এবং অপর জোড়া মেডুলা অবলংগাটায় অবস্থিত প্রশ্বাস কেন্দ্র (Inspiratory centre) ও নিঃশ্বাস কেন্দ্র (Expiratory centre)।
রক্তে CO2 এর উপস্থিতিতে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র উদ্দীপিত হয়। এই উদ্দীপনা প্রশ্বাস কেন্দ্রে পৌছে। এরপর প্রশ্বাস কেন্দ্র হতে উদ্দীপনা একই সময়ে ডায়াফ্রাম, ইন্টারকোষ্টাল পেশি এবং নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্রে আসে। উদ্দীপনা ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশিতে পৌছার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াফ্রাম ও পর্শুকা সংকুচিত হয় এবং প্রশ্বাস শুরু হয়। এতে বক্ষগহ্বরের আয়তন বেড়ে যায়, ফুসফুসে বায়ু প্রবেশ করে এবং ফুসফুস বায়ুস্ফীত হয়।
এরপর একই সময়ে স্নায়ু উদ্দীপনা নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্র হতে সরাসরি এবং বায়ুস্ফীত ফুসফুস হতে ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে আসে। ফলে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র প্রশমিত হয়ে পড়ে এবং প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে, একই সময়ে নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্র হতে স্নায়ু উদ্দীপনা নিঃশ্বাস কেন্দ্রে পৌছে এবং নিঃশ্বাস শুরু হয়। ফলে ফুসফুস হতে বায়ু বাইরে বেরিয়ে যায়।
নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্র হতে স্নায়ু উদ্দীপনা একই সাথে প্রশ্বাস কেন্দ্র ও নিঃশ্বাস কেন্দ্রে পৌছানোর ফলে একই সময়ে প্রশ্বাস বন্ধ হয় এবং নিঃশ্বাস শুরু হয়। নিঃশ্বাস চলাকালে ফুসফুসের সংকোচনজনিত উদ্দীপনা অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে পৌছায় না। তাই অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র পুনরায় উদ্দীপিত হয় এবং উদ্দীপনা প্রশ্বাস কেন্দ্রে প্রেরণ করে এবং প্রশ্বাস শুরু হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ঘটনার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
২। প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action)ঃ শ্বসনতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন-
(i) প্রশ্বাস ক্রিয়ায় ফুসফুস বায়ু দ্বারা পূর্ণ হলে ফুসফুসের প্রাচীরের টান গ্রাহক কোষ উদ্দীপিত হয়। এই উদ্দীপনা ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে পৌছায় এবং এই কেন্দ্রের কার্যকারীতা প্রশমিত করে দেয়। ফলে প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিঃশ্বাসের সময় ফুসফুস সংকুচিত থাকে বলে প্রাচীরের টান গ্রাহক কোষ উদ্দীপিত হয় না। এতে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র কার্যকরী থাকে এবং প্রশ্বাস ক্রিয়া ঘটে। ফুসফুসের এরুপ সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে হেরিং ব্রয়ার প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
(ii) নাসিকা গহ্বরের মিউকাস পর্দার উদ্দীপনা অলফ্যাক্টরী স্নায়ুর মাধ্যমে হাঁচি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
(iii) বহিরাগত কোন পদার্থ ট্রাকিয়ায় প্রবেশ করলে মিউকাস পর্দা উদ্দীপিত হয়ে ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে কাশি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
(iv) খাদ্য গলাধঃকরণের সময় গলবিল প্রাচীরের উদ্দীপনা গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ুর মাধ্যমে গ্যাগ প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
(v) দেহের ত্বক, পেশি, ভিসেরা, অস্থিসন্ধি প্রভৃতি হতে সৃষ্ট উদ্দীপনা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। স্নায়ুবিক উদ্দীপনাঃ মস্তিস্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স, মধ্যমস্তিস্ক, হাইপোথ্যালামাস প্রভৃতি স্নায়ু উদ্দীপনা সৃষ্টি করে শ্বাসক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। সেরিব্রাল কর্টেক্সের যেসব স্থান কথা বলা, ঘ্রাণ গ্রহণ, খাদ্য চর্বণ ও খাদ্য গলাধঃকরণের সাথে সম্পর্কিত সেসব স্নায়ুকেন্দ্র শ্বাসক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়। যেমন- কথা বলার সময় দীর্ঘ নিঃশ্বাসের পরই দ্রæত প্রশ্বাস ঘটে। দেহের যে কোন যন্ত্রণাদায়ক উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করে। আবার অধিক যন্ত্রণাদায়ক উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়াকে সাময়িক বন্ধ করে দেয়।

স্নায়ুবিক উদ্দীপনা কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মস্তিস্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স, মধ্যমস্তিস্ক, হাইপোথ্যালামাস প্রভৃতি স্নায়ু উদ্দীপনা সৃষ্টি করে শ্বাসক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। সেরিব্রাল কর্টেক্সের যেসব স্থান কথা বলা, ঘ্রাণ গ্রহণ, খাদ্য চর্বণ ও খাদ্য গলাধঃকরণের সাথে সম্পর্কিত সেসব স্নায়ুকেন্দ্র শ্বাসক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়। যেমন- কথা বলার সময় দীর্ঘ নিঃশ্বাসের পরই দ্রæত প্রশ্বাস ঘটে। দেহের যে কোন যন্ত্রণাদায়ক উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করে। আবার অধিক যন্ত্রণাদায়ক উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়াকে সাময়িক বন্ধ করে দেয়।

প্রতিবর্ত ক্রিয়া কী । প্রতিবর্ত ক্রিয়া আলোচনা । Reflex action । ড. সিদ্দিক পালিকেশন্স

শ্বসনতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন-

(i) প্রশ্বাস ক্রিয়ায় ফুসফুস বায়ু দ্বারা পূর্ণ হলে ফুসফুসের প্রাচীরের টান গ্রাহক কোষ উদ্দীপিত হয়। এই উদ্দীপনা ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে পৌছায় এবং এই কেন্দ্রের কার্যকারীতা প্রশমিত করে দেয়। ফলে প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিঃশ্বাসের সময় ফুসফুস সংকুচিত থাকে বলে প্রাচীরের টান গ্রাহক কোষ উদ্দীপিত হয় না। এতে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র কার্যকরী থাকে এবং প্রশ্বাস ক্রিয়া ঘটে। ফুসফুসের এরুপ সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে হেরিং ব্রয়ার প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।

(ii) নাসিকা গহ্বরের মিউকাস পর্দার উদ্দীপনা অলফ্যাক্টরী স্নায়ুর মাধ্যমে হাঁচি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।

(iii) বহিরাগত কোন পদার্থ ট্রাকিয়ায় প্রবেশ করলে মিউকাস পর্দা উদ্দীপিত হয়ে ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে কাশি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটায়।

(iv) খাদ্য গলাধঃকরণের সময় গলবিল প্রাচীরের উদ্দীপনা গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ুর মাধ্যমে গ্যাগ প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং শ্বাস ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

(v) দেহের ত্বক, পেশি, ভিসেরা, অস্থিসন্ধি প্রভৃতি হতে সৃষ্ট উদ্দীপনা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে।

শ্বাসকেন্দ্র কী । শ্বাসকেন্দ্র আলোচনা। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মস্তিস্কে চারটি শ্বাসকেন্দ্র আছে। এক জোড়া পনসে অবস্থিত অ্যানিউস্টিক ও নিউমোট্যাকসিক এবং অপর জোড়া মেডুলা অবলংগাটায় অবস্থিত প্রশ্বাস কেন্দ্র (Inspiratory centre) ও নিঃশ্বাস কেন্দ্র (Expiratory centre)।

রক্তে CO2 এর উপস্থিতিতে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র উদ্দীপিত হয়। এই উদ্দীপনা প্রশ্বাস কেন্দ্রে পৌছে। এরপর  প্রশ্বাস কেন্দ্র হতে উদ্দীপনা একই সময়ে ডায়াফ্রাম, ইন্টারকোষ্টাল পেশি এবং নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্রে আসে। উদ্দীপনা ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশিতে পৌছার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াফ্রাম ও পর্শুকা সংকুচিত হয় এবং প্রশ্বাস শুরু হয়। এতে বক্ষগহ্বরের আয়তন বেড়ে যায়, ফুসফুসে বায়ু প্রবেশ করে এবং ফুসফুস বায়ুস্ফীত হয়।

এরপর একই সময়ে স্নায়ু উদ্দীপনা নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্র হতে সরাসরি এবং বায়ুস্ফীত ফুসফুস হতে ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে আসে। ফলে অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র প্রশমিত হয়ে পড়ে এবং প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে, একই সময়ে নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্র হতে স্নায়ু উদ্দীপনা নিঃশ্বাস কেন্দ্রে পৌছে এবং নিঃশ্বাস শুরু হয়। ফলে ফুসফুস হতে বায়ু বাইরে বেরিয়ে যায়।

নিউমোট্যাকটিক কেন্দ্র হতে স্নায়ু উদ্দীপনা একই সাথে প্রশ্বাস কেন্দ্র ও নিঃশ্বাস কেন্দ্রে পৌছানোর ফলে একই সময়ে প্রশ্বাস বন্ধ হয় এবং নিঃশ্বাস শুরু হয়। নিঃশ্বাস চলাকালে ফুসফুসের সংকোচনজনিত উদ্দীপনা অ্যানিউস্টিক কেন্দ্রে পৌছায় না। তাই অ্যানিউস্টিক কেন্দ্র পুনরায় উদ্দীপিত হয় এবং উদ্দীপনা প্রশ্বাস কেন্দ্রে প্রেরণ করে এবং প্রশ্বাস শুরু হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ঘটনার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।

টাইডাল ভলিউম কী । রেসিড্যুয়াল ভলিউম কী । ভাইটাল ক্যাপাসিটি কী। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

টাইডাল ভলিউম (Tidal volume) প্রতিবার যে পরিমাণ বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে অথবা ফুসফুস থেকে বাইরে বের হয়ে যায় তাকে টাইডাল বায়ু বলে। টাইডাল বায়ুর পরিমাণকে টাইডাল ভলিউম বা বায়ুমাত্রা বলে। বিশ্রাম অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের টাইডাল ভলিউম ৫০০ মিলি।

রেসিড্যুয়াল ভলিউম (Residual volume) নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের পর যে পরিমাণ বায়ু ফুসফুসে অবশিষ্ট থাকে তাকে রেসিড্যুয়াল ভলিউম বা অবশিষ্ট ঘনমান বায়ু বলে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রেসিড্যুয়াল ভলিউম ১৫০০ মিলি।

ভাইটাল ক্যাপাসিটি (Vital capasity) ফুসফুসের সর্বমোট বায়ুধারণ ক্ষমতাকে ভাইটাল ক্যাপাসিটি বা বায়ুধারণ ক্ষমতা বলে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভাইটাল ক্যাপাসিটি প্রায় ৪৫০০ মিলি। ব্যায়াম শরীরচর্চার মাধ্যামে বায়ুধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। দৌড়বিদদের ভাইটাল ক্যাপাসিটি ৬০০০ মিলি।

প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস কার্যক্রম আলোচনা । Ventilation Mechanism । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায় তাকে শ্বাসক্রিয়া বা Breathing বলে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি মিনিটে ১৬-১৮ বার প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ঘটে। শ্বাসক্রিয়া দুইটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এগুলো হলো-

১। প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ (Inspiration)ঃ যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে তাকে প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ বলে। এ সময় ডায়াফ্রম এবং ইন্টারকোস্টাল পেশি সংকুচিত হয়। পর্শুকা গুলো উপরের দিকে উঠে যায় এবং ডায়াফ্রম নিচের দিকে নেমে যায়। ফলে বক্ষগহŸরের আয়তন বেড়ে যায়। ফুসফুস প্রসারিত হয়। ফুসফুসের ভিতর বায়ুচাপ কম থাকে। কিন্তু বাইরের পরিবেশে বায়ুচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে বাইরের পরিবেশ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে।

২। নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ (Expiration)ঃ যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু নির্গত হয় তাকে নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ বলে। এ সময় ডায়াফ্রম এবং ইন্টারকোস্টাল পেশি প্রসারিত হয়। পর্শুকা গুলো নিচের দিকে নেমে যায় এবং ডায়াফ্রম উপরের দিকে উঠে আসে। ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায়। ফুসফুস সংকুচিত হয়। ফুসফুসের ভিতর বায়ুচাপ বেড়ে যায় (৩-৪ মিমি পারদচাপ অধিক)। ফুসফুসের বায়ুচাপ কিন্তু বাইরের পরিবেশে বায়ুচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে ফুসফুস হতে কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু বাইরে নির্গত হয়।

অ্যালভিওলাস কী । অ্যালভিওলাসের গঠন বর্ণনা । Alveolus কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক। ফুসফুসে স্কোয়ামাস কোষ দ্বারা গঠিত এবং কৈশিক জালিকাসমৃদ্ধ যে প্রকোষ্ঠ গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায় তাকে অ্যালভিওলাস বলে। এর ব্যাস ২০০-৩০০ মাইক্রোমিটার। মানুষের ফুসফুসে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি) অ্যালভিওলাই থাকে। এগুলো প্রায় ১১,৮০০ বর্গ সেমি শ্বসনতল সৃষ্টি করে। নিচে অ্যালভিওলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-

১। প্রাচীরঃ অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা। পুরু ৪ মাইক্রোমিটার। ইহা চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস কোষ দ্বারা গঠিত। এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু আছে। কোলাজেন স্থিতিস্থাপক এবং সংকোচন-প্রসারণ সহজতর করে। ফুসফুসীয় (পালমোনারী) ধমনী থেকে কৈশিক জালিকা সৃষ্টি হয়। কৈশিক জালিকা গুলো অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে বিস্তৃত থাকে এবং পরে মিলিত হয়ে ফুসফুসীয় শিরা গঠন করে।

২। প্রকোষ্ঠঃ অ্যালভিওলাস হলো বুদবুদের মতো বায়ুকুঠুরী বিশেষ। এতে O2 জমা থাকে এবং CO2 নির্গত হয়। গ্যাসের পরিমাণ অনুযায়ী অ্যালভিওলাসের আয়তন কম-বেশি হয়ে থাকে।

৩। সারফেকট্যান্টঃ অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে ডিটারজেন্টের মতো রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলোকে সারফেকট্যান্ট বলে। ইহা অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের পৃষ্ঠটান কমিয়ে দেয়। কম পরিশ্রমে ফুসফুসকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে। CO2 ও O2 এর দ্রæত বিনিময়ে সাহায্য করে। জীবাণুকে (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে। ২৩ সপ্তাহ বয়স্ক মানব ভ্রুণে সারফেকট্যান্ট ক্ষরণ শুরু হয়।

অ্যালভিওলাসের গঠন । Alveolus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। প্রাচীরঃ অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা। পুরু ৪ মাইক্রোমিটার। ইহা চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস কোষ দ্বারা গঠিত। এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু আছে। কোলাজেন স্থিতিস্থাপক এবং সংকোচন-প্রসারণ সহজতর করে। ফুসফুসীয় (পালমোনারী) ধমনী থেকে কৈশিক জালিকা সৃষ্টি হয়। কৈশিক জালিকা গুলো অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে বিস্তৃত থাকে এবং পরে মিলিত হয়ে ফুসফুসীয় শিরা গঠন করে।
২। প্রকোষ্ঠঃ অ্যালভিওলাস হলো বুদবুদের মতো বায়ুকুঠুরী বিশেষ। এতে O2 জমা থাকে এবং CO2 নির্গত হয়। গ্যাসের পরিমাণ অনুযায়ী অ্যালভিওলাসের আয়তন কম-বেশি হয়ে থাকে।
৩। সারফেকট্যান্টঃ অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে ডিটারজেন্টের মতো রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলোকে সারফেকট্যান্ট বলে। ইহা অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের পৃষ্ঠটান কমিয়ে দেয়। কম পরিশ্রমে ফুসফুসকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে। CO2 ও O2 এর দ্রæত বিনিময়ে সাহায্য করে। জীবাণুকে (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে। ২৩ সপ্তাহ বয়স্ক মানব ভ্রুণে সারফেকট্যান্ট ক্ষরণ শুরু হয়।

অ্যালভিওলাস কী । Alveolus কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক। ফুসফুসে স্কোয়ামাস কোষ দ্বারা গঠিত এবং কৈশিক জালিকাসমৃদ্ধ যে প্রকোষ্ঠ গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায় তাকে অ্যালভিওলাস বলে। এর ব্যাস ২০০-৩০০ মাইক্রোমিটার। মানুষের ফুসফুসে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি) অ্যালভিওলাই থাকে। এগুলো প্রায় ১১,৮০০ বর্গ সেমি শ্বসনতল সৃষ্টি করে।