লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ । RBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতি ঘনমিলিলিটার রক্তে পুরুষের দেহে ৫০-৫৪ লক্ষ, স্ত্রীলোকের দেহে ৪৫-৪৮ লক্ষ, শিশুর দেহে ৬০-৭০ লক্ষ এবং ভ্রুণে ৮০-৯০ লক্ষ লোহিত রক্তকণিকা থাকে। ব্যায়াম ও গর্ভাবস্থায় এই কণিকা বেশি থাকে।

লোহিত রক্তকণিকার উৎপত্তি । RBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ভ্রুণাবস্থায় যকৃত, প্লীহা ও থাইমাস থেকে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। জন্মের পর ২০ বছর বয়স পর্যন্ত অস্থিমজ্জা (এরিথ্রোব্লাস্ট বা স্টোম কোষ ও হিমোসাইটোব্লাস্ট কোষ) থেকে উৎপন্ন হয়। অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হওয়ার সময় নিউক্লিয়াস থাকে বলে একে ইরাইথ্রোব্লাস্ট বলে। জীবনের বাকি সময় হিউমেরাস, ফিমার, স্টার্ণাম, কশেরুকা, পর্শুকা প্রভৃতির প্রান্ত হতে সৃষ্টি হয়। মানবদেহে প্রতি মাসে৪০০-৫০০ মিলি লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়।  প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় এবং ১০ মিলিয়ন ধ্বংস হয়। ইহা যকৃত এবং প্লীহায় ধ্বংস হয়। বৃক্ক এরিথ্রোপয়েটিন হরমোন ক্ষরণ করে। এরিথ্রোপয়েটিন হরমোন লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন (কম বা বেশি) নিয়ন্ত্রণ করে। লোহিত রক্তকণিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে এরিথ্রোপয়েসিস (erythropoiesis) বলে।

লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য কী কী। RBC । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এতে হিমোগ্লোাবিন থাকে বলে লাল বর্ণের হয়। ১০০ মিলি রক্তে ১৫-১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকায় ২৯ পিকোগ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে।

২। ইহা গোলাকার, দ্বি-অবতল ও চাকতির মতো।

৩। এর ব্যাস প্রায় ৭.৫ µm এবং পুরুত্ব ২.০-২.৫ µm।

৪। এর পরিধি মসৃণ ও পুরু এবং মধ্যাংশ পাতলা। কেন্দ্রের পুরুত্ব ১.০ µm।

৫। স্তন্যপায়ীর লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না (ব্যতিক্রম-উট)।

৬। এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস। এ সময়ে ইহা ১১০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে।

৭। এতে ৬০-৭০% পানি এবং ৩০-৪০% কঠিন পদার্থ থাকে (কঠিন পদার্থের মধ্যে ৯০% হলো হিমোগ্লোবিন)।

৮। ইহা বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন তৈরীতে সাহায্য করে।

রক্তরস কী । Plasma । রক্তরসের উপাদান । রক্তরসের কাজ কী। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বলে। রক্তের ৫৫% রক্তরস। এতে পানি ৯০-৯২% এবং কঠিন পদার্থ ৮-১০% থাকে। রক্তরসের উপাদান দুই ধরনের। ১। জৈব উপাদান  এবং  ২। অজৈব উপাদান

১।  জৈব উপাদান

(i) খাদ্যসারঃ  গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন প্রভৃতি।

(ii) প্লাজমাপ্রোটিনঃ  অ্যালবুমিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন, অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন প্রভৃতি (৭.৫%)।

(iii) স্নেহ দ্রব্যঃ নিউট্রাল লিপিড, কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড, লেসিথিন প্রভৃতি।

(iv) রঞ্জক পদার্থঃ বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল প্রভৃতি।

(v) জৈব এসিডঃ সাইট্রিক এসিড, ল্যাকটিক এসিড প্রভৃতি।

(vi) রেচন পদার্থঃ ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া প্রভৃতি।

২। অজৈব উপাদান

(i) তরল উপাদানঃ এতে পানি থাকে ৯০%-৯২%।

(ii) জড় পদার্থঃ এতে জড় পদার্থ  থাকে ৯%।

(iii) গ্যাসীয় পদার্থঃ গ্যাসীয় পদার্থ হলো- O2, CO2, N2  প্রভৃতি।

(iv) খনিজ পদার্থঃ সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ প্রভৃতি

(v) আয়নঃ Na+, K+, Ca++, Cl , HCO3, HPO4  প্রভৃতি

রক্তরসের কাজ (Function of Plasma)

১। খাদ্যসার পরিবহনঃ রক্তরসের মাধ্যমে অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ফ্যাটি এসিড, গিøসারল প্রভৃতি পরিবাহিত হয়।

২। পানি পরিবহনঃ ইহা দেহে পানি পরিবহন ও পানি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৩। রেচন নিষ্কাশনঃ দেহে উৎপন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে রক্তরস অংশ নেয়।

৪। তাপ সমতাঃ ইহা দেহের সর্বত্র তাপের সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। রোগ প্রতিরোধঃ ইহা দেহকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৬। অভিস্রবণ চাপঃ রক্তরস প্লাজমাপ্রোটিনের সাহায্যে রক্তের অভিস্রবণ চাপ রক্ষা করে।

৭। রক্ত জমাট বাঁধাঃ ইহাতে প্লাজমাপ্রোটিন থাকায় রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

৮। রক্তকণিকা ধারণঃ ইহা রক্তের লোহিতকণিকা, শ্বেতকণিকা ও অনুচক্রিকা ধারণ করে।

৯। রক্তের তরলতা রক্ষাঃ ইহাতে ৯১% পানি থাকায় রক্তের তরলতা রক্ষা করে।

১০। অম্ল-ক্ষার সমতাঃ রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা রক্ষা করে।

লোহিত রক্তকণিকা কী (RBC)। হেমাটোক্রিট কী । পলিসাইথেমিয়া কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ Erythros অর্থ লাল এবং kytos অর্থ কোষ নিয়ে erythrocyte শব্দটি গঠিত। রক্তের লাল বর্ণের দ্বি-অবতল চাকতির মতো কণিকাকে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমাটিড বা erythrocyte বা RBC বলে। মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা প্রতি ৬০ সেকেন্ডে একবার সমগ্র দেহ পরিভ্রমণ করে। দেহে ২০-৩০ ট্রিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা থাকে যা দেহের সকল কোষের ৭০%। রক্তে লোহিত রক্তকণিকার আয়তন পরিমাপের শতকরা হিসাবকে হেমাটোক্রিট (HCT) বলে। দেহে এর অভাব হলে রক্তাল্পতা এবং বেশি হলে পলিসাইথেমিয়া হয়। শিশুদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

রক্তকণিকা কী । Blood Corpuscles । হেমাটোপয়সিস কী । Haematopoiesis । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তরসে ডুবানো অবস্থায় যে কণিকা থাকে তাকে রক্তকণিকা বলে। এরা বিভাজিত হয় না বলে এদেরকে কোষ না বলে কণিকা বলা হয়। রক্তকণিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে হেমাটোপয়সিস (Hematopoiesis) বলে। রক্তের ৪৫% রক্তকণিকা। দেহে তিন ধরণের রক্তকণিকা থাকে।

১। লোহিত রক্তকণিকা

২। শ্বেত রক্তকণিকা

৩। অণুচক্রিকা

রক্তরসের কাজ কী কী । Function of Plasma । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। খাদ্যসার পরিবহনঃ রক্তরসের মাধ্যমে অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ফ্যাটি এসিড, গিøসারল প্রভৃতি পরিবাহিত হয়।

২। পানি পরিবহনঃ ইহা দেহে পানি পরিবহন ও পানি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৩। রেচন নিষ্কাশনঃ দেহে উৎপন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে রক্তরস অংশ নেয়।

৪। তাপ সমতাঃ ইহা দেহের সর্বত্র তাপের সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। রোগ প্রতিরোধঃ ইহা দেহকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৬। অভিস্রবণ চাপঃ রক্তরস প্লাজমাপ্রোটিনের সাহায্যে রক্তের অভিস্রবণ চাপ রক্ষা করে।

৭। রক্ত জমাট বাঁধাঃ ইহাতে প্লাজমাপ্রোটিন থাকায় রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

৮। রক্তকণিকা ধারণঃ ইহা রক্তের লোহিতকণিকা, শ্বেতকণিকা ও অনুচক্রিকা ধারণ করে।

৯। রক্তের তরলতা রক্ষাঃ ইহাতে ৯১% পানি থাকায় রক্তের তরলতা রক্ষা করে।

১০। অম্ল-ক্ষার সমতাঃ রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা রক্ষা করে।

রক্তরসের জৈব উপাদান। রক্তরসের অজৈব উপাদান । Plasma । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বলে। রক্তের ৫৫% রক্তরস। এতে পানি ৯০-৯২% এবং কঠিন পদার্থ ৮-১০% থাকে। রক্তরসের উপাদান দুই ধরনের। ১। জৈব উপাদান  এবং  ২। অজৈব উপাদান

রক্তরস (Plasma) ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১।  জৈব উপাদান

(i) খাদ্যসারঃ  গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন প্রভৃতি।

(ii) প্লাজমাপ্রোটিনঃ  অ্যালবুমিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন, অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন প্রভৃতি (৭.৫%)।

(iii) স্নেহ দ্রব্যঃ নিউট্রাল লিপিড, কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড, লেসিথিন প্রভৃতি।

(iv) রঞ্জক পদার্থঃ বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল প্রভৃতি।

(v) জৈব এসিডঃ সাইট্রিক এসিড, ল্যাকটিক এসিড প্রভৃতি।

(vi) রেচন পদার্থঃ ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া প্রভৃতি।

২। অজৈব উপাদান

(i) তরল উপাদানঃ এতে পানি থাকে ৯০%-৯২%।

(ii) জড় পদার্থঃ এতে জড় পদার্থ  থাকে ৯%।

(iii) গ্যাসীয় পদার্থঃ গ্যাসীয় পদার্থ হলো- O2, CO2, N2  প্রভৃতি।

(iv) খনিজ পদার্থঃ সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ প্রভৃতি

(v) আয়নঃ Na+, K+, Ca++, Cl , HCO3, HPO4  প্রভৃতি

রক্তরস কী । Plasma । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বলে। রক্তের ৫৫% রক্তরস। এতে পানি ৯০-৯২% এবং কঠিন পদার্থ ৮-১০% থাকে। রক্তরসের উপাদান দুই ধরনের। ১। জৈব উপাদান  এবং  ২। অজৈব উপাদান

রক্তের বৈশিষ্ট্য কী কী । Characters of Blood । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ইহা রক্তরস ও রক্তকণিকা দ্বারা গঠিত।

২। এতে রক্তরস ৫৫% এবং রক্তকণিকা ৪৫% থাকে।

৩। এর আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০৫-১.০৬।

৪। এর pH ৭.৩৫-৭.৪৫ (গড় ৭.৪০)।

৫। তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রী সে.।

৬। দেহের মোট ওজনের ৭-৮% বা ১২ ভাগের এক ভাগ রক্ত।

৭। ইহা লাল বর্ণের।

৮। ইহা ঈষৎ ক্ষারীয়।

৯। ইহা লবণাক্ত প্রকৃতির।