HIV-Human Immunodeficiency Virus

মানুষের মরণব্যাধি AIDS রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো HIV। এই ভাইরাস মানুষের শ্বেত রক্তকণিকার ম্যাক্রোফাজ ও T-cell লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ২০০০ সালে পৃথিবীতে AIDS রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ। এর মধ্যে ৩০ লক্ষ রোগী মারা যায়। ১৯৮১ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী বারে সিনৌসি এবং লুক মঁতনেইয়া সর্বপ্রথম AIDS রোগ শনাক্ত করেন। এজন্য তাঁরা ২০০৮ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

১৯৮৩ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী Dr. Lue Montagnier এইডস এর ভাইরাস আবিষ্কার করেন এবং নাম দেন Lymphadenopathy associated virus (LAV)। ১৯৮৪ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী Dr. Robert Gallo পৃথকভাবে এই ভাইরাস আবিষ্কার করেন এবং নাম দেন Human T-cell Lymphotropic virus, strain III (HTLV-III)। ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক ভাইরাস নামকরণ কমিটি একে Human Immunodeficiency Virus (HIV) নামে স্বীকৃতি দেন।

HIV এর গঠন (Stucture of HIV)

HIV হলো গোলাকার ভাইরাস। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। নিউক্লিক এসিড এবং ক্যাপসিড।

১। নিউক্লিক এসিডঃ ভাইরাসের কেন্দ্রস্থলে নিউক্লিক এসিডের একটি কোর থাকে। একে নিউক্লিওয়েড বলে। ইহা RNA দ্বারা গঠিত। এর কেন্দ্রে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ থাকে। রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ RNA-কে DNA-তে রুপান্তর করে। ইহা ভাইরাসের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং নতুন ভাইরাস সংশ্লেষণে ভূমিকা পালন করে।

২। ক্যাপসিডঃ নিউক্লিক এসিডের বাইরে যে কোট বা আবরণী থাকে তাকে ক্যাপসিড বলে। ক্যাপসিড গোলাকার বা বহুজাকার হতে পারে। ইহা অসংখ্য প্রোটিন অণু দ্বারা গঠিত। প্রতিটি প্রোটিন অণুকে বলা হয় ক্যাপসোমিয়ার। ক্যাপসিডের বাইরে ১১০০ µm  পুরু ফসফোলিপিড বাইলেয়ার থাকে। ফসফোলিপিডে দুই ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে। GP-120 এবং GP-41। GP-120 ভাইরাসকে পোষক কোষে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। GP-120, GP-41 এর সাথে রাসায়নিক ভাবে যুক্ত থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *