প্রোটিনের পলিপেপটাইড ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ
সরল প্রোটিন ।। Simple protin
যৌগিক বা কনজুগেটেড প্রোটিন ।। Conjugated Protein
উপজাত বা উদ্ভুত প্রোটিন ।। Derivates Protin
প্রোটিওম ।। Proteomes
আদর্শ প্রোটিন ।। Ideal protein
সুপার ম্যালেরিয়া ।। Super malaria
সুপার ম্যালেরিয়া হলো উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রতিরোধী ম্যালেরিয়ার একটি প্রকরণ। এটি খুব দ্রæত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যালেরিয়ার এই জীবাণুটি কোন ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ২০০৮ সালে সর্বপ্রথম কম্বোডিয়ায় জীবাণুটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে জীবাণুটি মশার মাধ্যমে ভিয়েতনাম, লাওস ও থাইল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া জীবাণু ক্লোরোকুইন প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। Plasmodium falciparum জীবাণুটি আরটিমিসিনিন প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।
ব্যাংককের অক্সফোর্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইউনিট এর গবেষণা দল লিখিত ভাবে এবং Lancet Infectious Diseases জার্নালে প্রকাশিত হয় যে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সুপার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা বর্তমান বিশে^র মানুষের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ম্যালেরিয়ার এই সুপারবাগ প্রকরণ সকল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইহা বিশ^ব্যাপি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকী। বর্তমান বিশে^ ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু দ্বারা প্রায় ৭,০০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর রক্তশুন্যতার কারণ কী ।। Anemia of Malaria patient
১। সাইজোগনি শেষে মেরোজয়েটগুলো লোহিত রক্তকণিকার প্রাচীর ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে। এতে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
২। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর যকৃত ও প্লীহা স্ফীত হয় বা ফুলে যায়। এ অবস্থায় রোগীর দেহে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাধপ্রাপ্ত হয়। এ কারণে রোগীর রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
৩। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর প্লীহা থেকে লাইসোলেসিথিন (Lysolecithin) নামক বিশ্লেষী পদার্থ নিঃসৃত হয়। এ সব পদার্থ লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে। এতে রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
৪। ম্যালেরিয়া পরজীবী হেমোলাইসিন (Heamolysin) নামক এক ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। এই অ্যান্টিবডি সুস্থ RBC-কে ধ্বংস করে দেয়। এতে রোগী রক্তশুন্য হয়ে পড়ে।
৫। রোগীর খাবার গ্রহণে বিস্বাদ ও অরুচি দেখা দেয়। এতে পুষ্টির অভাব হয় এবং রক্তকণিকা সৃষ্টি হয় না।
মানুষের দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর ক্ষতিকর প্রভাব ।। Harmful Effect of Malaria Parasite
১। ম্যালেরিয়া জ্বরঃ মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রে হিমোজয়েন নামক বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। হিমোজয়েন-এর কারণে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং কাঁপুনীসহ জ্বর আসে। একে ম্যালেরিয়া জ্বর বলে। ইহা একটি মারাত্বক রোগ। এতে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
২। যকৃত কোষ ধ্বংস সাধনঃ ম্যালেরিয়া পরজীবীর স্পোরোজয়েট মশকীর লালার মাধ্যমে মানুষের যকৃত কোষে প্রবেশ করে। যকৃত কোষে প্রবেশের পর স্পোরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং ক্রিপ্টোজয়েটে পরিনত হয়। ক্রিপ্টোজয়েটের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। একে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে ক্রিপ্টোমেরোজয়েটে পরিনত হয়। ক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যকৃত কোষকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে।
সৃষ্ট প্রতিটি ক্রিপ্টোমেরোজয়েট আবার নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয়। উহার নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। একে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ¬াজম জমা হয়ে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটে পরিনত হয়। মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো পরিনত হলে যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যকৃত কোষকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে একের পর এক যকৃত ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
৩। লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস সাধনঃ ম্যালেরিয়া পরজীবীর মেরোজয়েট রক্তরসের মাধ্যমে মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে। লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশের পর মেরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং ট্রফোজয়েটে পরিনত হয়। ট্রফোজয়েট থেকে সিগনেট রিং সৃষ্টি হয়। সিগনেট রিং এর আকৃতি পরিবর্তন হয় এবং অ্যামিবার ন্যায় অনির্দিষ্ট আকৃতি ধারণ করে। একে অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট বলে। এরপর অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট আকৃতি পরিবর্তন করে গোলাকার ধারণ করে। উহার নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। এ অবস্থাকে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে মেরোজয়েটে পরিনত হয়। মেরোজয়েট গুলো লোহিত রক্তকণিকার প্রাচীর ভেঙ্গে লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। সৃষ্ট প্রতিটি মেরোজয়েট পুনরায় লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। এভাবে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হতে থাকে।
ম্যালেরিয়া পরজীবী দ্বারা যকৃত কোষ ও লোহিত রক্তকণিকা একের পর এক ধ্বংস হতে থাকলে পোষকের রক্ত শুন্যতা দেখা দেয় এবং সবশেষে পোষক মারা যেতে পারে।