সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস-Swine Influenza virus

Swine Influenza virus দ্বারা সোয়াইন ফ্লু রোগ হয়। Influenza ভাইরাসের H5N1 ও H1N1 এর কারণে এই সোয়াইন ফ্লু হয়ে থাকে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত হয়। মানুষ এবং শুকর এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মুরগী মারা যায়। ভারতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ৩৪,০০০ লোক আক্রান্ত হয়।

বার্ড ফ্লু ভাইরাস-Bard Flu Virus

Avian Influenza virus (Hemaglutinin-1 Neuraminidase type-1=H1N1) এর কারণে বার্ড ফ্লু রোগ হয়। ২০০৮ সালে বার্ড ফ্লু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মহামারী আকার ধারণ করেছিল। এ রোগে হাঁস-মুরগী আক্রান্ত হয় এবং পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।

ইবোলা ভাইরাস-Ebola Virus

ইবোলা একটি মারাত্বক মরণ ভাইরাস। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার কঙ্গোর ইবোলা নদীর তীরে সর্বপ্রথম একজন কৃষক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত কৃষকের চোখ, নাক, কান ও গলায় রক্ত ক্ষরণ হয়েছিল। নদীর নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার জায়ার-এ ইবোলা ভাইরাসের আক্রমণে মহামারী দেখা দিয়ে ছিল। ২০১৪-১৫ সালে ইবোলার আক্রমণে গিনি, সিয়েরালিওন ও লাইবেরীতে ২৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১১০০০ লোক মারা যায়। ২-২১ দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।

মহামারি ভাইরাস Epidemic virus

অসংখ্য ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং মানুষের মাঝে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ^ব্যাপী মহামারী সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো-

(i) HIV : মরণব্যাধি AIDS রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো HIV। ইহা মানুষের শে^ত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশে ক্রমেই এইডস্ রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

(ii) ইবোলা ভাইরাসঃ ইবোলা একটি মারাত্বক মরণ ভাইরাস। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার কঙ্গোর ইবোলা নদীর তীরে সর্বপ্রথম একজন কৃষক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত কৃষকের চোখ, নাক, কান ও গলায় রক্ত ক্ষরণ হয়েছিল। নদীর নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার জায়ার-এ ইবোলা ভাইরাসের আক্রমণে মহামারী দেখা দিয়ে ছিল। ২০১৪-১৫ সালে ইবোলার আক্রমণে গিনি, সিয়েরালিওন ও লাইবেরীতে ২৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১১০০০ লোক মারা যায়। ২-২১ দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।

(iii) বার্ড ফ্লু ভাইরাসঃ Avian Influenza virus (Hemaglutinin-1 Neuraminidase type-1=H1N1) এর কারণে বার্ড ফ্লু রোগ হয়। ২০০৮ সালে বার্ড ফ্লু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মহামারী আকার ধারণ করেছিল। এ রোগে হাঁস-মুরগী আক্রান্ত হয় এবং পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।

(iv) সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসঃ Swine Influenza virus দ্বারা সোয়াইন ফ্লু রোগ হয়। Influenza ভাইরাসের H5N1 ও H1N1 এর কারণে এই সোয়াইন ফ্লু হয়ে থাকে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত হয়। মানুষ এবং শুকর এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মুরগী মারা যায়। ভারতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ৩৪,০০০ লোক আক্রান্ত হয়।

(v) জিকা ভাইরাসঃ জিকা ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার নাম জিকা জ¦র। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনে বসবাসকারী রেসাস বানরের দেহে সর্বপ্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এটি মশার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের চট্রগ্রাম জেলায় জিকা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়।  জিকা ভাইরাসের বাহক Aedes aegypti  I Aedes albopictus মশকী।

(vi) নিপা ভাইরাসঃ ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শূকরের খামারে সর্বপ্রথম নিপা ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে। এই ভাইরাসের বাহক হলো বাদুর। খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে ইহা মানবদেহে সংক্রমিত হয়। ইহা একটি RNA ভাইরাস। এই ভাইরাসের আক্রমণে শ্বসনে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

(vii) চিকুনগুনিয়াঃ চিকুনগুনিয়া হলো একটি α-ভাইরাস (RNA)। এর বাহক হলো Aedes aegypti এবং Aedes albopictus মশকী। ১৯৫২ সালে আফ্রিকার তানজানিয়ায় সর্বপ্রথম চিকুনগুনিয়া আবিষ্কৃত হয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে চিকুনগুনিয়া বাংলাদেশে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। চিকুনগুনিয়াকে ল্যাংড়া জ¦রও বলা হয়।

জুওনেটিক ভাইরাস

যে সব ভাইরাস মেরুদন্ডী প্রাণী থেকে মানুষের দেহে প্রাকৃতিক ভাবে সংক্রমিত হয় তাদেরকে জুওনেটিক ভাইরাস বলে। জুওনেটিক ভাইরাস গুলো হলো-

(i) সার্স করোনা ভাইরাসঃ Severe acute respiratory syndrome coronavirus দ্বারা সৃষ্ট রোগকে SARS বলা হয়। এই রোগ বাদুর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০০৩ সালে সার্স রোগে চীন, তাইওয়ান, কানাডা প্রভৃতি দেশে প্রায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে।

(ii) মার্স করোনা ভাইরাসঃ Middle East respiratory syndrome coronavirus দ্বারা সৃষ্ট রোগকে MERS বলা হয়। এই রোগ বাদুর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০০৩ সালে মার্স রোগে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে।

(iii) সার্স করোনা ভাইরাস-২ঃ Severe acute respiratory syndrome coronavirus-2 দ্বারা সৃষ্ট রোগকে SARS-2 বলা হয়। এই রোগ পৃথিবীব্যাপী COVID-19 নামে পরিচিত। ইহা চীনের উনানের বাদুর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত এই রোগে ছয় মিলিয়ন লোকের মৃত্যু হয়েছে।

ভাইরাসঘটিত রোগ সমুহ

১। মানুষের রোগ সৃষ্টিঃ ভাইরাস মানুষের বসন্ত, হাম, পোলিও, জলাতঙ্ক, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জন্ডিস, হার্পিস, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, ইবোলা, এইডস্, সার্স, সোয়াইন ফ্লু, ক্যান্সার প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে অনকোজেনিক (oncogenic) ভাইরাস বলে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী DNA ভাইরাসকে সাইমিয়ান এবং RNA ভাইরাসকে রেট্রোভাইরাস বলে। হিউম্যান প্যাপিলারি ভাইরাস (HPV) টিউমার সৃষ্টি করে, ক্যাপোসি সারকোমা হার্পেস ভাইরাস (KSHV) ত্বক ক্যান্সার এবং হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস লিভার সিরোসিস ঘটায়।

২। উদ্ভিদের রোগঃ উদ্ভিদের মোজাইক রোগ, লিফরোল, টমেটোর বুসিস্ট্যান্ট, ধানের টুংরো, পেঁপের রিং স্পট, কলার বান্চী টপ প্রভৃতি রোগ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি হয়। প্রায় ৩০০ উদ্ভিদ রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে এবং ফলন হ্রাস পায়।

৩। গবাদি পশুর রোগঃ গরুর বসন্ত রোগ; গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল, শুকর প্রভৃতির ফুট এন্ড মাউথ রোগ এবং কুকুর ও বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগ ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

৪। হাঁস-মুরগির রোগঃ হাঁস-মুরগীর অ্যাভিয়ান, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু  প্রভৃতি মারাত্মক রোগ ভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হয়।

৫। রেশম পোকার রোগঃ Nuclear polyhedrosis virus (NPV) রেশম পোকার রসা রোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে রেশম শিল্পে বিপর্যয় ঘটে।

ভাইরাসের অপকারী ভূমিকা

১। মানুষের রোগ সৃষ্টিঃ ভাইরাস মানুষের বসন্ত, হাম, পোলিও, জলাতঙ্ক, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জন্ডিস, হার্পিস, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, ইবোলা, এইডস্, সার্স, সোয়াইন ফ্লু, ক্যান্সার প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে অনকোজেনিক (oncogenic) ভাইরাস বলে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী DNA ভাইরাসকে সাইমিয়ান এবং RNA ভাইরাসকে রেট্রোভাইরাস বলে। হিউম্যান প্যাপিলারি ভাইরাস (HPV) টিউমার সৃষ্টি করে, ক্যাপোসি সারকোমা হার্পেস ভাইরাস (KSHV) ত্বক ক্যান্সার এবং হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস লিভার সিরোসিস ঘটায়।

২। উদ্ভিদের রোগঃ উদ্ভিদের মোজাইক রোগ, লিফরোল, টমেটোর বুসিস্ট্যান্ট, ধানের টুংরো, পেঁপের রিং স্পট, কলার বান্চী টপ প্রভৃতি রোগ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি হয়। প্রায় ৩০০ উদ্ভিদ রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে এবং ফলন হ্রাস পায়।

৩। গবাদি পশুর রোগঃ গরুর বসন্ত রোগ; গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল, শুকর প্রভৃতির ফুট এন্ড মাউথ রোগ এবং কুকুর ও বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগ ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

৪। হাঁস-মুরগির রোগঃ হাঁস-মুরগীর অ্যাভিয়ান, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু  প্রভৃতি মারাত্মক রোগ ভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হয়।

৫। রেশম পোকার রোগঃ Nuclear polyhedrosis virus (NPV) রেশম পোকার রসা রোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে রেশম শিল্পে বিপর্যয় ঘটে।

৬। উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসঃ ভাইরাস আমাদের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

৭। জমির উর্বরতা হ্রাসঃ Cyanophage virus নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী নীলাভ সবুজ শৈবালকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়।

৮। শিল্প ক্ষেত্রেঃ মদ বা অ্যালকোহল শিল্পে ব্যবহৃত ঈষ্টকে ধ্বংস করে দেয়। এতে শিল্প বিপর্যয় ঘটে।

৯। ইমার্জিং ভাইরাসঃ যে সব ভাইরাস আদি পোষক থেকে নতুন পোষক প্রজাতিতে রোগ সৃষ্টি করে তাদেরকে ইমার্জিং ভাইরাস বলে। বার্ড ফ্লু ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আদি পোষক পাখি এবং HIV-এর পোষক হলো বানর। এরা পরে মানুষের দেহে রোগ সৃষ্টি করেছে। ১৯১৮-১৯১৯ সালে পৃথিবীতে ২১ মিলিয়নের বেশি মানুষ বার্ড ফ্লুতে মারা গেছে। HIV, SARS, Nile, Ebola প্রভৃতি ইমার্জিং ভাইরাস।

১০। জুওনেটিক ভাইরাসঃ যে সব ভাইরাস মেরুদন্ডী প্রাণী থেকে মানুষের দেহে প্রাকৃতিক ভাবে সংক্রমিত হয় তাদেরকে জুওনেটিক ভাইরাস বলে। জুওনেটিক ভাইরাস গুলো হলো-

(i) সার্স করোনা ভাইরাসঃ Severe acute respiratory syndrome coronavirus দ্বারা সৃষ্ট রোগকে SARS বলা হয়। এই রোগ বাদুর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০০৩ সালে সার্স রোগে চীন, তাইওয়ান, কানাডা প্রভৃতি দেশে প্রায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে।

(ii) মার্স করোনা ভাইরাসঃ Middle East respiratory syndrome coronavirus দ্বারা সৃষ্ট রোগকে MERS বলা হয়। এই রোগ বাদুর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০০৩ সালে মার্স রোগে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে।

(iii) সার্স করোনা ভাইরাস-২ঃ Severe acute respiratory syndrome coronavirus-2 দ্বারা সৃষ্ট রোগকে SARS-2 বলা হয়। এই রোগ পৃথিবীব্যাপী COVID-19 নামে পরিচিত। ইহা চীনের উনানের বাদুর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত এই রোগে ছয় মিলিয়ন লোকের মৃত্যু হয়েছে।

১১। মহামারি ভাইরাসঃ অসংখ্য ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং মানুষের মাঝে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ^ব্যাপী মহামারী সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো-

(i) HIV : মরণব্যাধি AIDS রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো HIV। ইহা মানুষের শে^ত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশে ক্রমেই এইডস্ রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

(ii) ইবোলা ভাইরাসঃ ইবোলা একটি মারাত্বক মরণ ভাইরাস। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার কঙ্গোর ইবোলা নদীর তীরে সর্বপ্রথম একজন কৃষক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত কৃষকের চোখ, নাক, কান ও গলায় রক্ত ক্ষরণ হয়েছিল। নদীর নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার জায়ার-এ ইবোলা ভাইরাসের আক্রমণে মহামারী দেখা দিয়ে ছিল। ২০১৪-১৫ সালে ইবোলার আক্রমণে গিনি, সিয়েরালিওন ও লাইবেরীতে ২৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১১০০০ লোক মারা যায়। ২-২১ দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।

(iii) বার্ড ফ্লু ভাইরাসঃ Avian Influenza virus (Hemaglutinin-1 Neuraminidase type-1=H1N1) এর কারণে বার্ড ফ্লু রোগ হয়। ২০০৮ সালে বার্ড ফ্লু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মহামারী আকার ধারণ করেছিল। এ রোগে হাঁস-মুরগী আক্রান্ত হয় এবং পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।

(iv) সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসঃ Swine Influenza virus দ্বারা সোয়াইন ফ্লু রোগ হয়। Influenza ভাইরাসের H5N1 ও H1N1 এর কারণে এই সোয়াইন ফ্লু হয়ে থাকে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত হয়। মানুষ এবং শুকর এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মুরগী মারা যায়। ভারতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ৩৪,০০০ লোক আক্রান্ত হয়।

(v) জিকা ভাইরাসঃ জিকা ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার নাম জিকা জ¦র। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনে বসবাসকারী রেসাস বানরের দেহে সর্বপ্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এটি মশার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের চট্রগ্রাম জেলায় জিকা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়।  জিকা ভাইরাসের বাহক Aedes aegypti  I Aedes albopictus মশকী।

(vi) নিপা ভাইরাসঃ ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শূকরের খামারে সর্বপ্রথম নিপা ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে। এই ভাইরাসের বাহক হলো বাদুর। খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে ইহা মানবদেহে সংক্রমিত হয়। ইহা একটি RNA ভাইরাস। এই ভাইরাসের আক্রমণে শ্বসনে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

(vii) চিকুনগুনিয়াঃ চিকুনগুনিয়া হলো একটি α-ভাইরাস (RNA)। এর বাহক হলো Aedes aegypti এবং Aedes albopictus মশকী। ১৯৫২ সালে আফ্রিকার তানজানিয়ায় সর্বপ্রথম চিকুনগুনিয়া আবিষ্কৃত হয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে চিকুনগুনিয়া বাংলাদেশে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। চিকুনগুনিয়াকে ল্যাংড়া জ¦রও বলা হয়।

১২। উপকারী অণুজীব ধ্বংসঃ কিছু ভাইরাস উপকারী অণুজীবকে ধ্বংস করে অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করে। Xymophage ভাইরাস মদ বা অ্যালকোহল শিল্পে ব্যবহৃত ঈস্টকে ধ্বংস করে। Cyanophage ভাইরাস নীলাভ সবুজ শৈবালকে ধ্বংস করে। এতে মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কমে যায়। T2 ব্যাকটেরিওফায্ মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী E. coli ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

ভাইরাসের উপকারী ভূমিকা

১। প্রতিষেধক টিকাঃ ভাইরাসঘটিত কতিপয় রোগের প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাক্সিন ভাইরাস থেকে তৈরী করা হয়। বসন্ত, পোলিও, জলাতষ্ক, জন্ডিস, কলেরা, প্লেগ, রক্ত আমাশয়, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের টিকা ভাইরাস থেকে তৈরী করা হয়।

২। ঔষধ হিসেবেঃ কলেরা, টাইফয়েড, রক্ত আমাশয় ও প্লে¬গ নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগে কিছু কিছু ফাজ ভাইরাস ব্যবহৃত হয়।

৩। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসঃ ভাইরাস পরিবেশে বিদ্যমান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে  ধ্বংস করে আমাদের উপকার করে। ফায্ ভাইরাস E. coli ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

৪। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনঃ ভাইরাসের সাহায্যে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে Nuclear polyhydrosis virus-কে পতঙ্গ নাশক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৫। গবেষণাঃ জীনতত্ত্বীয় এবং আণবিক জীববিজ্ঞানের গবেষণায় বর্তমানে ভাইরাস ব্যবহার হচ্ছে। জেনেটিক প্রকৌশলে ভাইরাস বাহক হিসেবে ব্যবহার হয়।

৬। ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিঃ ভাইরাসের আক্রমণে টিউলিপ ফুলে সাদা সাদা দাগ সৃষ্টি হয়। এতে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। একে ব্রোকেন টিউলিপ বলে। ব্রোকেন টিউলিপ ফুলের বাজার মুল্য বেশি।

৭। জীবতাত্ত্বি গবেষণায়ঃ ভাইরাস মাইক্রোবায়োলজি, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জিন প্রকৌশল গবেষণায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হয়।

৮। ব্যাকটেরিওফায থেরাপিঃ টাইফয়েড, কলেরা, রক্ত আমাশয়, প্লেগ প্রভৃতি রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ফায ভাইরাস ব্যবহার হয়।

৯। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষাঃ ফায ভাইরাস সমুদ্রের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে বিপুল পরিমাণ CO2 মুক্ত করে। ইহা সমুদ্রের বাস্ত্রতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করে। সমুদ্রের এক মিলিলিটার পানিতে এক লক্ষ ভাইরাস থাকে।

১০। জৈবিক নিয়ন্ত্রণঃ বর্তমানে বিশ^ব্যাপী জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় খরগোশ নিয়ন্ত্রণে মিক্সোভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে।

১১। বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণেঃ ভাইরাস হলো জীববৈচিত্র্যের সর্ববৃহৎ আধার। ইহা জীব ও জড়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই জীবের উৎপত্তি ও বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভাইরাসের লাইসোজেনিক চক্র (Lysogenic cycle)

যে প্রক্রিয়ায় ভাইরাসের DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ার DNA-এর সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিলিপি গঠন করে এবং তা পোষক কোষের ভিতরেই অবস্থান করে তাকে লাইসোজেনিক চক্র বলে। যে ভাইরাস লাইসোজেনিক চক্র প্রদর্শন করে তাকে টেমপারেট ফায বলে। ল্যামডা (λ)  ফাজ (P1, M13) ভাইরাসে লাইসোজেনিক চক্র ঘটে। এ চক্রের ধাপ গুলো আলোচনা করা হলো।

১। সংক্রমণ পর্যায়ঃ ল্যামডা (λ) ফায্ E. coli ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের উপর এসে স্থাপিত হয়। ভাইরাস স্পর্শক তন্তু দ্বারা ব্যাকটেরিয়ার receptive spot বা গ্রাহী স্থানে সংযুক্ত হয়। এরপর স্পর্শক তন্তু গুলো সঙ্কুচিত হয়। ভাইরাসের বেস প্লেটটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের সংস্পর্শে আসে। ভাইরাসের লেজ থেকে লাইসোজাইম এনজাইম নিঃসৃত হয়। লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের মিউকোপেপটাইডকে বিগলিত করে। ফলে একটি সুক্ষ্ম ছিদ্র বা নালিকা সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াকে ড্রিলিং বলে। ছিদ্র বা নালিকার মধ্য দিয়ে ভাইরাসের DNA ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করে। কিন্তু ক্যাপসিড আবরণীটি বাইরে থাকে।

২। পোষক কোষে ফাজ DNA প্রবেশ পর্যায়ঃ ভাইরাসের DNA মস্তক হতে লেজে স্থানান্তরিত হয়। এরপর ভাইরাল DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের ছিদ্র বা নালিকার মধ্য দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু ক্যাপসিড আবরণীটি পোষক কোষের বাইরে থাকে।

৩। প্রোফায গঠনঃ ভাইরাল DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পোষক কোষের জিন গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে প্রোটিন ও লাইসোজাইম উৎপন্ন হতে পারে না। ফলে ভাইরাল DNA-কে বেষ্টন করে ক্যাপসিড আবরণী তৈরী হতে পারে না। এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইম ব্যাকটেরিয়ার DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে দেয়। ইন্ট্রিগ্রেজ এনজাইম ভাইরাল DNA-কে ব্যাকটেরিয়াল DNA-এর কাটা অংশের সাথে যুক্ত করে দেয়। সংযুক্ত ভাইরাস DNA-কে প্রোফায বলে।

৪। প্রোফাযের সংখ্যা বৃদ্ধিঃ প্রোফায ব্যাকটেরিয়ার জিনোমের সাথে যুক্ত হয়ে বার বার বিভাজিত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষে সঞ্চারিত হয়। এ ধরনের ফাযকে লাইসোজেনিক ফায বা টেম্পারেট ফায বলে। ইহা লাইটিক চক্রে প্রবেশ করতে পারে।

লাইসোজেনিক ভাইরাস মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীকে আক্রমণ করতে পারে। যেমন- Herpes simplex ভাইরাস।

ভাইরাসের লাইটিক চক্র (Lytic cycle)

যে প্রক্রিয়ায় ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কোষকে আক্রমণ করে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পন্ন করে তাকে লাইটিক জীবনচক্র বলে। T2 ফায্ বা ভিরুলেন্ট ফায্ এর লাইটিক চক্রের ধাপ গুলো আলোচনা করা হলো।

১। সংক্রমণ পর্যায়ঃ T2 ব্যাকটেরিওফায্ E. coli নামক ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের উপর এসে স্থাপিত হয়। ভাইরাসটি স্পর্শক তন্তু দ্বারা ব্যাকটেরিয়ার receptive spot বা গ্রাহী স্থানে সংযুক্ত হয়। এরপর স্পর্শক তন্তু গুলো সঙ্কুচিত হয়। ভাইরাসের বেস প্লেটটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের সংস্পর্শে আসে। ভাইরাসের লেজ থেকে লাইসোজাইম নামক এনজাইম নিঃসৃত হয়। লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের মিউকোপেপটাইডকে বিগলিত করে। ফলে একটি সুক্ষ্ম ছিদ্র বা নালিকা সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াকে ড্রিলিং বলে। ছিদ্র বা নালিকার মধ্য দিয়ে ভাইরাসের DNA ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করে। কিন্তু ক্যাপসিড আবরণীটি বাইরে থাকে।

২। সুপ্তিকালঃ ভাইরাসের DNA পোষক কোষে প্রবেশের পর ১২-২২ মিনিট পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকে। এ সময়ে ভাইরাসের DNA পোষকের বংশগতীয় কার্যকলাপ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

৩। ফায্ অঙ্গ উৎপাদনঃ ভাইরাস DNA পোষক কোষে প্রবেশের পর পোষকের DNA-এর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এরপর পলিমারেজ এনজাইমের সহায়তায় পোষকের নিউক্লিওটাইড ব্যবহার করে নতুন DNA উৎপন্ন  করে। উৎপন্ন নতুন DNA গুলো RNA তৈরী করে। RNA পোষকের রাইবোসোমের সাহায্যে প্রোটিন তৈরী করে। প্রোটিন অণু গুলো যুক্ত হয়ে ক্যাপসিড গঠন করে। উল্লেখ যে, ফাজের মস্তক, লেজ ও স্পর্শক তন্তু গঠনের জন্য পৃথক পৃথক প্রোটিন উৎপন্ন হয়।

৪। T2 ফায্ সৃষ্টিঃ প্রোটিন অণু গুলো যুক্ত হয়ে মস্তক, লেজ ও স্পর্শক তন্তু তৈরী করে। পরে এই তিনটি অংশ সংযুক্ত হয়ে প্রোটিন খোলক গঠন করে। DNA অণুর একটি কপি মস্তকে প্রবেশ করে। এরপর লেজ এবং অন্যান্য অংশ যুক্ত হয়ে T2 ফায্ সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাকটেরিয়া কোষে অসংখ্য  অপত্য ভাইরাস সৃষ্টি হয়। সবশেষে অপত্য ভাইরাসের লেজে লাইসোজাইম এনজাইমের সংশ্লেষ ঘটে।

৫। লাইসিসঃ পোষক কোষের ভিতরে ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পোষকের কোষপ্রাচীরে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। লাইসোজাইম এনজাইমের প্রভাবে পোষকের কোষ প্রাচীরের মিউকোপ্রোটিন কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কোষপ্রাচীর বিদীর্ণ হয় এবং T2 ফায্ বাইরে নির্গত হয়। কোষপ্রাচীর বিদীর্ণ হওয়াকে লাইসিস বা বিগলন বলে। এমন প্রকৃতির ফাযকে লাইটিক ফায বা ভিরুলেন্ট ফায বলে।

পোষক ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করার পর থেকে পূর্ণাঙ্গ ভাইরাস সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত সময়কালকে ইকলিপস বলে। T2 ফাজ ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সময় লাগে (ইকলিপস) ৩০ মিনিট। এ সময়ে প্রতি কোষে ৩০০টি T2 ফায্ উৎপন্ন হয়। নির্গত নতুন ফাজ পরে নতুন পোষক কোষকে আক্রমণ করে।