১৮৯৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ইমিল ফিশার (Emil Fisher) এনজাইমের ক্রিয়া কৌশল সম্পর্কে তালা-চাবি মতবাদ প্রকাশ করেন। এই মতবাদ অনুসারে একটি নির্দিষ্ট এনজাইম একটি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের সাথে তালা-চাবির মতো যুক্ত হয়ে এনজাইম সাবস্ট্রেট কমপ্লেক্স গঠন করে বলে এরুপ নামকরণ করা হয়েছে। তালা-চাবি মতবাদটি আলোচনা করা হলো।
এনজাইম হলো বিশেষ ধরনের প্রোটিন যা অসংখ্য অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত। প্রতিটি এনজাইম অণু সুনির্দিষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট হয়। এদের অ্যাপো এনজাইমের যে স্থানে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে বিক্রিয়া ঘটায় সেস্থানকে Active site বা সক্রিয় স্থান বলে। প্রতিটি এনজাইমে এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান বা বিক্রিয়া কেন্দ্র থাকে। সাবস্ট্রেটের আকার এবং এনজাইমের সক্রিয় স্থানের আকার সব সময় একই রকম হয়। তালা-চাবি মতবাদ অনুসারে নির্দিষ্ট সাবষ্ট্রেট অণু বা অণু গুলো নির্দিষ্ট এনজাইমের সক্রিয় স্থান বা বিক্রিয়া কেন্দ্রে চাবির মতো সংযুক্ত হয়। একে induced fit বলা হয়। এরপর হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা সাবষ্ট্রেট অণু এনজাইম অণুর সাথে যুক্ত হয়ে এনজাইম সাবষ্ট্রেট কমপ্লেক্স গঠন করে। এনজাইমের একটি সক্রিয় স্থানে একটি মাত্র সাবষ্ট্রেট যুক্ত হয়। কখনো একটি সক্রিয় স্থানে একাধিক সাবষ্ট্রেট যুক্ত হতে পারে না। একটি তালা যেমন একটি নির্দিষ্ট চাবি ছাড়া খোলে না, তেমনী একটি নির্দিষ্ট এনজাইম একটি নির্দিষ্ট সাবষ্ট্রেট ছাড়া অন্য কোন সাবষ্ট্রেটের উপর ক্রিয়া করে না। এনজাইম সাবষ্ট্রেট কমপ্লেক্স গঠিত হলে এনজাইম সাবস্ট্রেটকে সহজেই ভেঙ্গে দেয় অথবা অণু গুলোর মধ্যে বন্ধনী সৃষ্টি করে বৃহৎ অণু গঠন করে। বিক্রিয়া শেষে উৎপাদিত পদার্থ বন্ধনী মুক্ত হয়ে দূরে সরে যায় এবং এনজাইম অবিকৃত ভাবে মুক্ত হয়। মুক্ত এনজাইমটি নতুন বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।
তালা-চাবি মতবাদ অনুসারে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণকারী সাবষ্ট্রেট অণুর আকৃতি অবশ্যই এনজাইমের সক্রিয় স্থান বা বিক্রিয়া কেন্দ্রে যুক্ত হওয়ার উপযুক্ত হতে হবে। এনজাইম এবং সাবস্ট্রেটের আকারের সামান্যতম পরিবর্তন হলে কার্যকারীতারও পরিবর্তন ঘটে।
আধুনিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, কিছু কিছু এনজাইম একাধিক সাবস্ট্রেটের উপর ক্রিয়া করে। পেপিন এনজাইম ৬০-১৮০টি সাবস্ট্রেট অণুর উপর বিক্রিয়াশীল। এ কারণে অনেক বিজ্ঞানীর নিকট তালা-চাবি মতবাদ প্রশ্নবিদ্ধ।