তরুণাস্থির কাজ বা গুরুত্ব

১। তরুণাস্থি বিভিন্ন অঙ্গের টান চাপ প্রতিরোধ করে।

২। বিভিন্ন অঙ্গের আকৃতি দান করে।

৩। অস্থিসন্ধিতে দুই বা ততোধিক অস্থিকে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে।

৪। অস্থিকে ঘর্ষণের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

৫। টেনডন লিগামেন্টকে অস্থির সাথে যুক্ত হতে সহায়তা করে।

৬। তরুণাস্থির লুব্রিসিন নামক গ্লাইকোপ্রোটিন লুব্রিকেটর হিসেবে কাজ করে।

৭। মেরুদন্ডী প্রাণীদের ভ্রুণীয় কঙ্কাল এবং কনড্রিকথিস জাতীয় মাছের অন্তঃকঙ্কাল গঠন করে।

তরুণাস্থি । তরুণাস্থির শ্রেণীবিভাগ । Classification of cartilage

গঠনের উপর ভিত্তি করে তরুণাস্থিকে ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গুলো হলো

১। স্বচ্ছ বা হায়ালিন তরুণাস্থিঃ তরুনাস্থির ম্যাটিক্স স্বচ্ছ, দৃঢ়, নমনীয়, সমসত্ত¡, নীলাভ স্থিতিস্থাপক। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে কোন তন্তু থাকে না। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাক, শ্বাসনালী, স্বরযন্ত্র, পর্শুকার প্রান্তভাগ, অস্থিসন্থি এবং মেরুদন্ডি প্রাণীর ভ্রুণে এই তরুণাস্থি থাকে।

২। পীততন্তুময় তরুণাস্থিঃ তরুণাস্থির ম্যাটিক্স অস্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক এবং হালকা হলুদ বর্ণের। এতে পীত বর্ণের তন্তু ছড়ানো থাকে। তন্তু গুলো শাখান্বিত এবং বিক্ষিপ্ত ভাবে অবস্থান করে। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। ইহা বহিঃকর্ণ, পিনা, আলজিহ্বা, ইউস্টেশিয়ান নালী, ইপিগøটিস, স্বরযন্ত্র, লসিকার অগ্রভাগ প্রভৃতিতে থাকে।

৩। শ্বেতন্তুময় তরুণাস্থিঃ তরুণাস্থির ম্যাটিক্স অস্বচ্ছ এবং বর্ণহীন। এতে শ্বেত বর্ণের তন্তু থাকে। তন্তু গুলো শাখাবিহীন এবং সমান্তরাল গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। ইহা সন্ধি এবং কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানে থাকে।

৪। ক্যালসিফাইড বা চুনময় তরুণাস্থিঃ তরুণাস্থির ম্যাটিক্সে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে। এর ম্যাটিক্স অস্থির মতো শক্ত। ইহা হিউমেরাস ফিমারের মস্তকে থাকে।

ক্যালসিফাইড তরুণাস্থি কী । চুনময় তরুণাস্থি কী

এ তরুণাস্থির ম্যাটিক্সে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে। এর ম্যাটিক্স অস্থির মতো শক্ত। ইহা হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তকে থাকে।

শ্বেতন্তুময় তরুণাস্থি কী

এ তরুণাস্থির ম্যাটিক্স অস্বচ্ছ এবং বর্ণহীন। এতে শ্বেত বর্ণের তন্তু থাকে। তন্তু গুলো শাখাবিহীন এবং সমান্তরাল ও গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। ইহা সন্ধি এবং কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানে থাকে।

পীততন্তুময় তরুণাস্থি কী

এ তরুণাস্থির ম্যাটিক্স অস্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক এবং হালকা হলুদ বর্ণের। এতে পীত বর্ণের তন্তু ছড়ানো থাকে। তন্তু গুলো শাখান্বিত এবং বিক্ষিপ্ত ভাবে অবস্থান করে। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। ইহা বহিঃকর্ণ, পিনা, আলজিহ্বা, ইউস্টেশিয়ান নালী, ইপিগøটিস, স্বরযন্ত্র, লসিকার অগ্রভাগ প্রভৃতিতে থাকে।

হায়ালিন তরুণাস্থি কী। স্বচ্ছ তরুণাস্থি কী

তরুণাস্থির ম্যাটিক্স স্বচ্ছ, দৃঢ়, নমনীয়, সমসত্ত্ব, নীলাভ স্থিতিস্থাপক। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে কোন তন্তু থাকে না। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাক, শ্বাসনালী, স্বরযন্ত্র, পর্শুকার প্রান্তভাগ, অস্থিসন্থি এবং মেরুদন্ডি প্রাণীর ভ্রুণে এই তরুণাস্থি থাকে।

হায়ালিন তরুণাস্থি কী

হায়ালিন  তরুণাস্থির ম্যাটিক্স স্বচ্ছ, দৃঢ়, নমনীয়, সমসত্ত¡, নীলাভ ও স্থিতিস্থাপক। ইহা পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এতে কোন তন্তু থাকে না। এতে ল্যাকুনা নামক গহ্বর থাকে। ল্যাকুনার ভিতরে কনড্রোসাইট বা কনড্রোব্লাস্ট থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাক, শ্বাসনালী, স্বরযন্ত্র, পর্শুকার প্রান্তভাগ, অস্থিসন্থি এবং মেরুদন্ডি প্রাণীর ভ্রুণে এই তরুণাস্থি থাকে।

তরুণাস্থি বা কমলাস্থির বৈশিষ্ট্য কী কী

১। তরুণাস্থির কোন রক্তনালি বা লসিকা থাকে না।

২। এতে স্নায়ু প্রবাহ থাকে না অর্থাৎ সংবেদনহীন।

৩। এতে ক্ষত হলে নিরাময়ে বেশি সময় লাগে।

৪। পেরিকনড্রিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।

৫। এতে ক্যালসিয়ামের পরিবর্তে কনড্রয়টিন থাকে।

৬। তরুণাস্থিতে ক্যালসিয়াম জমা হলে কোষগুলো মারা যায়।

৭। তরুণাস্থি ধীরে ধীরে অস্থিতে পরিনত হয়।

৮। এত লুব্রিসিন থাকে যা লুব্রিকেটর হিসেবে কাজ করে।

তরুণাস্থি বা কমলাস্থি কোথায় থাকে

নাক, কান, হিউমেরাস ফিমারের মস্তকে, অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, পর্শুকার প্রান্তভাগে, ইপিগ্লটিস, আন্তঃকশেরুকার চাকতি প্রভৃতি।

তরুণাস্থি কী । কমলাস্থি কী । Cartilage কী

কনড্রিন নামক অর্ধকঠিন স্থিতিস্থপক পদার্থ দ্বারা গঠিত কলাকে তরুণাস্থি বলে। এর ম্যাটিক্স কনড্রোমিউকয়েড কনড্রোঅ্যালবুনয়েড নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। কনড্রোমিউকয়েড কনড্রোঅ্যালবুনয়েডকে একত্রে কনড্রিন বলে। এতে কোলাজেন, ইলাস্টিন, প্রোটিওগ্লাইকেন, কনড্রোসাইট প্রভৃতি থাকে। তরুণাস্থির কোষকে কনড্রোসাইট বলে। কনড্রোসাইটের গুচ্ছকে ল্যাকুনা বলে। ইহা পেরিকন্ড্রিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে।