কোষে DNA-র অবস্থান

১। দেহ কোষেঃ মানুষের দেহকোষে ক্রোমোসোম থাকে। ক্রোমোসোমে DNA অবস্থান করে। মানুষের দেহকোষে ডিপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে।

২। জনন কোষেঃ মানুষের জননকোষে হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোসোম থাকে। হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোসোমে DNA থাকে। মানুষের জনন কোষের ক্রোমোসোমকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে।

৩। রক্তেঃ রক্ত হলো তরল যোজক কলা। রক্ত পরীক্ষা করে DNA টেস্ট করা হয়।

৪। বীর্যেঃ প্রাণীদের বীর্যে DNA থাকে। বীর্য থেকে DNA শনাক্ত করা হয়।

৫। লালারসেঃ মানুষের লালারসে DNA থাকে। লালারস থেকে DNA শনাক্ত করা হয়।

৬। মুখের তরলেঃ মানুষের হাঁচি, কাঁশি ও থুথুতে DNA থাকে। এসব তরল থেকে DNA শনাক্ত করা হয়।

৭। হাড়েঃ হাড় হলো কঠিন যোজক কলা। এই যোজক কলায় DNA থাকে।

৮। চুলেঃ চুল থেকে DNA শনাক্ত করা হয়।

৯। নখেঃ হাত ও পায়ের নখ থেকে DNA শনাক্ত করা হয়।

জিনোম সিকুয়েন্সিং ।। জিনোম সিকুয়েন্সিং পদ্ধতি

জিনোম সিকোয়েন্সিং এর দুইটি পদ্ধতি হলোChemical degradation method এবং Chain termination method ১৯৭৬ সালে A. Maxam I W. Gilbert  Chemical degradation method এবং ১৯৭৭ সালে F. Sanger I A.R. Coulsor Chain termination method আবিষ্কার করেন। জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো

১। DNA অণুকে রিএজেন্ট সমৃদ্ধ করে ৪টি টেস্টটিউবে ভাগ করে নেওয়া হয়।

২। জেল ইলেক্টোফোরেসিস পদ্ধতিতে চারটি বিক্রিয়ায় প্রতিটিকে পৃথক করা হয়।

৩। রেডিওঅ্যাক্টিভ ব্যান্ড এর স্থান পরিমাণ (size) থেকে জিনোম সিকুয়েন্সিং নির্ণয় করা হয়।

৪। কম্পিউটারের সাহায্যে X-ray স্ক্যানার ব্যবহার করে ইলেক্টোফোরেসিস এর রেজাল্ট বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা করা হয়।

জিনোম সিকোয়েন্সিং ।। জিনোম সিকোয়েন্সিং আবিষ্কার

জার্মান উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হ্যান্স উনঙ্কলার (Hans Winkler, ১৯২০) সর্বপ্রথম জিনোম শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৯৭৬ সালে সর্বপ্রথম MS-2 ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়। ১৯৭৭ সালে ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার (Dr. F. Sanger) DNA-এর সিকুয়েন্সিং পদ্ধতির সূচনা ঘটান এবং প্রথম জীব হিসেবে ব্যাকটেরিওফায-এর জিনোম সিকোয়েন্স নির্ণয় করেন। ২০২০ সালে জিনোম সম্পাদনা পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য ফরাসি বিজ্ঞানী ইমানুয়েল কার্পেন্টার এবং মার্কিন বিজ্ঞানী জেনিফার এ. ডৌডানাকে রসায়নে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। তাদের প্রযুক্তির নাম হলো ক্রিসপার ক্যাস নাইল জেনেটিক সিজার্স।

DNA অণুর নিউক্লিওটাইডের নির্দিষ্ট অণুক্রমকে সিকোয়েন্স বলে। যে প্রক্রিয়ায় DNA-এর নিউক্লিওটাইড বা সিকোয়েন্স নির্ণয় করা হয় তাকে জিনোম সিকোয়েন্সিং বলা হয়। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম এবং তাঁর সহযোগীরা তোষা পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং বা জীবনরহস্য উৎঘাটন করেছেন। পাটের বেস পেয়ার ১২ কোটি। Paris japonica-এর জিনোম উদ্ভিদজগতে দীর্ঘতম। এতে ১৫০ বিলিয়ন বেস পেয়ার থাকে। এর একটি কোষের জেনেটিক তথ্যের দৈর্ঘ্য ৩২৮ ফুট। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী দল RNAi পদ্ধতি ব্যবহার করে মুগ ডালের হলুদ মোজাইক ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সিং সম্পন্ন করেছেন। জিনোম সিকুয়েন্সিং এর প্রবর্তক হলো ড. সানজার (Dr. F. Sanger).

জিনোম সিকোয়েন্সিং ।। জিনোম সিকোয়েন্সিং কী ।। Genome sequencing কী

ক্রোমোসোমের একটি সেটকে জিনোম বলে। মানুষের দেহকোষে এক জোড়া জিনোম আছে। সহজভাবে, জীবকোষে অবস্থিত জিনের সমষ্টিকে জিনোম বলে। জিনোমকে কোষের মাস্টার ব্লু-প্রিন্ট বলা হয়। মানব জিনোমের সকল জিনে প্রায় তিন মিলিয়ন ক্ষারক জোড় থাকে।

ত্বকীয় ফিঙ্গার প্রিন্টিং অপেক্ষা DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং উন্নত

ত্বকীয় ফিঙ্গার প্রিন্টিং বা ডারমাটোগিøফিক্স পদ্ধতিতে ব্যক্তি এবং অপরাধী শনাক্ত করা যায়। প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে ত্বকের ফিঙ্গার প্রিন্টিং পরিবর্তন করা যায়। তাই এই পদ্ধতি ক্রটিপূর্ণ। কিন্তু DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং কোনো ভাবেই পরিবর্তন করা যায় না। ব্যক্তির দেহের যে কোন অংশের কোষ, কলা বা অঙ্গের DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং সর্বদা একই রকম হয়। তাই অপরাধী শনাক্তকরণে DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং সর্বশ্রেষ্ঠ।

ফিঙ্গার প্রিন্ট ।। DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট এর গুরুত্ব

১। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর মাধ্যমে যে কোন অপরাধী সুনিশ্চিত ভাবে চিহ্নিত করা যায়।

২। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং খুনি, ধর্ষক, ডাকাত প্রভৃতি শনাক্তকরণে খুবই কর্যকরী।

৩। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং দ্বারা শিশুর পিতৃত্ব নির্ণয় করা হয়।

৪। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।

৫। এই পদ্ধতির সাহায্যে জেনেটিক ডাটাব্যাংক ও জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।

ফিঙ্গার প্রিন্ট ।। DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি

জেল ইলেকট্রোফোরোসিস প্রক্রিয়ায় কোন জীবের DNA-এর ফটোগ্রাফিক বিন্যাস বা ছাপ তৈরী করাকে DNA finger print বা DNA profile বলে। DNA সংগ্রহ করে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা কয়েকটি খন্ড কেটে নেওয়া হয়। জেল ইলেকট্রোফোরোসিস প্রক্রিয়ায় জেল স্তরের উপর দিয়ে খন্ডগুলো চালনা করা হয়। উঘঅ খন্ডগুলো ক্রমান্বয়ে ছোট হয় এবং সারিবদ্ধ ব্যান্ড হিসেবে জমা হয়। ব্যান্ডগুলো থেকে ফটোগ্রাফিক বিন্যাস বা ছাপ পাওয়া যায়। একে DNA finger print বলে।

ফিঙ্গার প্রিন্টিং ।। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর নমুনা সংগ্রহ

রক্তকণিকা (WBC), বীর্য, অস্থিমজ্জা, চুলের গোড়া, ত্বক, নখ, থুথু, লালারস, দেহের কোন অংশ প্রভৃতি নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। এসব কোষ DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর উৎস হিসেবে কাজ করে। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর ১ মাইক্রোগ্রাম কলা প্রয়োজন হয়।

ফিঙ্গার প্রিন্ট ।। DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট আবিষ্কার ।। DNA finger print

১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানী অ্যালিক জেফরি (Alec Jeffreys) ফিঙ্গার প্রিন্টিং পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৬ সালে এই পদ্ধতি আলাদতে গ্রহীত হয়।

ফিঙ্গার প্রিন্ট ।। DNA ফিঙ্গার প্রিন্ট কী ।। DNA finger print

মানুষের হাতের আঙ্গুলের ছাপ, দাগ বা চিহ্নকে টিপ সই বা ফিঙ্গার প্রিন্ট বলে। DNA এর অতি পরিবর্তনশীল অঞ্চল থেকে তেজস্ক্রিয় প্রোবের সাহায্যে নির্দিষ্ট ব্যান্ড চিহ্নিতকরণকে DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং বলে। যে জটিল প্রক্রিয়ায় DNA -এর ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওটাইডের সজ্জা নির্ণয় করে জেনেটিক তথ্যে কোনো ব্যক্তিকে অন্যান্য ব্যক্তি থেকে পৃথক করা যায় তাকে DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং বলে। DNA (ATGC)-এর ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট আলাদা হয়ে থাকে। জমি রেজিস্ট্রি, বিয়ের কাবিননামা রেজিস্ট্রি, বায়োমেট্রিক সীম নিবন্ধন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতরণ, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিশ্চিতরণ, কোন চুক্তিনামা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রয়োজন হয়।