রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। বাহক নির্বাচন ।। Host selection

কাংক্ষিত DNA এর প্রয়োজনীয় অংশ বহন করার জন্য বাহক নির্বাচন করা হয়। এ ক্ষেত্রে Agrobacterium tumefaciens নামক ব্যাকটেরিয়া উত্তম বাহক হিসেবে কাজ করে। এই ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত প্লাজমিড DNA এর সাথে কাক্সিক্ষত DNA এর প্রয়োজনীয় অংশ সংযুক্ত করে দেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কসমিড, ফাজমিড, কৃত্রিম ক্রোমোজোম প্রভৃতি বাহক ব্যবহার হয়।

রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। কাঙিক্ষত DNA নির্বাচন ও পৃথকীকরণ ।। Terget DNA selection

প্রথমে কাঙিক্ষত DNA নির্বাচন করা হয়। কাক্সিক্ষত DNA নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে উহা যেন সুস্থ, সবল, রোগমুক্ত ও উন্নত জাতের হয়। নির্বাচিত কোষকে প্রথমে সামান্য লাইসিস করা হয়। লাইসোজাইম (ব্যাকটেরিয়া কোষ), কাইটিনেজ (ছত্রাক কোষ), সেলুলেজ (উদ্ভিদ কোষ) প্রভৃতি এনজাইম ব্যবহার করে কোষের আবরণী নষ্ট করা হয়। এরপর লাইসিস করা কোষকে সেন্টিফিউজ টেস্টটিউবে ঢুকানো হয়। সেন্টিফিউজ টেস্ট টিউবে পরিমাণ মত সিজিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ প্রবেশ করানো হয়। অতঃপর দ্রবণটিকে সেন্টিফিউজ করা হয়। ফলে টেস্ট টিউবের গায়ে DNA এর একটি ব্যান্ড তৈরী হয়। DNA এর সাথে অন্যান্য উপাদান মিশে হোমোজিনেট তৈরী হয়। প্রোটিয়েজ (প্রোটিন), রাইবোনিউক্লিয়েজ (RNA), অ্যামাইলেজ (শর্করা), লাইপেজ (ফ্যাট) প্রভৃতি এনজাইম ব্যবহার করে হোমোজিনেট থেকে DNA-কে পৃথক করা হয়। পরে বিশুদ্ধ DNA-কে ঠান্ডা ইথানল দ্রবণে ডুবিয়ে সুতার মতো অধঃক্ষিপ্ত করা হয়। অধঃক্ষিপ্ত DNA থেকে কাক্সিক্ষত DNA নির্বাচন করা হয়।

রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি ।। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় উপকরণ

১। এনজাইম (Enzyme)ঃ রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত এনজাইম হলো- রেস্ট্রিকশন, লাইসোজাইম, পলিমারেজ, লাইগেজ, অ্যালকালাইন ফসফেট প্রভৃতি।
২। বাহক (Vector)ঃ রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বাহক হলো- প্লাজমিড, ফাজমিড, ভাইরাস, কসমিড, ট্রান্সপোজেন, কৃত্রিম ক্রোমোজোম প্রভৃতি।
৩। পোষক (Host)ঃ রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত পোষক হলো- E. coli, Yeast, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদকোষ, প্রাণী কোষ প্রভৃতি।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ।। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিভিন্ন কৌশল

১। জিন সংযুক্তি (Gene fusion)ঃ যে প্রক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক জিন সংযুক্ত করে একটি সংকর জিন সৃষ্টি করা হয় তাকে জিন সংযুক্তি বলে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জিনের সাথে অন্য জিন সংযুক্ত করে ক্যান্সার গবেষণা করা হয়।

২। প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন (Protoplast fusion)ঃ দুইটি কোষের প্রোটোপ্লাস্ট সংযুক্ত করে দু’টি জিনের মিশ্রণ ঘটানোকে প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন বলে। আলু ও টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের ফিউশনে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদের নাম দেওয়া হয়েছে পোমাটো।

৩। জিন অ্যামপ্লিফিকেশন (Gene amplification)ঃ যে প্রক্রিয়ায় কোনো জিনের একাধিক প্রতিলিপি তৈরী করা হয় তাকে জিন অ্যামপ্লিফিকেশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যামাইনো এসিড প্রভৃতি উৎপাদন করা হয়।

৪। হাইব্রিডোমা সৃষ্টি (Creation of hybridoma)ঃ যে প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতকারী B-লিম্ফোসাইট কোষের সাথে ক্যান্সার কোষের মিলন ঘটিয়ে সংকর কোষ সৃষ্টি করা হয় তাকে হাইব্রিডোমা বলে। ১৯৭৫ সালে Cesar Milstein ও Geoorges Kohler হাইব্রিডোমা সৃষ্টির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

৫। রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজিঃ বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলনীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে কাক্সিক্ষত DNA-কে প্লাজমিড DNA-এর সাথে সংযুক্ত করে যে নতুন বৈশিষ্ট সম্পন্ন নতুন DNA তৈরী করা হয় তাকে রিকম্বিন্যান্ট DNA বলে।

হাইব্রিডোমা সৃষ্টি কী ।। Creation of hybridoma

যে প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতকারী B-লিম্ফোসাইট কোষের সাথে ক্যান্সার কোষের মিলন ঘটিয়ে সংকর কোষ সৃষ্টি করা হয় তাকে হাইব্রিডোমা বলে। ১৯৭৫ সালে Cesar Milstein ও Geoorges Kohler হাইব্রিডোমা সৃষ্টির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

জিন অ্যামপ্লিফিকেশন কী ।। Gene amplification কী

যে প্রক্রিয়ায় কোনো জিনের একাধিক প্রতিলিপি তৈরী করা হয় তাকে জিন অ্যামপ্লিফিকেশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যামাইনো এসিড প্রভৃতি উৎপাদন করা হয়।

প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন কী ।। Protoplast fusion কী

দুইটি কোষের প্রোটোপ্লাস্ট সংযুক্ত করে দু’টি জিনের মিশ্রণ ঘটানোকে প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন বলে। আলু ও টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের ফিউশনে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদের নাম দেওয়া হয়েছে পোমাটো।

জিন সংযুক্তি কী ।। Gene fusion কী

যে প্রক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক জিন সংযুক্ত করে একটি সংকর জিন সৃষ্টি করা হয় তাকে জিন সংযুক্তি বলে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জিনের সাথে অন্য জিন সংযুক্ত করে ক্যান্সার গবেষণা করা হয়।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কী ।। Genetic engineering কী

নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-তে যে পরিবর্তন ঘটানো হয় তাকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলনীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে কাংক্ষিত DNA অণুকে প্লাজমিড DNA অণুর সাথে সংযুক্তকরণের মাধ্যমে যে নতুন বৈশিষ্ট সম্পন্ন নতুন DNA পাওয়া যায় তাকে রিকম্বিন্যান্ট DNA বলে। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে সৃষ্ট জীবকে GMO, GEO বা TO বলে। জ্যাক উইলিয়ামসন (Jack Williamson, ১৯৫১) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ড্রাগনস্ আইসল্যান্ড (Dragon’s Island) এ সর্বপ্রথম এবহবঃরপ Genetic engineering শব্দটি ব্যবহার করেন। পাল বার্গ (Paul Berg, ১৯৭২) সর্বপ্রথম রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী করেন। এজন্য তাকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জনক বলা হয়। ১৯৭৪ সালে বিশে^র প্রথম ট্রান্সজেনিক প্রাণী GM ইঁদুর সৃষ্টি করা হয়। J. Craig Venter Institute (২০১০) এর বিজ্ঞানীরা সিনথিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন যা বিশ্বের প্রথম সিনথেটিক জীব হিসেবে গণ্য। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, আমরা চাই বা না চাই জিন প্রকৌশলই হবে একুশ শতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞান।

বাংলাদেশের পেক্ষাপটে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি

বাংলাদেশে আশির দশকে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে টিস্যু কালচার শুরু হয়। পরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রসার লাভ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু কালচার
১। বিভিন্ন প্রকার দেশি-বিদেশি অর্কিডের চারা উৎপাদন।
২। রোগ প্রতিরোধক্ষম কলার চারা উৎপাদন।
৩। চন্দ্রমল্লিকা,গ্ল্যাডিওলাস, লিলি, কার্নেশন প্রভৃতি ফুলের চারা উৎপাদন।
৪। কদম, জারুল, ইপিল ইপিল, বক ফুল, সেগুন, নিম প্রভৃতির চারা উৎপাদন।
৫। ডাল জাতীয় ফসলের টিস্যু কালচার করা হয়েছে।
৬। পাটের ভ্রুণ কালচার ও চারা উৎপাদন।
৭। গোল আলুর রোগমুক্ত চারা উৎপাদন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু কালচার
১। বেলের চারা উৎপাদন।
২। স্ট্রেবেরীর চারা উৎপাদন।
৩। আকাশমনি, ইপিল ইপিল, মেহগনি, কেশরদম ও কাঁঠালের চারা উৎপাদন।
৪। তরমুজের চারা উৎপাদন।
৫। মুগ কলাই ও মাষ কলাই ফসলের টিস্যু কালচার করা হয়েছে।
৬। গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, লালপাতা, অর্কিড প্রভৃতির চারা উৎপাদন।
৭। গোল আলুর রোগমুক্ত চারা উৎপাদন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু কালচার
১। গোল মরিচের চারা উৎপাদন।
২। কাঁঠালের চারা উৎপাদন।
৩। ইপিল ইপিল ও কেশরদমের চারা উৎপাদন।
৪। গোলাপ, লালপাতা, গ্ল্যাডিওলাস, অর্কিড প্রভৃতির চারা উৎপাদন।
৫। ডাল জাতীয় ফসলের টিস্যু কালচার করা হয়েছে।
৬। গোল আলুর চারা উৎপাদন।
৭। মেহগনি ও কেলিকদমের চারা উৎপাদন।
৮। শীতপ্রধান দেশের স্ট্রবেরীর চারা উৎপাদন।
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু কালচার
১। দেশি-বিদেশি অর্কিডের চারা উৎপাদন।
২। কাঁঠালের চারা উৎপাদন।
৩। চন্দ্রমল্লিকা, গ্ল্যাডিওলাস, লিলি প্রভৃতি ফুলের চারা উৎপাদন।
৪। ইপিল ইপিল, বক ফুল, নিম প্রভৃতির চারা উৎপাদন।
৫। মুগ ও মাষকলাই এর রোগ প্রতিরোধী জাত উৎপাদন।