ভ্রুণ উদ্ধার কী ।। Embry rescue কী

আন্তঃগণ ও আন্তঃপ্রজাতি উদ্ভিদের ক্রসের ফলে নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে গর্ভপাত হওয়ার পূর্বে ভ্রুণ বের করে নিয়ে শক্তিশালী হাইব্রিড চারা উৎপাদন করাকে ভ্রুণ উদ্ধার বা embryo recure বলে। দুইটি ভিন্ন প্রজাতির সংকরায়নে অপত্য উদ্ভিদ বন্ধ্যা হয়। বন্ধ্যা উদ্ভিদে ভ্রুণ সৃষ্টি হলে তা মারা যায়। তাই এরুপ সংকর উদ্ভিদ থেকে ভ্রুণ উদ্ধার করে কালচারের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা যায়। যেমন-
পাট- Corchorus olitorius×C. capsularis
টমেটো- Lycopersicon×L. lycopersicum
গম- Triticum aestivum ×যব- Hordeum vulgare
ধান- avb- Oryza sativa×O. officinalis
শিম- Phaseolus vulgaris×P. angustissimus

সোমাক্লোনাল ভেরিয়েশন কী ।। Somaclonal variation কী

কোন আবাদি কোষ বা টিস্যু থেকে উৎপন্ন প্রকরণ বা জাতকে সোমাক্লোনাল ভেরিয়েশন বা সোমাক্লোনাল প্রকরণ বলে। আবাদি গ্যামিট থেকে উৎপন্ন ক্লোনীয় প্রকরণকে গ্যামিটোক্লোনাল ভ্যারিয়েশন বলে। টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি করে উৎকৃষ্ট ও ভালো জাতের ক্লোন বাছাই করা হয়। এরপর ক্লোন থেকে অসংখ্য নতুন জাতের চারা সৃষ্টি করা হয়। সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদের চারা, রোগ প্রতিরোধী জাত, পেস্টিসাইড প্রতিরোধী উদ্ভিদ, খরা প্রতিরোধী উদ্ভিদ এবং আগাছা নাশক প্রতিরোধী উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেমিক্লোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে উৎপন্ন উন্নত জাতে গম হলো AdhI।

পরাগধানী কালচার কী ।। Anther culture কী

টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে পুংকেশরের পরাগধানী থেকে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পরাগধানী কালচার বা Anther কালচার বলে। এই পদ্ধতিতে অ্যান্ড্রোজেনিক হ্যাপ্লয়েড চারা এবং হোমোজাইগাস ব্রিডিং লাইন সৃষ্টি করা হয়। যেমন- গুয়ান ধান-১৮ এবং জিনঘুয়া গম-১।

ইন-ভিট্রো সিলেকশন কী ।। In-vitro selection কী

আবাদ অবস্থায় কোন উদ্ভিদে সুনির্দিষ্ট পীড়ন বা চাপ প্রয়োগ করে পীড়ন সহনশীল জাতের উদ্ভিদ সৃষ্টি করাকে ইন-ভিট্রো সিলেকশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট পীড়ন সহনশীল বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ বা কোষ নির্বাচন করে সংখ্যাবৃদ্ধি করা হয়। এই পদ্ধতিতে ভাইরাস প্রতিরোধী গোলআলু, ধান, গম, কলা প্রভৃতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

সোমাটিক হাইব্রিডাইজেশন কী ।। Somatic hybridization

একই প্রজাতি কিংবা ভিন্ন প্রজাতির দুটি উদ্ভিদ কোষের প্রোটোপ্লাস্টের মিলনে হাইব্রিড উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে সোমাটিক হাইব্রিডাইজেশন বা সোমাটিক ফিউশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট কোষকে সাইব্রিড (cybrid) বলে। সাইব্রিড সৃষ্টিকারী কোষ দু’টিকে হেটারোক্যারিওন বলে। সাইব্রিডে উন্নত বৈশিষ্ট্যের ভিন্নধর্মী মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের সংমিশ্রণ ঘটে। আলু, টমেটো, পিটুনিয়া, লেবু, তামাক প্রভৃতি উদ্ভিদে সাইব্রিড সৃষ্টি করা হয়েছে। আলু ও টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের মিলনে পোমাটো সৃষ্টি করা হয়েছে। সাইব্রিড থেকে অসংখ্য চারা উৎপাদন করা হয়। ১৯৭২ সালে কার্লসন সোমাটিক হাইব্রিডাইজেশন পদ্ধতি সূচনা করেন।

এমব্রায়ো কালচার কী ।। Embryo culture কী

টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ায় পরিপক্ক অথবা অপরিপক্ক বন্ধ্যাভ্রুণ থেকে চারা উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে এমব্রায়ো কালচার বলে। বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গন কিংবা প্রজননশীল উদ্ভিদ উৎপাদনের জন্য এমব্রায়ো কালচার করা হয়। এ পদ্ধতিতে পেঁপে, বেগুন ও বেলের চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

এমব্রায়োজেনেসিস ।। সোমাটিক এমব্রায়োজেনেসিস কী ।। Somatic embryogenesis কী

যে টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দেহকোষ থেকে ভ্রুণ এবং চারা সৃষ্টি করা হয় তাকে সোমাটিক এমব্রায়োজেনেসিস বলে। ১৯৫৮ সালে আমেরিকার উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এফ. সি স্টিওয়ার্ড ও তাঁর সহযোগীরা সোমাটিক এমব্রায়োজেনেসিস পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং এ পদ্ধতিতে গাজরের চারা উৎপাদন করেন।

মাইক্রোপ্রোপাগেশন কী ।। Micropropagation কী

মাতৃ গুণাবলী অক্ষুন্ন রেখে অল্প সময়ে অধিক চারা উৎপাদন হলো মাইক্রোপ্রোপাগেশন। যে সব উদ্ভিদে বীজ উৎপন্ন হয় না অথবা অঙ্গজ জনন ঘটে না তাদের মাইক্রোপ্রোপাগেশন করা হয়। মাইক্রোপ্রোপাগেশনের মাধ্যমে ফুলগাছ- Lilium, Tulipa, Anthurium; সবজি ও মশলা- Allium, Apium, Brassica; ফল ও নাট- Aegle, Ananus, Carica; বনবৃক্ষ- Albizzia, Dalbergia, Pinus প্রভৃতি সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৯৫৮ সালে এফ. সি. স্টিওয়ার্ড মাইক্রোপ্রোপাগেশন আবিষ্কার করেন।

নিরোগ চারা উৎপাদন ।। নিরোগ চারা উৎপাদনে টিস্যু কালচারের ভূমিকা ।। Cure plant production

উদ্ভিদের শীর্ষমুকুলের অগ্রভাগের টিস্যুকে মেরিস্টেম বলে। মেরিস্টেম সব সময় জীবাণু মুক্ত থাকে। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে মেরিস্টেম কালচার করে জীবাণু মুক্ত নতুন চারা সৃষ্টি করা হয়। এসব জীবাণু মুক্ত চারা রোগাক্রান্ত হয় না। উদ্ভিদে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং পরিবেশ দূষণ রোধ হয়। ১৯৫২ সালে মোরেল ও মার্টিন সর্বপ্রথম ডালিয়া উদ্ভিদের মেরিস্টেম কালচার করে জীবাণু মুক্ত চারা উৎপন্ন করেন। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে আনারস ও টমেটোর চারা উৎপন্ন করা হয়েছে।

বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ রক্ষা ।। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদকে রক্ষায় টিস্যু কালচারের ভূমিকা ।। Conservation of endangered plant

যে সব উদ্ভিদ বিলুপ্তপ্রায় তাদেরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যায়। এসব উদ্ভিদের যেকোন অংশ থেকে নতুন চারা সৃষ্টি করে পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে পৃথিবী থেকে এসব উদ্ভিদ হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই। যেমন- সাইলোটাম।