মধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত প্রদাহকে ওটিটিস মিডিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বলে। কানের পর্দা এবং ইউস্টেশিয়ান নালিতে ওটিটিস মিডিয়া হয়। এ রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়।
ওটিটিস মিডিয়ার প্রকারভেদ (Type of Otitis Media)
শিশুদের তিন ধরনের ওটিটিস মিডিয়া হয়।
১। স্বল্পস্থায়ী বা অ্যাকিউট ওটিটিস মিডিয়াঃ এই রোগ ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে নিরাময় হয়।
২। দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক ওটিটিস মিডিয়াঃ এই রোগ নিরাময়ে দীর্ঘ সময় লাগে।
৩। অ্যাডহেসিভ ওটিটিস মিডিয়াঃ এই রোগে কানের পর্দা কর্ণাস্থির সাথে আটকে যায় এবং রোগী বধির হয়ে যায়।
ওটিটিস মিডিয়া কাদের বেশি হয়
১। চার থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের।
২। যে সব শিশুকে নিচু স্থানে শুইয়ে বোতলের দুধ খাওয়ানো হয়।
৩। যে সব স্থানে একসাথে অনেক শিশু বেড়ে ওঠে সেসব শিশুদের।
৪। পরিবারে কারো কানে সংক্রমণ হলে শিশুদের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫। ধুমপান ও বায়ু দুষণপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী শিশুরা।
ওটিটিস মিডিয়ার কারণ (Causes of Otitis Media)
১। Respiratory Syncytial Virus (RSV) নামক ভাইরাসের কারণে ওটিটিস মিডিয়া রোগ হয়।
২। Streptococcus pneumoniae, Haemophilus influenzae, Morarella catarrhalis প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়ার কারণে ওটিটিস মিডিয়া রোগ হয়।
৩। মধ্যকর্ণের ইউস্টেশিয়ান নালি ফুলে গেলে।
৪। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, ঠান্ডা লাগলে এবং কানে সংক্রমণ হলে।
৫। অ্যাডেনয়েড ফুলে গেলে এই রোগ হতে পারে।
ওটিটিস মিডিয়ার লক্ষণ (Symptoms of Otitis Media)
শিশুদের লক্ষণ
১। শিশুদের কানে ব্যথা হয়।
২। কান টানাটানি করে।
৩। মধ্যকর্ণে তরল পদার্থ জমে।
৪। অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে।
৫। ঘুম হয় না।
৬। বিরক্ত হয়।
৭। শরীরে জ্বর থাকে।
৮। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সে. বা ১০৪ ডিগ্রী ফাঃ হয়।
৯। নাক দিয়ে পানি ঝরে।
১০। কান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ বের হয়।
১১। মাথা ব্যথা হয়।
বয়স্কদের লক্ষণ
১। বয়স্কদের কানে ব্যথা হয়।
২। কানে চাপ অনুভ‚ত হয়।
৩। কানের পর্দা ফুটো হয়ে যায়।
৪। কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হয়।
৫। ইউস্টেশিয়ান নালির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
৬। মধ্যকর্ণে তরল পদার্থ জমে।
৭। কান বন্ধ হয়ে যায়।
৮। কানে কম শোনে।
৯। নাক দিয়ে পানি ঝরে।
১০। কাশি হয়।
১১। শরীরে জ্বর থাকে।
১২। তাপমাত্রা ৩৮০ সে. বা ১০৪০ ফাঃ হয়।
১৩। মাথা ঝিম ঝিম করে।
১৪। প্রচন্ড মাথা ব্যথা হয়।
১৫। খাবারে অরুচি হয়।
ওটিটিস মিডিয়ার জটিলতা (Complecations of Otitis Media)
১। কর্ণপটহ বা টিমপেনিক পর্দা ছিদ্র হয়ে যায়।
২। মধ্যকর্ণ থেকে তরল পদার্থ বের হয়।
৩। কান বন্ধ হয়ে যায় এবং কানে কম শোনে।
৪। শিশুরা বিলম্বে কথা বলতে শিখে।
৫। শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে বধির হয়ে যেতে পারে।
ওটিটিস মিডিয়ার চিকিৎসা (Treatment of Otitis Media)
১। সংক্রমিত কানে নরম ও উঞ্চ কাপড় দিয়ে চাপ দিলে ব্যথা উপশম হয়।
২। ব্যথা বেশি হলে শিশুকে হালকা কাজ করালে আরামবোধ হয়। যেমন- জোড়ে বই পড়া, ব্যায়াম করা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি।
৩। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন, ড্রপ ব্যবহার, অ্যান্টিহিস্টাসিন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রভৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪। টিমপেনোস্টোমি টিউব ব্যবহার করে ৬ মাসের মধ্যে পুঁজ বের হওয়া বন্ধ করা যায়।
ওটিটিস মিডিয়ার প্রতিকার (Prevention of Otitis Media)
১। শিশুদের প্রি-ইমিউনোকক্কাল ভ্যাক্সিন দিতে হবে।
২। শিশুদের ১২ মাস মায়ের দুধ পান করাতে হবে।
৩। বোতলে দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুকে উচু করে ধরে খাওয়াতে হবে।
৪। নাকে যাতে পানি প্রবেশ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৫। বায়ু দুষণ থেকে দূরে থাকতে হবে।
৬। ধুমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুদের ধুমপান মুক্ত এলাকায় রাখতে হবে।