স্থায়িত্বের ভিত্তিতে সাইনুসাইটিসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। অ্যাকিউট সাইনুসাইটিসঃ রোগের প্রদাহের স্থায়িত্ব ৪-৮ সপ্তাহ হলে তাকে অ্যাকিউট সাইনুসাইটিস বলে।
২। ক্রনিক সাইনুসাইটিসঃ রোগের প্রদাহের স্থায়িত্ব ৩ মাসের অধিককাল হলে তাকে ক্রনিক সাইনুসাইটিস বলে।
মুখমন্ডলের সাইনাস গুলো কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। ম্যাক্সিলারী সাইনাসঃ ম্যাক্সিলারী অঞ্চলে গালে একজোড়া ম্যাক্সিলারী সাইনাস অবস্থিত। এর প্রদাহের কারণে গালে, দাঁতে ও মাথায় ব্যথা হয়।
২। এথময়েড সাইনাসঃ দুই চোখের মাঝখানে একজোড়া এথময়েড সাইনাস অবস্থিত। এর প্রদাহে চোখের সামনে, পিছনে এবং মাথায় ব্যথা হয়।
৩। স্ফেনয়েড সাইনাসঃ দুই চোখের পিছনে একজোড়া স্ফেনয়েড সাইনাস অবস্থিত। এর প্রদাহে চোখের পিছনে এবং মাথার চ‚ড়ায় ব্যথা হয়।
৪। ফ্রন্টাল সাইনাসঃ চোখের উপরে একজোড়া ফ্রন্টাল সাইনাস অবস্থিত। এর প্রদাহে চোখের উপরে এবং মাথার চ‚ড়ায় ব্যথা হয়।
সাইনুসাইটিস কী । Sinusitis কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমণে অথবা এলার্জিজনিত কারণে সাইনাসের মিউকাস পর্দায় যে প্রদাহ সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে উর্ধ্ব শ্বাসনালি অর্থাৎ নাক, কান ও গলার সাইনাসের সংক্রমণকে সাইনুসাইটিস বলা হয়। পেরিফারেল নার্ভ স্টিমুলেশন (PNS) X-ray দ্বারা সাইনুসাইটিস নির্ণয় করা হয়।
শ্বাসনালির রোগগুলো কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গলা, সাইনাস, শ্বাসনালি ও ফুসফুসের যেকোন ধরণের সংক্রমণকে শ্বসননালির সংক্রমণ (Respiratory Tract Infection-RTI) বলে। ঠান্ডা লাগা সবচেয়ে বড় RTI সমস্যা। চিকিৎসকগণ RTI-কে দু’ভাবে চিহ্নিত করেছেন।
১। উর্ধ্ব শ্বসননালির সংক্রমণঃ নাক, কান, গলা ও সাইনাস আক্রান্ত হওয়া হলো উর্ধ্ব শ্বসননালির সংক্রমণ। এর মধ্যে টনসিলাইটিস (টনসিলের সংক্রমণ), সাইনুসাইটিস (সাইনাসের সংক্রমণ), ল্যারিনজাইটিস (স্বরযন্ত্রের সংক্রমণ), ওটিটিস মিডিয়া (কানের সংক্রমণ) প্রভৃতি প্রধান।
২। নিম্ন শ্বসননালির সংক্রমণঃ শ্বাসনালি ও ফুসফুস আক্রান্ত হওয়া হলো নিম্ন শ্বসননালির সংক্রমণ। এর মধ্যে ফ্লু (শ্বাসনালির সংক্রমণ), ব্রঙ্কাইটিস (শ্বাসনালির সংক্রমণ), নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), যক্ষা বা টিউবারকুলোসিস (ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ) প্রভৃতি প্রধান।
মায়োগ্লোবিন কী । Myoglobin কী। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মায়োগ্লোবিন হলো লৌহঘটিত শ্বাসরঞ্জক। ইহা দেখতে হিমোগ্লোবিনের মতো। হিমোগ্লোবিন ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হলেও মায়োগ্লোবিন মাত্র ১টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। ইহা অস্থিপেশি পাওয়া যায়। যে সব পেশি অনবরত কাজ করে সেখানে মায়োগ্লোবিন সবচেয়ে বেশি থাকে।
হিমোগ্লোবিন কী । হিমোগ্লোবিনের গঠন ও গুরুত্ব আলোচনা । Haemoglobin । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান লাল বর্ণের প্রোটিনধর্মী শ্বাসরঞ্জক যা অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে তাকে হিমোগ্লোবিন বলে।
হিমোগ্লোবিনের গঠন
হিমোগ্লোবিন একটি গোলাকার অণু। ইহা হিম নামক লৌহ এবং গ্লোবিন নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ১০০ সিসি রক্তে পুরুষে ১৫.৮ গ্রাম এবং স্ত্রীর ১৩.৭ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। হিমোগ্লোবিনে হিম ও গ্লোবিনের অনুপাত ১ ঃ ২৫। হিমের ৩৩.৩৩% হলো লৌহ। পূর্ণবয়স্ক মানুষের রক্তে মাত্র ৪-৫ গ্রাম লৌহ থাকে। এর রাসায়নিক সংকেত (C712H1130O245N214S2Fe)4 এবং আনবিক ওজন ৬৪,৪৫০ ডাল্টন। হিম হলো ফেরাস আয়রন এবং গ্লোবিন হলো পলিপেপটাইড প্রোটিন। প্রতিটি হিমোগ্লোবিনে ৪টি হিম এবং ৪টি গ্লোবিন প্রোটিন থাকে। তাই একে Hb4 লেখা হয়।
হিমোগ্লোবিনের কাজ/গুরুত্ব
১। অক্সিজেন পরিবহনঃ লোহিত রক্তকণিকার হিমোগেøাবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে। দেহ কোষে অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে যায় এবং অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মুক্ত হয়ে যায়। ফলে দেহকোষ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়।
Hb4 + 4O2 → 4Hbo2 (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে বিক্রিয়া করে Hb4o8 গঠন করে।
Hb4 + O2 → Hb4o2
Hb4o2 + O2 → Hb4o4
Hb4o4 + O2 → Hb4o6
Hb4o6 + O2 → Hb4o8
এই বিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রæতগতিতে ঘটে এবং ০.০১ সেকেন্ডের কম সময় লাগে। তাপমাত্রা, pH এবং লোহিত রক্তকণিকার ডাইফসফোগিøসারেট এই বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
২। কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনঃ দেহকোষে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিন বিক্রিয়া করে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ দেহ কোষ হতে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে আসে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে যৌগটি ভেঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিনে পরিনত। পরে কার্বন ডাই অক্সইড দেহের বাইরে নির্গত হয়।
CO2 + HbNH2 → HbNHCOOH (কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন)
মানব দেহে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনে একমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করে হিমোগেøাবিন। অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকা ব্যতীত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহণ সম্ভব না।
হিমোগ্লোবিনের কাজ । হিমোগ্লোবিনের গুরুত্ব । Haemoglobin । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। অক্সিজেন পরিবহনঃ লোহিত রক্তকণিকার হিমোগেøাবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে। দেহ কোষে অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে যায় এবং অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মুক্ত হয়ে যায়। ফলে দেহকোষ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়।
Hb4 + 4O2 → 4Hbo2 (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে বিক্রিয়া করে Hb4o8 গঠন করে।
Hb4 + O2 → Hb4o2
Hb4o2 + O2 → Hb4o4
Hb4o4 + O2 → Hb4o6
Hb4o6 + O2 → Hb4o8
এই বিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রæতগতিতে ঘটে এবং ০.০১ সেকেন্ডের কম সময় লাগে। তাপমাত্রা, pH এবং লোহিত রক্তকণিকার ডাইফসফোগিøসারেট এই বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
২। কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনঃ দেহকোষে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিন বিক্রিয়া করে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ দেহ কোষ হতে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে আসে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে যৌগটি ভেঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিনে পরিনত। পরে কার্বন ডাই অক্সইড দেহের বাইরে নির্গত হয়।
CO2 + HbNH2 → HbNHCOOH (কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন)
মানব দেহে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনে একমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করে হিমোগেøাবিন। অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকা ব্যতীত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহণ সম্ভব না।
কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনে হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
দেহকোষে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিন বিক্রিয়া করে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ দেহ কোষ হতে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে আসে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে যৌগটি ভেঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিনে পরিনত। পরে কার্বন ডাই অক্সইড দেহের বাইরে নির্গত হয়।
CO2 + HbNH2 → HbNHCOOH (কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন)
মানব দেহে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনে একমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করে হিমোগেøাবিন। অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকা ব্যতীত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহণ সম্ভব না।
অক্সিজেন পরিবহনে হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগেøাবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে। দেহ কোষে অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে যায় এবং অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মুক্ত হয়ে যায়। ফলে দেহকোষ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়।
Hb4 + 4O2 → 4Hbo2 (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে বিক্রিয়া করে Hb4o8 গঠন করে।
Hb4 + O2 → Hb4o2
Hb4o2 + O2 → Hb4o4
Hb4o4 + O2 → Hb4o6
Hb4o6 + O2 → Hb4o8
এই বিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রæতগতিতে ঘটে এবং ০.০১ সেকেন্ডের কম সময় লাগে। তাপমাত্রা, pH এবং লোহিত রক্তকণিকার ডাইফসফোগিøসারেট এই বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
হিমোগ্লোবিনের গঠন আলোচনা । Haemoglobin । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
হিমোগ্লোবিন একটি গোলাকার অণু। ইহা হিম নামক লৌহ এবং গ্লোবিন নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ১০০ সিসি রক্তে পুরুষে ১৫.৮ গ্রাম এবং স্ত্রীর ১৩.৭ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। হিমোগ্লোবিনে হিম ও গ্লোবিনের অনুপাত ১ ঃ ২৫। হিমের ৩৩.৩৩% হলো লৌহ। পূর্ণবয়স্ক মানুষের রক্তে মাত্র ৪-৫ গ্রাম লৌহ থাকে। এর রাসায়নিক সংকেত (C712H1130O245N214S2Fe)4 এবং আনবিক ওজন ৬৪,৪৫০ ডাল্টন। হিম হলো ফেরাস আয়রন এবং গ্লোবিন হলো পলিপেপটাইড প্রোটিন। প্রতিটি হিমোগ্লোবিনে ৪টি হিম এবং ৪টি গ্লোবিন প্রোটিন থাকে। তাই একে Hb4 লেখা হয়।